| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘নিচের চিত্রটি লক্ষ্য…’ ২০২৪ – প্রাণীর পরিচিতি, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

নিচের চিত্রটি লক্ষ্য কর এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ২
ভ্রূণাবস্থায় যে সব প্রাণীর দেহ প্রাচীরের কোষগুলো কেবল এক্টোডার্ম ও এন্ডোডার্ম নামক দুটি নির্দিষ্ট স্তরে বিন্যস্ত থাকে, সেসব প্রাণীই হলো দ্বিস্তরী প্রাণী।
বহুকোষী জীবদেহে বিভিন্ন অঙ্গ বা তন্ত্রের মধ্যে শারীরবৃত্তীয় কার্যাবলীর সুষম বণ্টনকে শ্রমবণ্টন বলে। তবে Hydra বহুকোষী প্রাণী হলেও অন্যান্য প্রাণীর মতো দেহে অঙ্গ বা তন্ত্র গঠিত হয়নি। Hydra-র দেহে কোষগুলো এপিডার্মিস ও গ্যাস্ট্রোডার্মিস স্তরে থেকে এককভাবে পৃথক পৃথক কার্য সম্পাদন করে।
উদ্দীপকের চিত্রটি হলো হাইড্রার প্রস্থচ্ছেদ, যাতে হাইড্রার দেহপ্রাচীরের তিনটি প্রধান অংশ এপিডার্মিস, গ্যাস্ট্রোডার্মিস ও মেসোগ্লিয়া দৃশ্যমান। হাইড্রা দেহাংশ পুর্ণগঠনের মাধ্যমে পুনরায় উৎপত্তি লাভ করে বলে এর স্বাভাবিক মৃত্যু নেই। পুনরুৎপত্তির মাধ্যমে হাইড্রা অপত্যের মাধ্যমে পুনরায় জীবন ফিরে পাওয়া দ্বি-বিভাজনের মাধ্যমে ঘটে। হাইড্রার এপিডার্মিস ও গ্যাস্ট্রোডার্মিস অংশে পেশি আবরণী কোষের ফাঁকে-ফাঁকে অবস্থান করে ইন্টারস্টিশিয়াল কোষ। এই কোষগুলো হাইড্রার অন্যান্য যে কোনো কোষে রূপান্তরিত হতে পারে। যেকোনো দুর্ঘটনায় পতিত হয়ে হাইড্রা অনুদৈর্ঘ্যভাবে বা অনুপ্রস্থভাবে দুই বা ততোধিক খণ্ডে বিভক্ত হয়ে যেতে পারে। কিন্তু এ অবস্থায় অন্যান্য প্রাণীর ন্যায় হাইড্রার মৃত্যু ঘটে না। এক্ষেত্রে ইন্টারস্টিশিয়াল কোষ দ্রুতগতিতে বিভাজিত ও রূপান্তরিত হয়ে বিভিন্ন প্রকার কোষ সৃষ্টির মাধ্যমে হাইড্রার হারানো বা বিনষ্ট দেহাংশ পুনর্গঠন করে। ফলে একটি হাইড্রা হতে খণ্ডায়নের সংখ্যা অনুসারে দুই বা ততোধিক হাইড্রার বিকাশ ঘটে। হাইড্রার এই অস্বাভাবিক অযৌন জননকেই বিভাজন বলে। এজন্যই বলা হয় Hydra-র স্বাভাবিক মৃত্যু নেই এটি অমর। সুতরাং চিত্রের ইন্টারস্টিশিয়াল কোষ হাইড্রাকে অমর করে।
উদ্দীপকের চিত্রটিতে হাইড্রার প্রস্থচ্ছেদের মাধ্যমে এর বিভিন্ন কোষসমূহ দেখানো হয়েছে। উক্ত কোষগুলো খাদ্যগ্রহণসহ বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে হাইড্রার পুষ্টির সাথে জড়িত। তবে এ কাজে প্রধান ভূমিকা পালন করে পেশি আবরণী কোষ বা পুষ্টি কোষ ।
যে জৈবনিক প্রক্রিয়ায় প্রাণী নিজ পরিবেশ থেকে প্রয়োজনীয় জটিল জৈব খাদ্য গ্রহণ করে বিভিন্ন এনজাইমের সহায়তায় কোষে পরিবহন ও শোষণ উপযোগী খাদ্যে পরিণত করে পরিপাককৃত খাদ্যসার শোষণের মাধ্যমে দেহের ক্ষয়পূরণ, বৃদ্ধিসাধন, শক্তি উৎপাদন ইত্যাদি শারীরবৃত্তীয় কার্যকলাপ অক্ষুণ্ণ রাখে তাকে পুষ্টি বলে'। পুষ্টিকোষ দু' ধরনের- ফ্ল্যাজেলাযুক্ত ও ক্ষণপদযুক্ত। ফ্ল্যাজেলাযুক্ত কোষগুলো এদের মুক্ত প্রান্তে একাধিক ফ্ল্যাজেলা বহন করে। মুখ ও কর্ষিকার গোড়ায় অবস্থিত এ কোষগুলো নিজের ছিদ্র বন্ধ করতে স্ফিংক্টার এর মতো কাজ করে। এ কোষ পানি প্রবাহ সৃষ্টি করে বহিঃকোষীয় পরিপাক, রেচন ও শ্বসনে সহায়তা করে। তেমনি ক্ষণপদযুক্ত কোষগুলোর প্রান্তীয় অংশ হতে একাধিক ক্ষণপদ সৃষ্টি হয় । ক্ষণপদযুক্ত কোষ খাদ্যবস্তু গ্রহণ, অন্তঃকোষীয় পরিপাক ইত্যাদি কাজে ভূমিকা পালন করে। এছাড়া সংবেদী কোষ সিলেন্টেরনে খাদ্যের উপস্থিতি গ্রহণ এবং গ্রন্থি কোষের এনজাইম বহিঃকোষীয় পরিপাকে সহায়তা করে ।