| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘নিচের উদ্দীপকটি লক্ষ…’ a – মানবদেহের প্রতিরক্ষা, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

নিচের উদ্দীপকটি লক্ষ কর-
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ১০
রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণু ও বিজাতীয় পদার্থের বিরুদ্ধে দেহ যে প্রতিরক্ষা গড়ে তোলে তাকে অনাক্রম্যতা বলা হয়।
কোনো জীবাণুর বিরুদ্ধে একবার প্রতিরোধ গড়ে তোলার পর B- লিম্ফোসাইট এবং T-লিম্ফোসাইট উভয়েই স্মৃতিকোষ হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে। এসব স্মৃতি কোষ একবার প্রতিহত করা জীবাণুকে চিনতে সাহায্য করে ফলে একই জীবাণুর পুনরাক্রমণ ঘটলে অতি দ্রুততার সাথে তার বিরুদ্ধে অনাক্রম্য প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন করতে পারে। স্মৃতিকোষ মানব দেহে রোগ ও সংক্রমণ সৃষ্টিকারী ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক ভূমিকা পালন করে দেহের প্রতিরক্ষায় অংশগ্রহণ করে। B-লিম্ফোসাইটের ক্ষেত্রে স্মৃতিকোষের ভূমিকা সবচেয়ে ভালোভাবে অনুধাবন করা যায়।
উদ্দীপকের আলোকে দেহের প্রতিরক্ষায় 'A' স্তরের ৩নং অঙ্গ হলো ত্বক। নিচে দেহের প্রতিরক্ষায় ত্বকের ভূমিকা ব্যাখ্যা করা হলো-
১. মানবত্বকে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া সবসময়ই থাকে; কিন্তু ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ত্বকে বাঁচতে পারে না। এর কারণ হচ্ছে ত্বকের স্বেদ গ্রন্থি ও ঘাম গ্রন্থি থেকে যথাক্রমে যে তেল ও ঘাম ক্ষরিত হয় তা ত্বককে এসিডিক (pH 3.0-5.0) করে তুলে। অন্যদিকে ত্বকে যেসব অক্ষতিকর বা উপকারী ব্যাকটেরিয়া থাকে সেগুলোও যে প্রকার এসিড ও বিপাকীয় বর্জ্য ত্যাগ করে সেসব পদার্থও ত্বকের ক্ষতিকর জীবাণু দমনে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
২. ত্বক কেটে গেলে বা পুড়ে গেলে ব্যাকটেরিয়ার প্রবেশ ও অভ্যন্তরীণ টিস্যুতে সংক্রমণের আশঙ্কা বহুগুণ বেড়ে যায়। কাটা স্থান দিয়ে নির্গত রক্ত জমাট বেঁধে শুধু রক্তক্ষরণ বন্ধ করে না, বাইরে থেকে অণুজীব প্রবেশেও বাধা দেয়। দ্রুত ও আপদকালীন ব্যবস্থা হিসেবে এ প্রাকৃতিক চিকিৎসা সত্যিই আশ্চর্যজনক।
৩. দেহের সিক্ত অংশগুলো সবসময় কোনো না কোনো ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের ঝুঁকিতে থাকে। অনেক অংশ আবার ব্যাকটেরিয়ানাশকও বহন করে, যেমন- অশ্রু, নাসিকাঝিল্লি ও লালায় লাইসোজাইম, সিমেনে স্পার্মিন, দুধে ল্যাক্টোপারঅক্সিডেজ ইত্যাদি।
৪. কানের ভেতরে সেরুমিনাস গ্রন্থি থেকে ক্ষরিত সেরুমেন বা কানের মোম কানের গভীরে ধুলা-বালি, ব্যাকটেরিয়া ও ছোট পোকার প্রবেশ প্রতিরোধ করে। সেরুমিনাস গ্রন্থি এক ধরনের ত্বকীয় গ্রন্থি। অতএব দেখা যায় যে, ত্বক মানব দেহের প্রতিরক্ষায় অপরিসীম ভূমিকা রাখে।
উদ্দীপকের 'B' স্তর হলো ২য় প্রতিরক্ষা স্তর। এখানে ম্যাক্রোফেজ ও নিউট্রোফিলের চিত্র প্রদর্শিত হয়েছে। মানবদেহের সুস্থতার জন্য ২য় প্রতিরক্ষা স্তর অর্থাৎ ম্যাক্রোফেজ ও নিউট্রোফিলের ভূমিকা অপরিহার্য। নিচে এসব বিশ্লেষণ করা হলো-
ম্যাক্রোফেজ: মনোসাইট সর্বাপেক্ষা বৃহৎ আকৃতির লিউকোসাইট এদেরকে ম্যাক্রোফেজও বলা হয়। এরা স্থির বা চলমান ফ্যাগোসাইট। কৈশিক জালিকার প্রাচীর ভেদ করে যোজক কলায় প্রবেশের পর এরা ম্যাক্রোফেজ-এ পরিণত হয়। মনোসাইট সংক্রমণ স্থানে প্রবেশ করে ব্যাকটেরিয়া ও অন্যান্য বহিরাগত বস্তুকে ঘিরে ফেলে এবং Amoeba-এর ন্যায় অন্তঃকোষীয় পরিপাক করে এগুলোকে ধ্বংস করে। এ পদ্ধতিকে ফ্যাগোসাইটোসিস বলে।
নিউট্রোফিলস: নিউট্রোফিল ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণকালে ব্যাকটেরিয়াকে | খুঁজে বের করে ফ্যাগোসাইটোসিস পদ্ধতিতে গিলে ফেলে এবং কোষ দানাস্থিত এনজাইমের সাহায্যে হজম করে ফেলে। সংক্রমণস্থলের অণুজীব ও মৃত কোষ বিগলনের মাধ্যমে নিউট্রোফিলস পুঁজ তৈরি করে। ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের বিরুদ্ধে দেহের প্রতিরক্ষায় নিউট্রোফিলস প্রথম এগিয়ে আসে। নিউট্রোফিলসকে অণুকরণ করে মনোসাইট সংক্রমণ স্থানে প্রবেশ করে এবং প্রতিরক্ষায় ২য় উপাদান গঠন করে যা সবিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কখনো দেহ বিপুল সংখ্যক জীবাণু কর্তৃক আক্রান্ত হলে বাহ্যিক প্রতিরক্ষা ভেঙে পড়ে। এ ধরনের সংক্রমণের বিরুদ্ধে তিনভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়। প্রথমত রক্ত ও কলারসে বিরাজমান ব্যাকটেরিয়া মুক্তভাবে ঘুরে বেড়ানো ফ্যাগোসাইট কর্তৃক ধ্বংস হয়। দ্বিতীয়ত লসিকা নোডের প্রাচীর সংযুক্ত বৃহৎ ফ্যাগোসাইটগুলো লসিকা বাহিকায় অবস্থিত ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে। তৃতীয়ত, এন্টিবভি দেহের যে কোনো অংশে অবস্থানরত ব্যাকটেরিয়া ও এদের টক্সিনকে আক্রমণ করে। আমাদের দেহে আক্রমণকারী ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসে ২য় প্রতিরক্ষা স্তর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।