| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘নিচের চিত্রটি লক্ষ…’ সিলেট এমসি কলেজ ২০২৬ – বর্জ্য ও নিষ্কাশন, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

নিচের চিত্রটি লক্ষ করো:
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৬
প্লুরা হলো ফুসফুসের বাইরের দিকে অবস্থিত একটি পাতলা দ্বিস্তরবিশিষ্ট সেরাস মেমব্রেন বা পর্দা, যা থলের মতো ফুসফুসকে আবৃত করে রাখে।
ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাকের সংক্রমণে বা এলার্জিজনিত কারণে সাইনাসের মিউকাস পর্দায় যে প্রদাহের সৃষ্টি হয়, তাকেই সাইনুসাইটিস বলে। সাইনুসাইটিস রোগীকে শনাক্তকরণের লক্ষণগুলো হলো-
১. নাক থেকে হলদে বা সবুজ বর্ণের ঘন তরল বের হয়, এতে পুঁজ বা রক্ত থাকতে পারে।
২. মাথা নাড়াচাড়া করলে, হাঁটলে বা মাথা নিচু করলে ব্যথার তীব্রতা আরো বেড়ে যায়।
৩. নাক বন্ধ থাকে, নিঃশ্বাসের সময় নাক দিয়ে বাজে গন্ধ বের হয়।
৪. মুখমণ্ডল অনুভূতিহীন মনে হয়।
উদ্দীপকের চিত্রটি হলো নেফ্রনের অগ্রভাগ; যা ম্যালপিজিয়ান বডি বা রেনাল করপাসল নামে পরিচিত। এটি দুটি প্রধান অংশ নিয়ে গঠিত-
i. বোম্যান্স ক্যাপসুল: রেনাল করপাসলে গ্লোমেরুলার কৈশিক জালিকাগুচ্ছকে ঘিরে অবস্থিত ০.২ মিলিমিটার ব্যাসের ও আঁইশাকার এপিথেলিয়ামে গঠিত দ্বিস্তরী পেয়ালার মতো প্রসারিত অংশকে বোম্যান্স ক্যাপসুল বলে। এর গ্লোমেরুলাস সংলগ্ন স্তরকে ভিসেরাল স্তর, বহিঃপ্রাচীরকে প্যারাইটাল স্তর এবং দুই স্তরের মাঝখানে সংকীর্ণ গহ্বরকে ক্যাপসুলার স্পেস বলে। ভিসেরাল স্তরটি পোডোসাইট নামক বিশেষ ধরনের প্রবর্ধনযুক্ত কোষে এবং প্যারাইটাল স্তর স্বাভাবিক আঁইশাকার এপিথেলিয়াল কোষে নির্মিত।
ii. গ্লোমেরুলাস: বোম্যান্স ক্যাপসুলের অভ্যন্তরে ঘনিষ্ঠভাবে গ্লোমেরুলাস অবস্থান করে। রেনাল ধমনী থেকে সৃষ্ট একটি ক্ষুদ্র অন্তর্বাহী ধমনিকা বা অ্যাফারেন্ট আর্টারিওল বোম্যান্স ক্যাপসুলে প্রবেশ করে এবং ৫০- ৬০টি কৈশিক জালিকায় বিভক্ত হয়ে গ্লোমেরুলাস গঠন করে। কৈশিক জালিকাগুলো পুনরায় মিলিত হয়ে বহির্গামী ধমনিকা বা ইফারেন্ট আর্টারিওল রূপে বোম্যান্স ক্যাপসুল থেকে বেরিয়ে আসে। ইফারেন্ট আর্টারিওলের ব্যাস অ্যাফারেন্ট আর্টারিওলের চেয়ে কম হওয়ার কারণে গ্লোমেরুলাসে সর্বদা উচ্চ রক্তচাপ বজায় থাকে।
উদ্দীপকের চিত্রটি রেচন তন্ত্রের অংশ। মানবদেহে এই পূর্ণাঙ্গ তন্ত্রটি (বৃক্ক, ইউরেটার, মূত্রথলি ও মূত্রনালি নিয়ে গঠিত) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিচে তা বর্ণনা করা হলো-
১. বর্জ্য নিষ্কাশন: বিপাকীয় প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন ক্ষতিকর নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য পদার্থ (যেমন- ইউরিয়া, ইউরিক অ্যাসিড, ক্রিয়েটিনিন) দেহ থেকে বের করে দেয়। এগুলো রক্তে জমে থাকলে শরীরে বিষক্রিয়া হতে পারে।
২. পানির ভারসাম্য রক্ষা: দেহে পানির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে। রক্তে পানির পরিমাণ বেড়ে গেলে এই তন্ত্র বেশি মূত্র ত্যাগ করায় এবং পানি কম থাকলে পানি সংরক্ষণ করে রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখে।
৩. লবণের ভারসাম্য: রক্তে সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়ামসহ বিভিন্ন আয়নের পরিমাণ ঠিক রাখে।
৪. pH নিয়ন্ত্রণ: রক্তে অম্ল ও ক্ষারের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
৫. হরমোন নিঃসরণ: বৃক্ক থেকে এরিথ্রোপয়েটিন নামক হরমোন নিঃসৃত হয় যা লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে সাহায্য করে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
৬. রেচন তন্ত্র: রেচন তন্ত্র দেহের অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য বা হোমিওস্ট্যাসিস বজায় রাখতে অপরিহার্য। 'এই তন্ত্র অকেজো হয়ে পড়লে দেহের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয় এবং মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে।