| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘নিচের উদ্দীপকটি লক্ষ…’ বরিশাল বোর্ড ২০২৫ – উদ্ভিদ শারীরতত্ত্ব, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

নিচের উদ্দীপকটি লক্ষ কর:
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৯
ব্রিটিশ প্রাণ-রসায়নবিদ রবিন হিল (১৯৩৭) সর্ব প্রথম প্রমাণ করেন যে, সালোকসংশ্লেষণে নির্গত অক্সিজেন অবশ্যই পানি থেকে আসে। বিক্রিয়াটি তিনি -এর অনুপস্থিতিতে করেন। এ বিক্রিয়াই হিল বিক্রিয়া।
উদ্ভিদের শারীরতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ায় স্টোমাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে। স্টোমাটার মাধ্যমে উদ্ভিদ বাতাস' থেকে গ্রহণ করে এবং নির্গমন করে। এই প্রক্রিয়াটি শ্বসন এবং সালোকসংশ্লেষণের জন্য অপরিহার্য। স্টোমাটা দিয়ে উদ্ভিদ প্রস্বেদন প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত পানি শরীর থেকে বের করে দেয়। স্টোমাটা খোলা ও বন্ধ হওয়ার মাধ্যমে কোষে টারগর চাপ নিয়ন্ত্রণ করে, যা কোষের স্বাভাবিক অবস্থান ও বৃদ্ধি বজায় রাখতে সাহায্য করে।
উদ্দীপকের প্রক্রিয়া-K হলো শ্বসন তথা সবাত শ্বসন। সবাত শ্বসন চারটি ধাপে সম্পন্ন হয়। এর প্রথম ধাপটি হলো গ্লাইকোলাইসিস। গ্লাইকোলাইসিস প্রক্রিয়ায় ৩-ফসফোগ্লিসারান্ডিহাইড তৈরি হয়, তা প্রবাহচিত্রের মাধ্যমে নিচে দেখানো হলো-
উদ্দীপকে উল্লেখিত 'L' প্রক্রিয়াটি হলো অবাত শ্বসন প্রক্রিয়া। অবাত শ্বসন প্রক্রিয়ায় পাইরুভিক এসিডের অসম্পূর্ণ জ্ঞারণের ফলে ইথানল বা ল্যাকটিক এসিড উৎপন্ন হয়ে থাকে। এই প্রক্রিয়াটি বিভিন্ন শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
১. পাউরুটি শিল্পে: ময়দা-চিনির সাথে ইস্ট যোগ করে পাউরুটি তৈরি করা হয়। এখানে ইস্টের এনজাইম নিঃসৃত হয়ে ফার্মেন্টেশন ঘটে এবং অ্যালকোহল ও উৎপন্ন হয়। ময়দার ভিতর বুদবুদ সৃষ্টি করে এবং এ বুদবুদ প্রসারিত হতে থাকে ফলে গ্যাসের চাপে পাউরুটি ফুলে উঠে।
২. মদ শিল্পে: ফার্মেন্টেশন প্রক্রিয়াকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন পদার্থ হতে (যেমন: আঙ্গুর, আপেল, নাসপাতি প্রভৃতি ফলের রস, তালের রস, চিটাগুড় ইত্যাদি) মদ প্রস্তুত করা হয়।
৩. দুগ্ধ শিল্পে: ফার্মেন্টেশন প্রক্রিয়ায় দুধের সাথে বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া (যেমন: Streptococcus lactis প্রভৃতি) যোগ করে দই ও পনির প্রস্তুত করা হয়।
৪. ভিটামিন প্রস্তুতিতে: ইস্টের সাহায্যে ফার্মেন্টেশন ঘটিয়ে থিয়ামিন ও রিবোফ্লাভিন নামক ভিটামিন B ও উৎপাদন করা হয়।
৫. ওষুধ শিল্পে: ফার্মেন্টেশন প্রক্রিয়ার সাহায্যে বিভিন্ন প্রকার অ্যান্টিবায়োটিক উৎপাদন করা হয়। যেমন: পেনিসিলিন, স্ট্রেপটোমাইসিন, টেট্রাসাইক্লিন ইত্যাদি।
৬. চা-তামাক শিল্পে: Bacillus megatherium নামক ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার করে চা ও তামাক গাছের পাতাকে সুগন্ধি ও রুচিকর করা হয়।
৭. অ্যালকোহল শিল্পে: বিভিন্ন প্রকার শর্করার সাথে ইস্ট যোগ করে ফার্মেন্টেশনের মাধ্যমে অ্যালকোহল প্রস্তুত করা হয়।
এ ছাড়াও পাটের তন্তু নিষ্কাশনে, চর্ম শিল্পে, ল্যাকটিক অ্যাসিড, অ্যামিনো অ্যাসিড এবং এনজাইম উৎপাদনে ফার্মেন্টেশন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। এভাবে অবাত শ্বসনের তথা ফার্মেন্টেশন ব্যবহার বিভিন্ন শিল্পে অবদান রেখে মানবজীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।