| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘নিচের উদ্দীপকটি লক্ষ…’ আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ ২০২৬ – কোষ ও এর গঠন, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

নিচের উদ্দীপকটি লক্ষ কর:
P: উদ্ভিদকোষের সবচেয়ে বাইরের আবরণ।
Q: প্রাণিকোষের বহিরাবরণ।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১
মাইটোকন্ড্রিয়ার ক্রিস্টির গায়ে সুবিন্যস্তভাবে বহু সুবৃন্তক যে বৃত্তাকার বস্তু থাকে, তাই অক্সিসোম।
ফটোসিনথেটিক ইউনিট হলো থাইলাকয়েড মেমব্রেনের কোয়ান্টাজোমে অবস্থিত অসংখ্য একক, যেখানে সালোকসংশ্লেষণের আলোক নির্ভর পর্যায় সংঘটিত হয়। এই ইউনিটগুলোতে ক্লোরোফিল-এ, ক্লোরোফিল-বি, ক্যারোটিন এবং জ্যান্থোফিলের প্রায় ৩০০-৪০০ অণু থাকে, যা আলোক শক্তি শোষণ করে। এছাড়া, এতে বিভিন্ন এনজাইম, ধাতব আয়ন এবং ফসফোলিপিড বিদ্যমান থাকে যা সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
উদ্দীপকের 'P' আবরণটি হলো কোষপ্রাচীর। কোষপ্রাচীর উদ্ভিদকোষের একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য। নিচে কোষপ্রাচীরের ভৌত গঠন বর্ণনা করা হলো-
১. মধ্যপর্দা: মাইটোটিক কোষ বিভাজনের টেলোফেজ পর্যায়ে এর সূচনা ঘটে। সাইটোপ্লাজম থেকে আসা ফ্র্যাগমোপ্লাস্ট এবং গলগি বডি থেকে আসা পেকটিন জাতীয় ভেসিকলস্ মিলিতভাবে মধ্য পর্দা সৃষ্টি করে। পেকটিক অ্যাসিড বেশি থাকার কারণে এটি প্রথম দিকে জেলির মতো থাকে। কোষ প্রাচীরের সে স্তরটি দুটি পাশাপাশি কোষের মধ্যবর্তী সাধারণ পর্দা হিসেবে অবস্থান করে তার নাম মধ্যপর্দা। এটি বিগলিত হয়ে গেলে দুটি কোষ পৃথক হয়ে যায়।
২. প্রাথমিক প্রাচীর: এটি দ্বিতীয় স্তর। মধ্যপর্দার ওপর সেলুলোজ, হেমিসেলুলোজ এবং গ্লাইকোপ্রোটিন ইত্যাদি জমা হয়ে একটি পাতলা স্তর তৈরি করে। এটিই প্রাথমিক প্রাচীর। মধ্য পর্দার অন্তঃতলে এটি তৈরি হয়।
৩. সেকেন্ডারি প্রাচীর: কোনো কোনো কোষে প্রাথমিক প্রাচীরের ওপর আর একটি স্তর তৈরি হয়। এটি সাধারণত কোষের বৃদ্ধি পূর্ণাঙ্গ হবার পর ঘটে থাকে। এ স্তরটি অধিকতর পুরু (৫-১০ µm)। এতে সাধারণত সেলুলোজ এবং লিগনিন জমা হয়। এটি সেকেন্ডারি প্রাচীর। ভাজক কোষে এবং অধিক মাত্রায় বিপাকীয় অন্যান্য কোষে সেকেন্ডারি প্রাচীর তৈরি হয় না।
উউদ্দীপকে উল্লেখিত Q হচ্ছে প্রাণিকোষের বহিরাবরণ বা কোষঝিল্লি। কোষঝিল্লি বা প্লাজমামেমব্রেনের গঠনের সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য মডেল হলো ফ্লুইড মোজাইক মডেল। বিজ্ঞানী Singer ও Nicolson ১৯৭২ সালে প্লাজমামেমব্রেনের ফ্লুইড মোজাইক মডেলটি প্রবর্তন করেন। নিচে মডেলটি বিশ্লেষণ করা হলো-
১. ফসফোলিপিড বাইলেয়ার: প্লাজমামেমব্রেন দুটি স্তরে বিন্যস্ত থাকে। প্রত্যেকটি স্তর ফসফোলিপিড অণু দিয়ে গঠিত। প্রতিটি ফসফোলিপিডে এক অণু গ্লিসারল থাকে এবং গ্লিসারলের সাথে দুটি নন-পোলার ফ্যাটি অ্যাসিড লেজ এবং একটি পোলার ফসফেট মাথা বা হেড থাকে।
২. মেমব্রেন প্রোটিন: কোষঝিল্লিতে তিন রকমের প্রোটিন দেখা যায়।
i. পেরিফেরাল প্রোটিন: এগুলো ফসফোলিপিড স্তরের বাইরে ও ভেতরের তলে অর্থাৎ ঝিল্লির সার্ফেসে অবস্থান করে।
ii. লিপিড সম্পৃক্ত প্রোটিন: এগুলো ফসফোলিপিড স্তরে আংশিক বা সম্পূর্ণ প্রবিষ্ট থাকে।
iii. ইন্টিগ্রাল প্রোটিন: এগুলো ফসফোলিপিডের দু'স্তর জুড়েই অবস্থান করে। এ প্রোটিনগুলো ছিদ্রযুক্ত এবং এই ছিদ্রপথে অণু বা আয়নের চলাচল সম্ভব হয়।
৩. গ্লাইকোক্যালিক্স: অনেক ফসফোলিপিড অণু এবং অধিকাংশ প্রোটিন অণুর সঙ্গে ক্ষুদ্র কার্বোহাইড্রেট শৃঙ্খল যুক্ত থাকে। তখন এগুলোকে যথাক্রমে গ্লাইকোলিপিড ও গ্লাইকোপ্রোটিন বলে। এ দুটোকে মিলিতভাবে গ্লাইকোক্যালিক্স বলা হয়।
৪. কোলেস্টেরল: ফসফোলিপিড অণুর ফাঁকে ফাঁকে কোলেস্টেরল অণু অবস্থান করে। ফসফোলিপিড অণুগুলো সবসময় সচল থাকে, কাঁপে, পরস্পরের সাথে ঠোকাঠোকি করে লাফিয়ে উঠে এবং স্তরের মধ্যেই স্থান পরিবর্তন করে।
প্লাজমামেমব্রেনের মধ্যে উপাদানগুলোর এই স্থানান্তরকে ঘূর্ণন বা Flip-Flop movement বলা হয়ে থাকে। প্রোটিন অণুগুলো ফসফোলিপিডের মধ্যে ভেসে থাকে ফলে এদের মোজাইকের মতো দেখা যায়। এসব বৈশিষ্ট্যের কথা বিবেচনা করে প্লাজমামেমব্রেনের - এই মডেলটির নামকরণ হয়েছে ফ্লুইড মোজাইক মডেল।