| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘নিচের চিত্রটি লক্ষ…’ সিলেট এমসি কলেজ ২০২৬ – মানবদেহের প্রতিরক্ষা, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

নিচের চিত্রটি লক্ষ করো:
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ১০
শুক্রাণু নিউক্লিয়াস ও ডিম্বাণু নিউক্লিয়াসের একীভবনের মাধ্যমে ডিপ্লয়েড জাইগোট সৃষ্টির প্রক্রিয়াই নিষেক।
অমরা বা প্ল্যাসেন্টা হলো একটি বিশেষ অস্থায়ী অঙ্গ যা গর্ভাবস্থায় জরায়ুর দেয়ালে তৈরি হয় এবং আম্বিলিক্যাল কর্ড বা নাড়ির মাধ্যমে ভূণের সাথে যুক্ত থাকে। এটি মা ও ভ্রূণের মধ্যে সংযোগকারী হিসেবে কাজ করে। তাই অমরাকে জৈবসেতুও বলা হয়।
উদ্দীপকে উল্লেখিত চিত্র- হলো অ্যান্টিবডি। নিচে অ্যান্টিবডির গঠন চিত্রসহ বর্ণনা করা হলো-
১. ভারী ও হালকা শৃঙ্খল: প্রত্যেক অ্যান্টিবডিতে দু'জোড়া পলিপেপটাইড শৃঙ্খল থাকে। এর মধ্যে সদৃশ একজোড়া লম্বা ও ভারী শৃঙ্খল এবং অন্য জোড়া সদৃশ হালকা শৃঙ্খল।
২. ডাইসালফাইড বন্ড: প্রত্যেক অ্যান্টিবডিতে অন্তত ৩টি আন্তঃশৃঙ্খল ডাইসালফাইড বন্ড রয়েছে।
৩. স্থায়ীও পরিবর্তনশীল অঞ্চল: প্রত্যেক অ্যান্টিবডি দুই অঞ্চলবিশিষ্ট গঠনে নির্মিত। একটি হচ্ছে স্থায়ী অঞ্চল এবং অন্যটি পরিবর্তনশীল অঞ্চল।
৪. কব্জা অঞ্চল: অ্যান্টিবডি অণুর বাহু দুটি যে সংযোগ স্থল থেকে দু'ভাগ হয়ে যায় তা কব্জা অঞ্চল। অংশটি অ্যান্টিবডিকে কিছুটা নমনীয়তা দান করে। বাহু দুটির দু'প্রান্তে অবস্থিত একটি করে মোট দুটি প্যারাটপে দুটি অ্যান্টিজেনকে আটক করা যায়।
প্রশ্নে উল্লেখিত উক্তিটির প্রক্রিয়া হলো ফ্যাগোসাইটোসিস। নিচে প্রক্রিয়াটি বর্ণনা করা হলো-
ফ্যাগোসাইটোসিস আমাদের দেহের শ্বেত রক্তকণিকা (যেমন : নিউট্রোফিল ও মনোসাইট) দ্বারা সম্পাদিত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ায় দেহ যখন কোনো ক্ষতিকর অণুজীব বা বহিরাগত কণা দ্বারা আক্রান্ত হয়, তখন ফ্যাগোসাইট কোষগুলো রক্তের রাসায়নিক সংকেত অনুসরণ করে দ্রুত সেই স্থানে পৌঁছে যায়। প্রথমেই কোষগুলো তাদের নমনীয় কোষঝিল্লি প্রসারিত করে আঙ্গুলের মতো এক ধরণের ক্ষণপদ তৈরি করে জীবাণুটিকে চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলে। এরপর ক্ষণপদগুলো একীভূত হয়ে জীবাণুটিকে একটি থলির মতো আবরণের ভেতর বন্দি করে ফেলে, যাকে ফ্যাগোসোম বলা হয়।
ফ্যাগোসোমটি কোষের অভ্যন্তরে প্রবেশের পর সেখানে থাকা লাইসোজোম নামক এনজাইমপূর্ণ অঙ্গাণুটির সাথে মিলিত হয়ে 'ফ্যাগোলাইসোজোম' গঠন করে। এই অবস্থায় লাইসোজোম থেকে অত্যন্ত শক্তিশালী ও ধ্বংসাত্মক এনজাইম ক্ষরিত হয়, যা বন্দি থাকা অণুজীব বা মৃত টিস্যুর কোষকে দ্রুত গলিয়ে ফেলে বা পরিপাক করে বিনাশ করে। পরিশেষে, জীবাণুর এই ধ্বংসাবশেষ বা বর্জ্য অংশগুলো কোষঝিল্লির মাধ্যমে শরীরের বাইরে বের হয়ে যায়। এভাবেই ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় শ্বেত রক্তকণিকাগুলো আমাদের দেহকে প্রতিনিয়ত অদৃশ্য শত্রুর হাত থেকে রক্ষা করে এবং শরীরকে সম্পূর্ণ সুস্থ রাখতে প্রধান ভূমিকা পালন করে।