| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘নিচের উদ্দীপকটি লক্ষ…’ ২০২৬ – সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণ, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

নিচের উদ্দীপকটি লক্ষ করো:
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৮
কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র একটি দৃঢ় ও মজবুত আবরণ দিয়ে আবৃত থাকে, যা করোটিকা ও মেরুদণ্ডের অভ্যন্তরে সংরক্ষিত থাকে, তাই মেনিনজেস।
পিটুইটারি গ্রন্থি চোখের পেছনে মস্তিষ্কের পাদদেশে অবস্থান করে। পিটুইটারি গ্রন্থি মানবদেহের সবচেয়ে ছোট গ্রন্থি কিন্তু কাজের দিক দিয়ে এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও শক্তিশালী গ্রন্থি। পিটুইটারি গ্রন্থি হতে নিঃসৃত হরমোনের সংখ্যা যেমন বেশি, অন্যদিকে বিভিন্ন গ্রন্থির উপর এসব হরমোনের প্রভাবও বেশি। এ গ্রন্থি নিঃসৃত হরমোনগুলো অন্যান্য অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির নিঃসরণকে নিয়ন্ত্রণ করে। এ কারণে পিটুইটারি গ্রন্থিকে মাস্টার গ্লান্ড বা প্রভু গ্রন্থি বলা হয়।
উদ্দীপকের চিত্রটি মানুষের মস্তিষ্ক নির্দেশ করছে। এখানে অগ্রমস্তিষ্ক চিহ্নিত করা আছে এবং এরপর ক্রমান্বয়ে 'B' ও 'C' চিহ্নিত করা হয়েছে। অবস্থান অনুযায়ী, 'B' চিহ্নিত অংশটি হলো মধ্যমস্তিষ্ক। নিচে মধ্যমস্তিষ্কের গঠন বর্ণনা করা হলো-
অগ্রমস্তিষ্ক ও পশ্চাৎমস্তিষ্কের মাঝখানে অবস্থিত ছোটো ও সংকুচিত অংশটিই হলো মধ্যমস্তিষ্ক। এর প্রধান গাঠনিক বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে দেওয়া হলো-
১. অবস্থান: এটি অগ্রমস্তিষ্কের থ্যালামাসের নিচে এবং পশ্চাৎমস্তিষ্কের পনসের (Pons) উপরে অবস্থিত। এটি অগ্র ও পশ্চাৎমস্তিষ্ককে সংযুক্ত করে।
২. টেকটাম: এটি মধ্যমস্তিষ্কের পৃষ্ঠীয় অংশ।
৩. কর্পোরা কোয়াড্রিজেমিনা: মধ্যমস্তিষ্কের পৃষ্ঠীয় দেশে চারটি
গোলক সদৃশ অংশ থাকে, যাদের একত্রে কর্পোরা কোয়াড্রিজেমিনা বলে। এগুলো মূলত দৃষ্টিশক্তি ও শ্রবণশক্তির রিফ্লেক্স বা প্রতিবর্ত কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে।
৪. সেরিব্রাল পেডাঙ্কল: মধ্যমস্তিষ্কের অংকীয় দেশে (নিচের দিকে)
দুটি পুরু ও শক্তিশালী তন্তুগুচ্ছ থাকে, যাদের সেরিব্রাল পেডাঙ্কল বলে। এগুলো মস্তিষ্কের উচ্চতর অংশের সাথে নিম্নতর অংশের সংযোগ রক্ষা করে।
৫. সিলভিয়াস একুইডাক্ট: মধ্যমস্তিষ্কের মাঝখান দিয়ে একটি সরু
নালি চলে গেছে যা তৃতীয় ও চতুর্থ ভেন্ট্রিকলকে (মস্তিষ্কের গহ্বর) যুক্ত করে। একে সিলভিয়াস একুইডাক্ট বা সেরিব্রাল একুইডাক্ট বলা হয়।
৬. নিউক্লিয়াস: এর ভেতরে বিভিন্ন স্নায়ু নিউক্লিয়াস থাকে যা চোখের পেশি সঞ্চালন এবং পিউপিলের সংকোচন-প্রসারণ নিয়ন্ত্রণ করে।
উদ্দীপকের চিত্র অনুযায়ী, 'C' চিহ্নিত অংশটি হলো পশ্চাৎমস্তিষ্ক, যার প্রধান অংশগুলো হলো সেরেবেলাম, পনস এবং মেডুলা অবলংগাটা। মানুষের শারীরিক ও শারীরবৃত্তীয় কার্যক্রমে এই অংশটির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিচে এর বিশ্লেষণ দেওয়া হলো-
পশ্চাৎমস্তিষ্ক মূলত আমাদের দেহের ভারসাম্য রক্ষা এবং অনৈচ্ছিক গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো নিয়ন্ত্রণ করে। এর ভূমিকাগুলো নিচে আলোচনা করা হলো-
১. দেহের ভারসাম্য রক্ষা পশ্চাৎমস্তিষ্কের প্রধান অংশ সেরেবেলাম মানুষের চলাফেরা, দাঁড়ানো এবং অঙ্গভঙ্গির ভারসাম্য বজায় রাখে। এটি কানের অন্তস্থ অংশ থেকে সংকেত গ্রহণ করে শরীরকে উল্টে পড়া থেকে রক্ষা করে।
২. পেশির টান ও কাজের সমন্বয়: আমরা যখন হাঁটি, দৌড়াই বা কোনো সূক্ষ্ম কাজ (যেমন- সেলাই করা বা লেখা) করি, তখন বিভিন্ন পেশির কাজের মধ্যে যে নিখুঁত সমন্বয় প্রয়োজন, তা এই অংশটিই নিয়ন্ত্রণ করে।
৩. শ্বসন ও হৃদস্পন্দন নিয়ন্ত্রণ পশ্চাৎমস্তিষ্কের মেডুলা অবলংগাটা অংশটি মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাস এবং হৃদপিণ্ডের স্পন্দন হার নিয়ন্ত্রণ করে। এটি ছাড়া মানুষের বেঁচে থাকা অসম্ভব।
৪. প্রতিবর্ত ক্রিয়া: শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবর্ত ক্রিয়া যেমন-কাশি দেওয়া, হাঁচি দেওয়া, বমি করা এবং লালা নিঃসরণ হওয়া এই অংশের মাধ্যমেই নিয়ন্ত্রিত হয়।
৫. খাদ্য পরিপাক ও গলাধঃকরণ: খাবার চিবানো, গিলে ফেলা এবং
পাকস্থলীর সংকোচন-প্রসারণের মতো জটিল শারীরবৃত্তীয় কাজগুলো মেডুলা দ্বারা পরিচালিত হয়।
৬. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ রক্তনালির সংকোচন ও প্রসারণের মাধ্যমে শরীরের রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে পশ্চাৎমস্তিষ্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
উপরোক্ত আলোচনা থেকে স্পষ্ট যে, 'C' চিহ্নিত অংশটি বা পশ্চাৎমস্তিষ্ক কেবল দেহের ভারসাম্যই বজায় রাখে না, বরং মানুষের জীবনধারণের জন্য অপরিহার্য সকল অনৈচ্ছিক শারীরবৃত্তীয় কার্যক্রমের কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে।