| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘নিচের চিত্রটি লক্ষ…’ ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজ ২০২৫ – প্রাণীর পরিচিতি, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

নিচের চিত্রটি লক্ষ কর-
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ২
রুই মাছের কানকোর মুক্ত প্রান্তে একটি পেশিময় পর্দা থাকে, এই পেশিময় পর্দাই হলো ব্রাঙ্কিওস্টেগাল পর্দা।
রুইমাছের দেহকান্ড সাইক্লয়েড আঁইশ দ্বারা আবৃত। আঁইশ দেখতে চাকতির ন্যায়, মোটামুটি গোলাকার ও রূপালি চকচকে। আঁইশের কেন্দ্রভাগ পুরু এবং কিনারার দিক ক্রমশ পাতলা। আঁইশের কেন্দ্রে একটি স্বচ্ছ অংশ দেখা যায়। একে ফোকাস বা নিউক্লিয়াস বলে। ফোকাসের চারদিকে সারকুলাস ও অ্যানুলাস বা বার্ষিক বৃদ্ধিরেখা নামক দু'ধরনের বৃত্তাকার রেখা অবস্থান করে। বার্ষিক বৃদ্ধিরেখাগুলো গভীর, স্পষ্ট ও মোটা হয় এবং বছরে মাত্র একটি করে সৃষ্টি হয়। এই রেখার সাহায্যে রুইমাছের বয়স ও বৃদ্ধিহার নির্ণয় করা হয়। সাধারণত বসন্তকালে ও গ্রীষ্মকালে মাছ ও আঁইশের বৃদ্ধি বেশি হয়।
উদ্দীপকের রেখাচিত্রের "M" চিত্রটি হলো রুইমাছের রক্ত সংবহনতন্ত্র অর্থাৎ হৃৎপিণ্ড। নিচে রুইমাছের হৃৎপিন্ডের গঠন চিত্রসহ বর্ণনা করা হলো-
১. সাইনাস ভেনোসাস : এটি পাতলা প্রাচীর বিশিষ্ট উপপ্রকোষ্ঠ যা হৃৎপিন্ডের পৃষ্ঠদেশে অবস্থিত।
২. অ্যাট্রিয়াম : এটি পেরিকার্ডিয়াল গহ্বরের সম্মুখ পৃষ্ঠভাগে অবস্থিত পাতলা প্রাচীরবিশিষ্ট বৃহত্তম প্রকোষ্ঠ।
৩. ভেন্ট্রিকল: এটি হৃৎপিন্ডের সর্বশেষ প্রকোষ্ঠ। পেরিকার্ডিয়াল গহ্বরের অঙ্কীয় দেশে অবস্থিত।
৪. বাল্বাস আর্টারিওসাস : রুই মাছের হৃৎপিন্ডে কোনাস আর্টারিওসাস নেই। তার পরিবর্তে বাল্বাস আর্টারিওসাস নামক একটি গঠন দেখা যায় যা মূলত ভেন্ট্রাল অ্যাওর্টার স্ফীত হওয়া গোড়া বা মূল। এটি হৃৎপিণ্ড থেকে ভেন্ট্রাল অ্যাওর্টায় রক্ত চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে।
রুইমাছের উপপ্রকোষ্ঠ ও প্রকোষ্ঠগুলোর সংযোগ ছিদ্রে কপাটিকা থাকে। কপাটিকাগুলো হলো-
১. সাইনো-অ্যাট্রিয়াল কপাটিকা: সাইনাস ভেনোসাস ও অ্যাট্রিয়ামের মাঝে অবস্থিত ছিদ্রপথে এ কপাটিকা থাকে।
২. অ্যাট্রিও-ভেন্ট্রিকুলার কপাটিকা: অ্যাট্রিয়াম ও ভেন্ট্রিকলের মাঝে অবস্থিত অ্যাট্রিও-ভেন্ট্রিকুলার ছিদ্রপথে এ কপাটিকা অবস্থান করে।
৩. ভেন্ট্রিকুলো-বাল্বাস কপাটিকা: এটি ভেন্ট্রিকল ও বাল্বাস অ্যাওর্টার মাঝে অবস্থিত কপাটিকা।
উদ্দীপকের রেখাচিত্র দ্বারা রুই মাছের রক্ত সংবহনতন্ত্রকে বুঝানো হয়েছে। রুই মাছের ক্ষেত্রে রক্ত পরিবহনের পথ একচক্রীয়। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
রুই মাছের রক্ত সংবহনতন্ত্র লক্ষ করলে দেখা যায় যে, মাছের হৃৎপিণ্ড থেকে সমৃদ্ধ রক্ত প্রথমে ফুলকায় যায়। ফুলকায় ত্যাগের পর রক্ত সমৃদ্ধ হয়। এই রক্ত সমগ্র দেহ পরিভ্রমণপূর্বক কোষে কোষে সরবরাহ করে এবং কোষে উৎপন্ন গ্রহণপূর্বক পুনরায় হৃৎপিন্ডে ফিরে আসে। এক্ষেত্রে রক্ত রুই মাছের সমগ্র দেহ পরিভ্রমণ করতে একবার হৃৎপিণ্ড অতিক্রম করে। হৃৎপিন্ডের প্রতিটি প্রকোষ্ঠ ও উপপ্রকোষ্ঠের সংযোগস্থলে একটি করে কপাটিকা থাকে যা রক্তের একদিকে চলাচল নিশ্চিত করে এবং বিপরীতগামীতাকে বাধা দেয়।
তাই হৃৎপিন্ডের মধ্য দিয়ে যুক্ত রক্ত পেছন থেকে সামনের দিকে শুধুমাত্র একমুখি হয়ে চলাচল করে।
এই ধরনের প্রবাহকে একচক্রীয় রক্ত প্রবাহ বলা হয়। অর্থাৎ রুই মাছের রক্ত পরিবহনের পথ একচক্রীয়।