A. Nayan
A. Nayan
18 Jun 2026 (1 day ago)
Dhaka, Narayanganj

সৃজনশীলঃ ‘নিচের উদ্দীপকটি লক্ষ…’ কুমিল্লা বোর্ড ২০২৫ – খাদ্য, পুষ্টি এবং পরিপাক, জীববিজ্ঞান (এসএসসি)


Listen to this article
📘 ক্লাস: 9-10🎓 গ্রুপ: বিজ্ঞান📚 বই: জীববিজ্ঞান📘 ৪র্থ অধ্যায়🔢 সৃজনশীল নম্বর: ৩১🏫 বোর্ড: কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড📅 সাল: ২০২৫⭐ গুরুত্ব: ⭐⭐⭐⭐⭐

💡 সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

নিচের উদ্দীপকটি লক্ষ কর- 

উত্তর:

ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট: উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয় সেগুলোকে ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রোউপাদান বলা হয়।

উত্তর:

শাক-সবজিতে থাকা খাদ্য আঁশ বা রাফেজ নামক উপাদান মানুষ সরাসরি হজম করতে পারে না, কারণ মানুষের দেহে আঁশ ভাঙ্গার জন্য প্রয়োজনীয় এনজাইম নেই। তবে এই আঁশ হজম না হলেও এটি দেহের জন্য অত্যাবশ্যক। রাফেজ পানি শোষণ করে এবং মলের পরিমাণ বৃদ্ধি করে ও বৃহদন্ত্র থেকে ক্যান্সারের আশঙ্কা অনেকাংশে হ্রাস করে। আঁশযুক্ত খাবার স্থূলতা হ্রাস, ক্ষুধাপ্রবণতা এবং চর্বি জমার প্রবণতা হ্রাসে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। তাই হজম না হলেও খাদ্য আঁশ বা রাফেজ মানবদেহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

উত্তর:

উদ্দীপকে 'H' অংশটি দ্বারা পাকস্থলিকে বোঝানো হয়েছে। পাকস্থলীতে খাদ্য পরিপাক ক্রিয়া নিচে বর্ণনা করা হলো-
পাকস্থলীতে খাদ্য আসার পর অন্তঃপ্রাচীরের গ্যাস্ট্রিকগ্রন্থি থেকে গ্যাস্ট্রিক রস ক্ষরিত হয়। এই রসে প্রধান যে উপাদানগুলো থাকে তা হলো:
হাইড্রোক্লোরিক এসিড: হাইড্রোক্লোরিক এসিড খাদ্যের মধ্যে কোনো অনিষ্টকারী ব্যাকটেরিয়া থাকলে তা মেরে ফেলে, নিষ্ক্রিয় পেপসিনোজেনকে সক্রিয় পেপসিনে পরিণত করে এবং পাকস্থলীতে পেপসিনের সুষ্ঠু কাজের জন্য অম্লীয় পরিবেশ সৃষ্টি করে।

নিক্রিয় পেপসিনোজেন HCL সক্রিয় পেপসিন .

পেপসিন: এক ধরনের এনজাইম, যা আমিষকে ভেঙে দুই বা ততোধিক অ্যামাইনো এসিড দিয়ে তৈরি যৌগ গঠন করে, যা পলি পেপটাইড নামে পরিচিত।

শর্করা এবং স্নেহজাতীয় খাদ্য সাধারণত পাকস্থলীতে পরিপাক হয় না। কারণ এদের পরিপাকের জন্য গ্যাস্ট্রিক রসে নির্দিষ্ট কোনো এনজাইম থাকে না। পাকস্থলীতে খাদ্যদ্রব্য পৌছানো মাত্র উপরোক্ত রসগুলো নিঃসৃত হয়। পাকস্থলীর অনবরত সংকোচন ও প্রসারণ এবং এনজাইমের ক্রিয়ার ফলে খাদ্য মিশ্র মণ্ডে পরিণত হয়। একে পাকমণ্ড বা কাইম (chyme) বলে। এই মণ্ড অনেকটা স্যুপের মতো এবং কপাটিকা ভেদ করে ক্ষুদ্রান্ত্রে প্রবেশ করে। এভাবেই মানবদেহের পাকস্থলিতে খাদ্য পরিপাক হয়।

উত্তর:

উদ্দীপকে উল্লিখিত 'I' অংশটি হলো ক্ষুদ্রান্ত্র' এবং 'J' হলো বৃহদন্ত্র। 'I' অংশটি অর্থাৎ ক্ষুদ্রান্ত্র খাদ্য পরিপাকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিচে তা বিশ্লেষেণ করা হলো-
পাকস্থলী থেকে পাকমণ্ড ক্ষুদ্রান্ত্রের ডিওডেনামে প্রবেশ করে। এ সময় অগ্ন্যাশয় থেকে একটি ক্ষারীয় পাচকরস ডিওডেনামে আসে। এই পাচকরস খাদ্যমণ্ডের অম্লভাব প্রশমিত করে। পাচকরসের এনজাইম দিয়ে' শর্করা এবং আমিষ পরিপাকের কাজ চলতে থাকে এবং স্নেহপদার্থের পরিপাক শুরু হয়। যকৃত থেকে পিত্তরস নিঃসৃত হয়। এটি অম্লীয় অবস্থায় খাদ্যকে ক্ষারীয় করে পরিপাকের উপযোগী করে তোলে। পিত্ত-লবণ স্নেহপদার্থের ক্ষুদ্র কণাগুলোকে পানির সাথে মিশতে সাহায্যে করে। পিত্ত লবণ পিত্তরসের অন্যতম উপাদান। লাইপেজ নামক এনজাইমের কাজ যথাযথ সম্পাদনের জন্য পিত্ত-লবণের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এ লবণের সংস্পর্শে স্নেহপদার্থ সাবানের ফেনার মতো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দানায় পরিণত হয়। স্নেহবিশ্লেষক লাইপেজ এই দানাগুলোকে ভেঙে ফ্যাটি এসিড এবং গ্লিসারলে পরিণত করে। 

অগ্ন্যাশয় রসে অ্যামাইলেজ, লাইপেজ ও ট্রিপসিন নামক এনজাইম থাকে। আন্ত্রিক রসে আন্ত্রিক অ্যামাইলেজ, লাইপেজ, মলটেজ, ল্যাকটেজ ও সুক্রেজ ইত্যাদি এনজাইম থাকে। আংশিক পরিপাককৃত আমিষ ক্ষুদ্রান্ত্রে ট্রিপসিনের সাহায্যে ভেঙে অ্যামাইনো এসিড এবং সরল পেপটাইডে পরিণত হয়।

ক্ষুদ্রান্ত্রে সব ধরনের খাদ্যই সম্পূর্ণভাবে নির্দিষ্ট এনজাইমের ক্রিয়ায় পরিপাক হয়ে সরল, শোষণযোগ্য খাদ্য উপাদানে পরিবর্তিত হয়।
অন্যদিকে বৃহদন্ত্রের কোলনে পাকমন্ডের কোনো রাসায়নিক বিক্রিয়া বা পরিপাক ঘটে না। তবে খাদ্যের অসার অংশের সাথে যে পানি তাকে, তা এখানে শোষিত হয়।
উপরোক্ত আলোচনা থেকে দেখা যায় যে, ক্ষুদ্রান্ত্রে সব ধরনের খাদ্যই কোন না কোন এনজাইম দ্বারা পরিপাক হয়ে সরল এবং শোষণযোগ্য খাদ্যে পরিণত হয়। তাই 'I' অর্থাৎ ক্ষুদ্রান্ত্র খাদ্য পরিপাকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

2 Views
No Comments
Share
0
No comments to “সৃজনশীলঃ ‘নিচের উদ্দীপকটি লক্ষ…’ কুমিল্লা বোর্ড ২০২৫ – খাদ্য, পুষ্টি এবং পরিপাক, জীববিজ্ঞান (এসএসসি)”