| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘নিচের চিত্রটি লক্ষ…’ ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজ ২০২৫ – চলন ও অঙগচালনা, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

নিচের চিত্রটি লক্ষ কর-
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৭
ঐচ্ছিক পেশির গুচ্ছবদ্ধ নলাকার পেশিতন্তুই হলো ফ্যাসিকুলাস।
যে লিভারে ফালক্রাম, বল বা ভারের মাঝে থাকে তাকে প্রথম শ্রেণির লিভার বলে। যেমন- মাথা ও ঘাড়ের সংযোগস্থলের অস্থি (কাঁচি ও খুনতি বা শাবল ইত্যাদি)। করোটি ও অ্যাটলাস সঞ্চালন প্রথম শ্রেণির লিভারের মতো কাজ করে। এক্ষেত্রে করোটি হচ্ছে লিভার বাহু; করোটি ও অ্যাটলাসের মধ্যকার সন্ধিটি পিভট; মাথার পেছনে অবস্থিত পেশি থেকে আসার পেশল ক্রিয়া হচ্ছে বল এবং ভার হচ্ছে মাথার ওজন যা বলের কর্মকান্ডে উঁচু হয়ে থাকে (ওজনের বিরুদ্ধে)। এ লিভারের কারণে আমরা মাথাকে সামনে ও পিছনে উঁচু-নিচু করতে পারি।
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'Q' দ্বারা অস্থিকে বুঝানো হয়েছে। অস্থির গাঠনিক একক হলো হ্যাভারসিয়ান তন্ত্র। নিচে অস্থির সূক্ষ্ম গঠন অর্থাৎ হ্যাভারসিয়ান তন্ত্রের গঠন বর্ণনা করা হলো-
নিরেট অস্থির গঠন ও কার্যরত একক হলো হ্যাভারসিয়ান তন্ত্র। নিরেট অস্থির ম্যাট্রিক্স কতগুলো স্তরে সাজানো থাকে। স্তরগুলোকে ল্যামেলি বলে। ল্যামেলি একটি সুস্পষ্ট নালির চারদিকে চক্রাকারে বিন্যস্ত। কেন্দ্রীয় এ নালিটি হলো হ্যাভারসিয়ান নালি। প্রতিটি হ্যাভারসিয়ান নালি এবং একে বেষ্টনকারী ল্যামেলির সমন্বয়ে একটি হ্যাভারসিয়ান তন্ত্র বা অস্টিওন গড়ে ওঠে। প্রত্যেক ল্যামেলায় ল্যাকুনা নামে কতগুলো ক্ষুদ্র গহ্বর পাওয়া যায়। অস্থিকোষ ল্যাকুনার ভিতরে অবস্থান করে। প্রতিটি ল্যাকুনার চারদিক থেকে সুক্ষ্ম কতগুলো নালিকা বেরোয়। এদের ক্যানালিকুলি বলে। এসব নালিকার মাধ্যমে একটি হ্যাভারসিয়ান তন্ত্রের বিভিন্ন ল্যাকুনা পরস্পরের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে। অস্থির অভ্যন্তরে হ্যাভারসিয়ান নালিগুলো পরস্পরের আড়াআড়ি নালি দিয়ে যুক্ত থাকে। এসব নালিকে ভকম্যানস ক্যানাল বলে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত 'P' টিস্যুটি হলো তরুণাস্থি। তরুণাস্থি সাধারণত অপেক্ষাকৃত' নরম, নমনীয় ও স্থিতিস্থাপক যোজক কলা। মাতৃকার গঠনের উপর ভিত্তি করে তরুণাস্থি চার ধরনের হয়। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
১. স্বচ্ছ বা হায়ালিন তরুণাস্থি: যে তরুণাস্থির ধাত্র ঈষৎ স্বচ্ছ, নমনীয় এবং তত্ত্ববিহীন, তাকে স্বচ্ছ তরুণাস্থি বলে। স্বচ্ছ তরুণাস্থি পেরিকন্ড্রিয়াম নামক এক প্রকার তন্তুর আবরণ দ্বারা আবৃত থাকে। নাক, স্বরযন্ত্র, শ্বাসনালি, পশুকার প্রান্তভাগ, অস্থিসন্ধিস্থল, সকল মেরুদণ্ডীয় ভূণীয় কঙ্কাল ইত্যাদি এবং ব্যাঙ ও হাঙরের ভ্রুণে বা পরিণত দেহে এ তরুণাস্থি বিদ্যমান।
২. স্থিতিস্থাপক বা পীততন্তুময় তরুণাস্থি: যে তরুণাস্থির ধাত্রে প্রচুর পরিমাণে স্থিতিস্থাপক তন্তু থাকে, তাকে স্থিতিস্থাপক তরুণাস্থি বলে। এ তরুণাস্থির মাতৃকা হলুদ, নমনীয়, অসমসত্ত্ব এবং স্থিতিস্থপক। এর মাতৃকা হলুদ বা পীতবর্ণের। শাখান্বিত স্থিতিস্থাপক তন্তু জালকের ন্যায় সজ্জিত থাকে। কর্ণছত্র বা পিনা, নাসিকার অগ্রভাগ, ইউস্টেশিয়ান নালি, আলজিহ্বা প্রভৃতি অঙ্গে এ ধরনের তরুণাস্থি বিস্তৃত থাকে।
৩. শ্বেততত্ত্বময় তরুণাস্থি: এ তরুণাস্থির ধাত্রে প্রচুর পরিমাণে শ্বেত বর্ণের, অশাখ, অস্থিতিস্থাপক, কোলাজেন নির্মিত তন্তু সমান্তরালে বিন্যস্ত থাকে। এতে পেরিকন্ড্রিয়াম থাকে না। কশেরুকার মধ্যবর্তীস্থান, অস্থি ও টেনডনের সংযোগস্থল, গ্লিনয়েড গহ্বর, পিউবিস সিমফাইসিস প্রভৃতি অংশে এ তরুণাস্থি বিদ্যমান।
৪. চুনময় বা ক্যালসিফাইড তরুণাস্থি: এর মাতৃকায় প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম কার্বনেট সঞ্চিত থাকে, ফলে কঠিনাস্থির মতো শক্ত হয়। হিউমেরাস ও ফিমারের মস্তকে এ ধরনের তরুণাস্থি পাওয়া যায়।