| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘নিচের উদ্দীপকটি লক্ষ…’ যশোর বোর্ড ২০২৩ – অণুজীব, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

নিচের উদ্দীপকটি লক্ষ কর-
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৪
ম্যালেরিয়া পরজীবীর এরিথ্রোসাইটিক সাইজোগনী দশায় আংটির মত গঠনকে সিগনেট রিং বলা হয়।
ম্যালেরিয়া পরজীবীর জীবনচক্রে দুটি পোষকের প্রয়োজন হয়। একটি হল মেরুদন্ডী এবং অপরটি অমেরুদন্ডী।
মেরুদন্ডী পোষক (মানুষ) এর প্রয়োজনীয়তা: যৌন প্রজননের শেষ পর্যায়ে মশকীতে উৎপন্ন স্পোরোজয়েট পুনরায় মশকীর দেহে চক্র চালিয়ে যেতে অক্ষম হওয়ায় নতুন পোষকরূপী মানুষের প্রয়োজন। হেপাটিক ও এরিথ্রোসাইটিক সাইজোগনি সম্পন্ন হয়। মেরোজয়েট সৃষ্টিতে মেরুদন্ডী পোষকের প্রয়োজন। প্রজাতির ধরাবাহিকতা রক্ষার জন্য।
অমেরুদন্ডী পোষক (মশকী) এর প্রয়োজনীয়তা বা গুরুত্বঃ যৌন জীবনচক্রে এ পোষক অপরিহার্য। স্পোরোজয়েটগুলোক সাইজোগনি চক্রের জন্যে মেরুদন্ডী পোষক অর্থাৎ মানুষে পৌঁছানোর জন্য বাহক হিসেবে মশকী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জীবাণুকে পুষ্টিদান করে বলে মশকী পোষক হিসেবে প্রয়োজনীয়। যৌন জীবনচক্র সম্পাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সময়ের চেয়ে বেশী দিন বাঁচে বলে। অর্থাৎ ম্যালেরিয়ার জীবানুর জীবনচক্রে অযৌন ও যৌন চক্রের বিভিন্ন ধাপ এমনভাবে অভিযোজিত হয়েছে যার ফলে নির্দিষ্ট পোষক দেহের বাইরে ধাপগুলো চলতে পারে না, তাই জীবনচক্র সম্পাদনে দুটি পোষকের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য।
উদ্দিপকের "L" অনুজীব টি হচ্ছে ভাইরাস এবং এর সংখ্যা বৃদ্ধির কিছু ধাপ রয়েছে। ভাইরাস হলো প্রোটিন ও নিউক্লিক অ্যাসিড দিয়ে গঠিত অকোষীয়, অতিআণুবীক্ষণিক রোগজীবাণু বা রাসায়নিক বস্তু যা শুধুমাত্র উপযুক্ত পোষক কোষের অভ্যন্তরে সংখ্যাবৃদ্ধি করতে সক্ষম কিন্তু জীবকোষের বাইরে জড়পদার্থের মতো নিষ্ক্রিয় অবস্থায় বিরাজ করে। এর সংখ্যা বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে লাইটিক চক্র বলে। একে তিনটি ধাপে ভাগ করা যায়। এগুলো হলো:
১. সংক্রামণ পর্যায়: ব্যাকটেরিয়া কোষের সংস্পর্শে আসা হতে ভাইরাস DNA ব্যাকটেরিয়ামের কোষের অভ্যন্তরে প্রবেশ পর্যন্ত এ পর্যায়ের বিস্তৃতি।
i) স্পর্শক তন্তুর সাহায্যে এটি E. coli ব্যাকটেরিয়ামের গায়ে লেগে যায়।
ii) লেগে থাকা স্থানের কোষপ্রাচীর ছিদ্র হয়ে যায় এবং ভাইরাস শুধুমাত্র তার DNA ব্যাকটেরিয়াম কোষে অন্তঃক্ষেপ দ্বারা প্রবেশ করিয়ে দেয়।
চিত্র: লাইটিক চক্র
২. সংখ্যাবৃদ্ধি পর্যায়: ভাইরাস DNA ও প্রোটিন আবরণ গঠন এবং নতুন ভাইরাস গঠন পর্যন্ত এ পর্যায়ের বিস্তৃতি।
i) অতি অল্প সময়ের মধ্যে ভাইরাস DNA ব্যাকটেরিয়ামের এনজাইমকে এমনভাবে সংঘটিত করে যে তখন সেই কোষের ব্যাকটেরিয়ামের মধ্যে বেশি বেশি শুধু ভাইরাসের DNA এবং সেই সাথে প্রোটিন আবরণ তৈরি হতে থাকে।
ii) শেষ পর্যায়ে DNA ও প্রোটিন আবরণ মিলে নতুন ভাইরাস সৃষ্টি করে।
৩. বিগলন পর্যায়: ব্যাকটেরিয়ামের কোষপ্রাচীর ছিন্ন করে নতুন ভাইরাসগুলোর বের হয়ে আসাকে বিগলন পর্যায় বলে ।
i) সর্বশেষে ব্যাকটেরিয়ামের কোষ ছিন্ন করে নতুন ভাইরাসগুলো বের হয়ে আসে। এভাবে মাত্র ৩০ মিনিট সময়ের মধ্যে ৩০০ নতুন ভাইরাস সৃষ্টি হতে পারে।
উদ্দীপকের কলেরা রোগের জন্য দায়ী K অনুজীব হল ব্যাকটেরিয়া।
ব্যাকটেরিয়া হলো একটি আদিকোষী জীব । এদের কোন ঝিল্লিবদ্ধ অজ্ঞানু থাকে না । এদের নিউক্লিয়াস, মাইটোকনড্রিয়া ,ক্লোরোপ্লাস্ট, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম, গলজি কমপ্লেক্স , লাইসোজোম কোনটিই নেই কেবলমাত্র রাইবসোম আছে। ব্যাকটেরিয়া অত্যন্ত ক্ষুদ্রকার এবং অণুবীক্ষণ যন্ত্র ছাড়া এদের দেখা যায় না। শিল্পক্ষেত্রে ব্যাকটেরিয়ার গুরুত্ব অনেক বেশি। যা নিম্নরূপ:
১. চা, কফি, তামাক প্রক্রিয়াজাতকরণে: বিভিন্ন শিল্প ও বাণিজ্য ক্ষেত্র যেমন চা -কফি , তামাক প্রভৃতি প্রক্রিয়াজাতকরণের ক্ষেত্রে ব্যাকটেরিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
২.দুগ্ধজাত শিল্পে: দুগ্ধ জাত শিল্পে দুধ হতে মাখন, দই,পনির, ঘো, ছানা ইত্যাদি তৈরিতে ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার করা হয়।
৩.পাট শিল্পে: পাটের আঁশ পৃথক করার জন্য ব্যাকটেরিয়ার পচন কে প্রধান কাজ হিসেবে ধরা হয়।
৪.চামড়াশিল্পে: চামড়া হতে লোম ছাড়ানোর জন্য ব্যাকটেরিয়ার ভূমিকা অপরিসীম।
৫.বায়ো গ্যাস বা জৈব গ্যাস তৈরিতে: হেভি মেটাল পৃথক করনে ব্যাকটেরিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
৬.টেস্টিং সল্ট প্রস্তুতকরনে: টেস্টিং সল্ট প্রস্তুত করতেও ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার করা হয়। যা খাবার কে সুস্বাদু ও মুখরোচক করে।
৭.বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ প্রস্তুতকরনে: ভিনেগার , ল্যাকটিক অ্যাসিড, অ্যাসিটোন ইত্যাদি দিয়ে রাসায়নিক দ্রব্য প্রস্তুত করনের ক্ষেত্রেও শিল্প ক্ষেত্রে ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
সুতরাং একথা নির্দ্বিধায় বলা যায় যে, শিল্পক্ষেত্রে ব্যাকটেরিয়ার ব্যাবহার অনেক বহুল। যা শিল্প ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।