| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘নিচের চিত্রটি লক্ষ…’ সিলেট এমসি কলেজ ২০২৬ – প্রাণীর আচরণ, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

নিচের চিত্রটি লক্ষ করো:
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ১২
যে সংবহনে রক্ত হৃৎপিণ্ডের ডান ভেন্ট্রিকল থেকে ফুসফুসে পৌছায় এবং ফুসফুস থেকে বাম অ্যাট্রিয়ামে ফিরে আসে তাই পালমোনারি সংবহন।
যেসব জিন বা অ্যালিলের কারণে জীবের মৃত্যু ঘটে সেগুলোকে মারণ জিন বা লিথাল জিন বলে। এর প্রভাবে মেন্ডেলের মনোহাইব্রিড ব্রুসের জনুর ফিনোটাইপ অনুপাত ৩: ১ এর পরিবর্তে ১:২:১ হয়। ফরাসী বিজ্ঞানী কুনো সর্বপ্রথম ইঁদুরের গায়ের রঙের ক্ষেত্রে লিথাল জিনের উপস্থিতি লক্ষ করেন।
উদ্দীপকের চিত্রে পাখির 'অপত্য যত্ন' নামক একটি সহজাত আচরণ প্রকাশিত হয়েছে। প্রাণীটির এই বিশেষ আচরণ নিচে ব্যাখ্যা করা হলো-
ডিম ও অপত্য শিশুকে প্রতিকূল পরিবেশ ও শত্রুর হাত থেকে রক্ষার জন্য পিতা-মাতা কর্তৃক অবলম্বনকৃত রক্ষণাবেক্ষণ ও লালন-পালন করার পদ্ধতিকে অপত্য যত্ন বলে। পাখিরা বংশ রক্ষার তাগিদে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে এই আচরণ প্রদর্শন করে। প্রজনন ঋতুতে (মে - অক্টোবর) স্ত্রী ও পুরুষ পাখি উভয় মিলে ৫ থেকে ১১ দিনের প্রচেষ্টায় নিরাপদ বাসা তৈরি করে। বাসা তৈরির পর এরা ২-৬টি ডিম পাড়ে এবং পিতামাতা উভয়েই, পালাক্রমে ডিমে তা দিয়ে ভ্রূণের বিকাশ ঘটায়। ডিম ফুটে ছানা বের হওয়ার পর প্রথম সাত দিন তারা খুবই অসহায় ও নগ্ন থাকে। এই সময় তাদের স্পর্শকাতর ত্বক রক্ষা করতে পিতামাতা বাসায় নরম আঁশ ও শুকনো পাতা বিছিয়ে দেয়। উদ্দীপকের চিত্রের মতো পিতামাতা দূর থেকে খাবার সংগ্রহ করে এনে পরম মমতায় শাবকদের মুখে তুলে দেয়। এছাড়া রাতে স্ত্রী পাখি বাসায় শাবকদের আগলে রাখে এবং পুরুষ পাখি কাছের ডালে বসে পাহারাদারের ভূমিকা পালন করে। সাধারণত ১৫-২০ দিন পর্যন্ত এই নিবিড় যত্ন চলতে থাকে যতক্ষণ না শাবক স্বাবলম্বী হয়। মূলত এটি একটি জন্মগত বা সহজাত আচরণ যা পরবর্তী প্রজন্মের টিকে থাকা নিশ্চিত করে।
উদ্দীপকের প্রাণীটি অর্থাৎ পাখি বিভিন্ন প্রতিকূলতা মোকাবিলা এবং জীবন ধারণের মৌলিক প্রয়োজনে বাসস্থান পরিবর্তন করে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে গমন করে, যা জীববিজ্ঞান এর ভাষায় 'পরিযান' হিসেবে পরিচিত। পাখিদের এই বাসস্থান পরিবর্তনের কারণগুলো বর্ণনা করা হলো-
পাখিদের পরিযান মূলত একটি সহজাত আচরণ যা তাদের অস্তিত্ব রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর প্রধানতম কারণ হলো তীব্র শীত ও তুষারপাত থেকে রক্ষা পাওয়া। শীতকালে উত্তর মেরু বা শীতল দেশগুলোতে তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে নেমে গেলে পাখিরা বাঁচার তাগিদে উষ্ণতর অঞ্চলের খোঁজে পাড়ি জমায়। খাদ্যের স্বল্পতা পরিযানের অন্যতম চালিকাশক্তি। শীতপ্রধান অঞ্চলে বরফ জমার কারণে খাবার পাওয়া দুঃসাধ্য হয়ে পড়লে পর্যাপ্ত আহারের সন্ধানে তারা দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে। এছাড়া, দিনের দৈর্ঘ্যের পরিবর্তন পাখিদের পরিযানে উদ্বুদ্ধ করে; তারা দীর্ঘ আলোক উজ্জ্বল দিনের সন্ধানে পাড়ি জমায় যা তাদের খাদ্য অন্বেষণে সহায়তা করে। প্রজনন ও বংশবৃদ্ধিও বাসস্থান পরিবর্তনের একটি বড় কারণ; পাখিরা উপযুক্ত ও নিরাপদ জননক্ষেত্র এবং উপযুক্ত পরিবেশে ডিম পাড়ার জন্য নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট স্থানে ফিরে আসে। পরিযানের ফলে বিভিন্ন অঞ্চলের পাখিদের মধ্যে মিলনের সুযোগ ঘটে, যা তাদের জিনগত বৈচিত্র্য বৃদ্ধি করে এবং নতুন প্রকরণ সৃষ্টিতে সাহায্য করে। অনেক ক্ষেত্রে নিরাপদ আশ্রয়ের অভাব বা শিকারি প্রাণীর উপদ্রব এড়াতেও তারা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তরিত হয়। প্রতিকূল আবহাওয়ার আকস্মিক পরিবর্তন, যেমন- প্রবল বর্ষণ বা ঝড়ও তাদের বাসস্থান পরিবর্তনে বাধ্য করে। পরিশেষে বলা যায়, খাদ্য নিশ্চিত করা, বংশ রক্ষা এবং বৈরী জলবায়ু থেকে আত্মরক্ষা -এসকল প্রয়োজনেই উদ্দীপকের প্রাণীরা নিয়মিত বাসস্থান পরিবর্তন করে থাকে।