| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘নিচের চিত্রটি লক্ষ…’ ভোলা সরকারি কলেজ ২০২৬ – জীবপ্রযুক্তি, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

নিচের চিত্রটি লক্ষ করো :
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১১
মিয়োসিস কোষ বিভাজনের একটি দশা মিয়োসিস-১।
মিয়োসিস দুটি পর্যায়ে সংঘটিত হয়। ১. মিয়োসিস-১ এবং মিয়োসিস-২। মিয়োসিস-১ এর ক্ষেত্রে, প্রোফেজ-১ এ সমজাতীয় ক্রোমোসোম জোড়া বাঁধে, ক্রসিং ওভার ঘটে।মেটাফেজ-১ এ ক্রোমোসোম বিষুবরেখায় অবস্থান করে। অ্যানাফেজ-১ এ সমজাতীয় ক্রোমোসোম আলাদা হয়। টেলোফেজ-১ এ দুটি হ্যাপ্লয়েড কোষ তৈরি হয়। মিয়োসিস-২ এর ক্ষেত্রে, প্রোফেজ-২ এ ক্রোমোসোম সংকুচিত হয়। মেটাফেজ-২ এ বিষুবীয় অঞ্চলে অবস্থান করে। অ্যানাফেজ-২ এ ক্রোমাটিড পৃথক হয় এবং টেলোফেজ-২ তে চারটি হ্যাপ্লয়েড কোষ সৃষ্টি হয়।
উদ্দীপকের চিত্র X হলো টিস্যু কালচার প্রযুক্তি। নিচে এর ধাপগুলো চিত্রসহ বর্ণনা করা হলো-
১. এক্সপ্লান্ট নির্বাচন: অবশ্যই নীরোগ ও উৎকৃষ্ট বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত উদ্ভিদ হতে এক্সপ্লান্ট নির্বাচন করতে হবে।
২. কালচার মিডিয়াম তৈরি: উদ্ভিদের পুষ্টি ও বৃদ্ধির জন্য কালচার মিডিয়াম প্রস্তুত করা হয়। বিভিন্ন ধরনের মুখ্য ও গৌণ উপাদান ভিটামিন, সুক্রোজ, ফাইটোহরমোন প্রভৃতি এ মিডিয়ামে থাকা দরকার।
৩. জীবাণুমুক্তকরণ: কালচার মিডিয়াম জীবাণু মুক্ত রাখার জন্য পাত্রটিকে নির্জীবকরণ যন্ত্র দিয়ে জীবাণুমুক্ত করা হয়।
৪. মিডিয়ামে এক্সপ্ল্যান্ট বা টিস্যু স্থাপন: এক্সপ্ল্যান্ট নির্জীব করে সম্পূর্ণ নির্জীব অবস্থায় কাচপাত্রে রাখা মিডিয়ামে স্থাপন করতে হবে।
৫. ক্যালাস সৃষ্টি ও সংখ্যা বৃদ্ধি: মিডিয়ামে এক্সপ্ল্যান্ট তথা টিস্যু বৈদ্যুতিক আলো ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বারবার বিভাজিত হয়ে একটি কোষীয় মণ্ডে পরিণত হয়। এই কোষীয় মণ্ডকে ক্যালাস বলে। ক্যালাস থেকে একসময়ে অসংখ্য মুকুল সৃষ্টি হয়।
৬. চারা উৎপাদন: মুকুলগুলোকে সাবধানে কেটে নিয়ে মূল উৎপাদনকারী মিডিয়ামে রাখা হলে সেখানে প্রতিটি মুকুল, মূল সৃষ্টি করে পূর্ণাঙ্গ চারায় পরিণত হয়।
৭. চারা টবে স্থানান্তর: উপযুক্ত সংখ্যক সুগঠিত মূল সৃষ্টি হলে সাম পূর্ণাঙ্গ চারাগাছ কালচার করা পাত্র থেকে সরিয়ে নিয়ে ধীর প্রক্রিয়ায় সাবধানতার সাথে টবে স্থানান্তর করা হয়। এভাবে টিস্যু কালচারের মাধ্যমে চারাগাছ উৎপাদন কাজ সম্পন্ন করা হয়।
৮. প্রাকৃতিক পরিবেশ তথা মাঠ পর্যায়ে স্থানান্তর: টবে রোপিত চারাগাছগুলো কক্ষের বাইরে রেখে মাঝে মাঝে বাইরের প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে সজীব ও সবল হয়ে উঠলে সেগুলোকে এক পর্যায়ে প্রাকৃতিক পরিবেশে মাটিতে লাগানো হয়।
উদ্দীপকের প্রক্রিয়া অর্থাৎ টিস্যু কালচার প্রযুক্তি কৃষি ও অর্থনীতিতে অপরিহার্য। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
১. হুবহু মাতৃ-গুণাগুণসম্পন্ন চারা তৈরি: কোনো উদ্ভিদের ফুল, ফল বা শস্য গুণে ও মানে উন্নত বলে মনে হলে সেসব উদ্ভিদের অংশ টিস্যু কালচার প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যবহার করে হুবহু মাতৃ-গুণাগুণসম্পন্ন অসংখ্য চারা তৈরি করা যায়।
২. হ্যাপ্লয়েড উদ্ভিদ উৎপাদন: পরাগরেণু বা পরাগধানী কালচার করে হ্যাপ্লয়েড উদ্ভিদ উৎপাদন করা যায়। Graminae, Solanaceae ও Cruciferae গোত্রসহ এ যাবৎ ৫০টি প্রজাতির হ্যাপ্লয়েড লাইন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়েছে।
৩. বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদ সংরক্ষণ: যে সমস্ত উদ্ভিদ প্রজাতি পৃথিবীতে বিলুপ্তির পথে টিস্যু কালচার প্রযুক্তির মাইক্রোপ্রোপাগেশন পদ্ধতি দ্বারা ঐ সকল উদ্ভিদকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।
৪. রোগমুক্ত উদ্ভিদ তৈরি: উদ্ভিদের শীর্ষমুকুলের অগ্রভাগের টিস্যুকে মেরিস্টেম বলে। এ মেরিস্টেম সর্বদা রোগমুক্ত থাকে। টিস্যু কালচার প্রযুক্তিতে মেরিস্টেম কালচার করে রোগমুক্ত চারাগাছ তৈরি করা যায়।
৫. সংকর উদ্ভিদ উৎপাদন: দুটি উদ্ভিদের প্রোটোপ্লাস্ট পাশাপাশি রেখে তাদের মধ্যে মিলন ঘটিয়ে টিস্যু কালচার প্রযুক্তি প্রয়োগ করে নতুন সংকর উদ্ভিদ তৈরি করা যায়।
৬. ভ্রূণ উদ্ধার: দুটি ভিন্ন প্রজাতির সংকরায়নে সৃষ্ট F1 অপত্য প্রায়শই বন্ধ্যা হয়। এমন বন্ধ্যা উদ্ভিদে ভ্রূণ গঠিত হলেও তা মারা যায় ও তা থেকে কোনো বীজ উৎপন্ন হয় না। এমন সংকর উদ্ভিদ থেকে ভূর্ণ উদ্ধার করে পুষ্টি মাধ্যমে তাদের বাঁচিয়ে কাজে লাগানো যায়।
৭. ট্রান্সজেনিক উদ্ভিদ উৎপাদন: রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তিতে নানা ধরনের অণুজীব, উদ্ভিদ ও প্রাণী হতে সংগৃহীত জিন আবাদকৃত ভ্রূণ বা কোষে প্রবেশ করিয়ে চাহিদামতো জিনোম তৈরি করা সম্ভব। টিস্যু কালচার প্রযুক্তিতে এ ধরনের কোষ বা ভ্রূণ হতে পূর্ণাঙ্গ ট্রান্সজেনিক উদ্ভিদ সৃষ্টি করা যায়।
৮. কৃত্রিম বীজ উৎপাদন: টিস্যু কালচার পদ্ধতিতে উৎপন্ন সোমাটিক ভ্রূণকে পুষ্টি পদার্থসহ জেল আবরণীতে আবদ্ধ করে কৃত্রিম বীজ তৈরি করা যায়।