নিচের উদ্দীপকটি লক্ষ কর-
বাস্তুতন্ত্রের মধ্য দিয়ে শক্তির একমুখী চলনকে শক্তি প্রবাহ বলে।
বাস্তুতন্ত্রে খরগোশ দ্বিতীয় ট্রফিক লেভেলের প্রতিনিধিত্ব করে। কারণ বাস্তুতন্ত্রে খাদ্যশিকলের প্রতিটি স্তরকে ট্রফিক লেভেল বলে। বাস্তুতন্ত্রে উৎপাদক প্রথম বা সর্বনিম্ন ট্রফিক লেভেলের প্রতিনিধিত্ব করে এবং তৃণভোজী খাদক অর্থাৎ প্রথম স্তরের খাদক দ্বিতীয় ট্রফিক লেভেলের প্রতিনিধি। যেহেতু খরগোশ একটি তৃণভোজী প্রাণী অর্থাৎ উৎপাদক খেয়ে বেঁচে থাকে তাই খরগোশ বাস্তুতন্ত্রে দ্বিতীয় ট্রফিক লেভেলের প্রতিনিধিত্ব করে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত 'B' হলো উদ্ভিদ এবং 'C' হলো প্রাণী। এরা - যথাক্রমে প্লানটি এবং অ্যানিমেলিয়া রাজ্যের অন্তর্গত। নিচে প্লানটি এবং অ্যানিমেলিয়ার রাজ্যগত পার্থক্য উল্লেখ করা হলো-
উদ্দীপকে উল্লেখিত উপাদানগুলো দ্বারা একটি বাস্তুতন্ত্রের শক্তিপ্রবাহকে বুঝানো হয়েছে। নিচে বাস্তুতন্ত্রের শক্তির প্রবাহটি বিশ্লেষণ করা হলো-যেকোনো বাস্তুতন্ত্রের শক্তির মূল উৎস সূর্য। সূর্যের আলো ও তাপশক্তি হতে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় উৎপাদক বাস্তুতন্ত্রের পরবর্তী ধাপগুলোর জন্য প্রাথমিকভাবে উৎপন্ন শর্করায় রাসায়নিক শক্তি হিসেবে মজুদ করে।
বিভিন্ন প্রকার খাদ্য শিকলের মাধ্যমে উদ্ভিদে জমা হওয়া এই শক্তি বিভিন্ন খাদ্যস্তরে পৌঁছায়। শেষ পর্যন্ত বিয়োজকের কাজের ফলে শক্তি পরিবেশে ফিরে আসে। তৃণভোজী প্রাণীরা অর্থাৎ বাস্তুতন্ত্রের প্রথম স্তরের খাদকেরা উৎপাদকের পাতা, কাণ্ড, ফুল, ফল, বীজ বা মূল খেয়ে জীবনধারণ করে। মাংসাশী প্রাণী যারা প্রথম স্তরের খাদকদের খেয়ে বাঁচে তারা দ্বিতীয় স্তরের খাদক। দ্বিতীয় স্তরের খাদক থেকে রাসায়নিক শক্তি খাদ্য আকারে তৃতীয় স্তরের খাদকে পৌঁছে। যদি তৃতীয় স্তরের খাদককে আরও উচ্চতর কোনো খাদক খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে তবে একই প্রক্রিয়ায় শক্তি সর্বোচ্চ স্তরের খাদকে পৌঁছে। সব জীবের মৃত্যুর পর তার শক্তি গ্রহণ প্রক্রিয়া স্থগিত হয়ে যায় তখন ঐ মৃতদেহে সঞ্চিত রাসায়নিক শক্তি বিয়োজকের কাজের ফলে ভেঙে জড় পদার্থ বা শক্তি আকারে পরিবেশে ফিরে আসে। পরিবেশের বিভিন্ন জড় বস্তুর মধ্যে জমা হওয়া এই শক্তি তখন আবার উদ্ভিদের গ্রহণের উপযোগী হয়।
এভাবে বাস্তুতন্ত্রের শক্তির প্রবাহ উৎপাদকের মাধ্যমে চলতে থাকে। তাই বাস্তুতন্ত্রের প্রতিটি খাদ্যশিকলে উৎপাদকের ভূমিকাই মূখ্য। আর এভাবেই খাদ্যচক্রের মাধ্যমে বাস্তুতন্ত্রে প্রাকৃতিক শক্তিপ্রবাহ চলতে থাকে।
