| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘নিচের চিত্রটি লক্ষ্য…’ ২০২৪ – শ্বসন ও শ্বাসক্রিয়া, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

নিচের চিত্রটি লক্ষ্য কর এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৫
ফুসফুসের বাইরের দ্বিস্তরী আবরণই হলো প্যুরা।
সাইনাসের মিউকাস ঝিল্লিতে সৃষ্ট প্রদাহই হলো সাইনুসাইটিস।মাথার খুলিতে মুখমণ্ডলীয় অংশে নাসাগহ্বরের দু'পাশে অবস্থিত বায়ুপূর্ণ চারজোড়া বিশেষ গহ্বরকে সাইনাস বলে। এসব সাইনাস যদি বাতাসের বদলে তরলে পূর্ণ থাকে এবং সে তরল যদি জীবাণু দ্বারা (ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক) সংক্রমিত হয় তখন সাইনাসের মিউকাস ঝিল্লিতে প্রদাহের সৃষ্টি হয়ে সাইনুসাইটিস হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত চিত্রটি দ্বারা অ্যালভিওলাসকে নির্দেশ করা হয়েছে। এটি ফুসফুসের গঠন ও কার্যগত একক। নিচে এর গঠন বর্ণনা করা হলো-
অ্যালভিওলাস ক্ষুদ্র বুদবুদ সদৃশ বায়ুকুঠুরি। এদের প্রাচীরে কৈশিক জালিকা নিবিড়ভাবে অবস্থান করে। পালমোনারি ধমনি থেকে এদের উৎপত্তি ঘটে এবং পুনরায় মিলে পালমোনারি শিরা গঠন করে। এদের প্রাচীর চ্যাপ্টাকৃতির স্কোয়ামাস এপিথেলিয়াল কোষ দ্বারা গঠিত। এছাড়া প্রাচীরে কিছু স্থিতিস্থাপক কোলাজেন সূত্রক থাকে যে কারণে অ্যালভিওলাসের সংকোচন-প্রসারণ ঘটে থাকে। অ্যালভিওলাসের প্রাচীরে কিছু বিশেষ কোষ থাকে যারা সারফেকট্যান্ট নামক ডিটারজেন্টের অনুরূপ ফসফোলিপিড রাসায়নিক পদার্থ নিঃসরণ করে। সারফেকট্যান্ট সারফেস টেনশন হ্রাস করে অ্যালভিওলাসের স্ফীত অবস্থা বজায় রাখতে সাহায্য করে। অ্যালভিওলাসের প্রাচীরে ফ্যাগোসাইটিক অ্যালভিওলার ম্যাক্রোফেজ থাকে । এ ম্যাক্রোফেজ অণুজীবসহ বহিরাগত বস্তু বিনষ্ট করে।
ঘ.
উদ্দীপকের অঙ্গটি হলো মানবদেহের ফুসফুস বা শ্বসনে সাহায্য করে । বায়ু থেকে প্রয়োজনীয় উপাদান গ্রহণ ও দেহ থেকে অপ্রয়োজনীয় উপাদান গ্রহণ ও দেহ থেকে অপ্রয়োজনীয় উপাদান ফুসফুসের সাহায্যে বাহিত হয়। এবং কোষীয় পর্যায়েও গ্যাসীয় উপাদানসমূহ বাহিত হয় । ফুসফুসের গহ্বরের ভেতরে অ্যালভিওলাসের বাতাস এবং এগুলোর প্রাচীরে অবস্থিত কৈশিক নালির রক্তের মধ্যে অক্সিজেন ও কার্বন ডাইঅক্সাইডের বিনিময় ঘটে। রক্তে অক্সিজেন দু'ভাবে পরিবাহিত হয়, যথা— ভৌত দ্রবণরূপে ও রাসায়নিক যৌগরূপে ।
i. ভৌত দ্রবণরূপে: প্রতি ১০০ মি.লি. রক্তে ০.৩ মি.লি. O2 ভৌত দ্রবণরূপে পরিবাহিত হয়।
ii. রাসায়নিক যৌগরূপে: O2 রক্তে প্রবেশের পর লোহিত কণিকায় অবস্থিত হিমোগ্লোবিনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সি-হিমোগ্লোবিন গঠন করে। অক্সি-হিমোগ্লোবিন যৌগ হিসেবে অক্সিজেন দেহকোষে পরিবাহিত হয় ।
দেহকোষে উৎপন্ন CO2 রক্তে তিনটি ভিন্ন পদ্ধতিতে পরিবাহিত হয়ে ফুসফুসে পৌছায়।
i. ভৌত দ্রবণরূপে: কিছু পরিমাণ (৫%) CO2-এর সাথে রক্তের প্লাজমার পানির বিক্রিয়ায় কার্বনিক এসিড উৎপন্ন হয়ে রক্তে পরিবাহিত হয় ।
H2O + CO2 → H2CO3
ii. কার্বামিনো যৌগরূপে: CO2 লোহিত কণিকার হিমোগ্লোবিনের গ্লোবিন অংশের অ্যামিনো গ্রুপের সাথে CO2 যুক্ত করে কার্বামিনো হিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে। CO2 এর একাংশ প্লাজমা প্রোটিনের সাথে সরাসরি যুক্ত হয়ে কার্বামিনো প্রোটিন গঠন করে। মোট CO2-এর শতকরা ২৭ ভাগ কার্বামিনো যৌগরূপে পরিবাহিত হয়। iii. বাইকার্বনেট যৌগরূপে: CO2-এর বেশির ভাগই (৬৫%) রক্তে বাইকার্বনেটরূপে পরিবাহিত হয়। এটি NaHCO3 রূপে প্লাজমার মাধ্যমে এবং KHCO3 রূপে লোহিত কণিকার মাধ্যমে পরিবাহিত হয়।
উপযুক্ত পদ্ধতিতে কোষ পর্যায়ে গ্যাসীয় উপাদান পরিবাহিত হয়।