| ㅤ | A. Nayan10 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘নিচের উদ্দীপকটি লক্ষ…’ সিলেট বোর্ড ২০১৭ – অর্থনৈতিক রসায়ন, রসায়ন, রসায়ন ২য় পত্র (এইচএসসি)

নিচের উদ্দীপকটি লক্ষ কর :
এর অনুবন্ধী ক্ষারক
প্রমাণ গ্রিন হাউজ গ্যাস
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৫
অণু প্রতি গ্যাস ধ্রুবকের মানকে বোল্টজম্যান ধ্রুবক বলে।
চামড়ার ট্যানিং এ মিল্ক অব লাইম (Milk of Lime) গুরুত্বপূর্ণ। কারণ-
১. এটি চামড়ার পশম, নখ ও ক্যারাটাইনাস জাতীয় পদার্থ দূরীভূত করে।
২. কিছু দ্রবীভূত প্রোটিন, যেমন- মিউসিনকে বিমুক্ত করে।
৩. চামড়ার আঁশ বা ফাইবারকে ভালোভাবে আলাদা করে মসৃণতর করে।
৪. গ্রিজ জাতীয় পদার্থ ও ফ্যাটকে কিছু পরিমাণ নির্গত করে।
৫. কোলাজেন তৈরির মাধ্যমে ট্যানিং কার্যকরী করে।
উদ্দীপকের A যৌগটি অ্যামোনিয়া, NH3 (NH₄⁺ এর অনুবন্ধী ক্ষারক) B যৌগটি কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO₂) এবং উৎপন্ন C যৌগটি ইউরিয়া।
ইউরিয়া উৎপাদনে অ্যামোনিয়া (A) ও কার্বন ডাইঅক্সাইড (B) যেভাবে পরিবেশকে দূষিত করে তা নিচে বর্ণনা করা হলো- ইউরিয়া উৎপাদনের প্রতিটি ধাপে কোনো না কোনো দূষক পরিবেশকে দূষিত করে। এসব দূষকের মধ্যে গ্যাসীয়, তরল ও কঠিন দূষক রয়েছে। প্রাকৃতিক গ্যাসের দহনের মাধ্যমে গ্যাসীয় দূষক যেমন কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO₂) উৎপন্ন হয়। একই সাথে প্রাকৃতিক গ্যাস হতে H₂ গ্যাস তৈরি হয়। H₂ ও N₂ গ্যাসকে (বায়ু হতে সংগৃহীত) সংযুক্ত করে অ্যামোনিয়া (NH3) উৎপাদন করা হয়। NH, একটি বায়বীয় পদার্থ এবং ক্ষারীয়। এটি বাতাসে মিশে যেমন দূষণ ঘটাতে পারে তেমনি পানিতে মিশে এটি পানিকে ক্ষারীয় করে। অ্যামোনিয়া ও ইউরিয়া উৎপাদনের সময় অ্যামোনিয়া মিশ্রিত পানি নদীতে পড়লে পানি দূষণ ঘটে এবং মাছ মারা যায়। এছাড়া জমিতে ইউরিয়া সার প্রয়োগ করলে তা পানি দ্বারা বিয়োজিত হয়ে NH₃ উৎপন্ন করে। উৎপন্ন NH, মাটির নাইট্রিফাইং ব্যাকটেরিয়া দ্বারা জারিত হয়ে নাইট্রিক এসিডে পরিণত হয় যা মাটির ক্ষারের সাথে বিক্রিয়া করে নাইট্রেট লবণ উৎপন্ন করে। মানবদেহে নাইট্রেট আয়ন প্রবেশ করলে Blue baby syndrome রোগ, ক্যান্সার রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কাজেই ইউরিয়া শিল্প হতে নির্গত NH₃ পানি ও বায়ুদূষণ এবং মানবদেহে রোগ সৃষ্টিতে ভয়াবহ ভূমিকা রাখে।
উদ্দীপকের C যৌগটি ইউরিয়া (গ থেকে পাই)। নিচে ইউরিয়ার উৎপাদন প্রণালি সংশ্লিষ্ট সমীকরণসহ বর্ণনা করা হলো-
উৎপাদন প্রণালি: NH₃ ও CO₂ গ্যাসকে 3200 Psi চাপে 380°C তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করলে প্রথমে অ্যামোনিয়াম কার্বায়েট ও পরে ইউরিয়া উৎপন্ন হয়।
প্রাকৃতিক গ্যাস ও বায়ু হতে H₂ ও N₂ কে সংগ্রহ করা হয়। প্রাকৃতিক গ্যাসের মধ্যে ভেজাল থাকে বলে একে সালফার গার্ড এর মধ্য দিয়ে চালনা করে সালফার বিমুক্ত করা হয়।
এ প্রক্রিয়াটি রিফর্মিং প্লান্টে সম্পন্ন করা হয়। এ গ্যাস মিশ্রণকে কার্বনেট দ্রবণে শোষণ করে CO₂ অপসারিত করা হয়। অবশিষ্ট গ্যাসকে (N2, H2, CO) কপার লিকারের ভিতর দিয়ে চালনা করে CO অপসারিত হয়। অবশিষ্ট গ্যাসে 1:3 অনুপাতে N₂ ও H₂ বৰ্তমান থাকে। প্রাপ্ত N₂ ও H₂ কে 1000 atm চাপে ফিল্টার বক্সের মধ্যে চালনা করা হয়। ফলে ভেজাল পৃথক হয়ে যায়। বায়ুকে এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয় যাতে N₂ ও H₂ প্রবাহে তাদের মোলার অনুপাত 1: 3 থাকে।