নিচের উদ্দীপকটি লক্ষ কর-
এক্সপ্লান্ট: টিস্যুকালচারের উদ্দেশ্যে উদ্ভিদের যে অংশ পৃথক করে নিয়ে ব্যবহার করা হয় তাকে এক্সপ্ল্যান্ট বলে।
বিভিন্ন প্রকার গাছপালা ও প্রাণীদের মধ্যে বিদ্যমান জৈবিক আন্তঃসম্পর্কের ফলে যদি সহযোগীদের উভয়ই একে অন্যের দ্বারা উপকৃত হয় তাহলে তাকে মিউচুয়ালিজম বলে। যেমন- শৈবাল ও ছত্রাকের আন্তঃসম্পর্কের ফলে সৃষ্ট লাইকেন মিউচুয়ালিজমের উদাহরণ।
উদ্দীপকে 'P' দ্বারা নির্দেশিত প্রযুক্তিটি হলো টিস্যু কালচার প্রযুক্তি। নিম্নে টিস্যু কালচার প্রযুক্তির ধাপসমূহ ব্যাখ্যা করা হলো-
i. মাতৃ উদ্ভিদ নির্বাচন: উন্নত গুণসম্পন্ন স্বাস্থ্যবান এবং রোগমুক্ত উদ্ভিদকে এক্সপ্ল্যান্টের জন্য নির্বাচন করা হয়।
ii . আবাদ মাধ্যম তৈরি: উদ্ভিদের বৃদ্ধির জন্য অত্যাবশ্যকীয় খনিজ পুষ্টি, ভিটামিন, ফাইটোহরমোন, সুক্রোজ এবং প্রায় কঠিন মাধ্যম (semi solid medium) তৈরির জন্য জমাট বাঁধার উপাদান।
iii . জীবাণুমুক্ত আবাদ প্রতিষ্ঠা: আবাদ মাধ্যমকে কাচের পাত্রে (টেস্টটিউব বা কনিক্যাল ফ্লাস্ক) নিয়ে তুলা বা প্লাস্টিকের ঢাকনা দিয়ে মুখ বন্ধ করা হয়। পরবর্তীতে অটোক্লেভ(Autoclave) যন্ত্রে 121° সে. তাপমাত্রায় রেখে, 15 1b/sq. inch চাপে 20 মি. রেখে জীবাণুমুক্ত করা হয়। এই পর্যায়ে আবাদে স্থাপিত টিস্যু বরাবর বিভাজনের মাধ্যমে সরাসরি অণুচারা (plantlets) তৈরি হয় বা ক্যালাস (callus) বা অবয়বহীন টিস্যুমণ্ডে পরিণত হয়। এই টিস্যুমণ্ড থেকে পরবর্তী সময়ে পর্যায়ক্রমে একাধিক অণুচারা উৎপন্ন হয়।
iv. মূল উৎপাদক মাধ্যমে স্থানান্তর: এ সমস্ত উৎপাদিত চারাগাছে যদি মূল উৎপন্ন না হয়, তবে একটি নির্দিষ্ট উচ্চতা লাভের পর বিটপগুলো বিচ্ছিন্ন করে নেওয়া হয় এবং তাদেরকে পুনরায় মূল উৎপাদনকারী আবাদ মাধ্যমে স্থাপন করা হয়।
v. প্রাকৃতিক পরিবেশ তথা মাঠ পর্যায়ে স্থানান্তর: পূর্ণাঙ্গ চারাগুলো সজীব এবং সবল হয়ে উঠলে সেগুলোকে এক পর্যায়ে প্রাকৃতিক পরিবেশে মাটিতে লাগানো হয়।
উদ্দীপকে দ্বারা নির্দেশিত প্রযুক্তিটি হলো রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তি। নতুন ও উন্নত বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন উদ্ভিদ সৃষ্টিতে রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। নিম্নে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
i. এই প্রযুক্তির সাহায্যে ক্ষতিকর পোকামাকড় প্রতিরোধী ফসলের জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। Bacillus thuringiensis (Bt) নামক ব্যাকটেরিয়ার জিন শস্যে প্রবেশ করানোর কারণে জেনেটিকভাবে পরিবর্তিত শস্যসমূহকে Bt Corn, Bt Cotton. - বিটি ধান (চীনে) ইত্যাদি উদ্ভাবিত হয়েছে। এসব ফসল লেপিডোপটেরা এবং কলিওপটেরা বর্গের অন্তর্ভুক্ত ক্ষতিকর কীটপতঙ্গের বিরুদ্ধে প্রতিরোধক্ষম।
ii. এই প্রযুক্তির সাহায্যে ভাইরাস প্রতিরোধ ফসলের জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। যেমন- ভাইরাল কোট প্রোটিন (Coat Protein) জিন স্থানান্তরের মাধ্যমে টমেটো মোজাইক ভাইরাস (ToMV), টোবাকো মোজাইক ভাইরাস (TMV) এবং টোবাকো মাইল্ড গ্রিন মোজাইক ভাইরাস (TMGMV) প্রতিরোধী ফসলের জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। রিং স্পট ভাইরাস (PRSV) প্রতিরোধ সক্ষম পেপের জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে।
iii. জিনগত পরিবর্তনের মাধ্যমে আগাছানাশক রাসায়নিক পদার্থের বিরুদ্ধে সহনশীলতাসম্পন্ন (Herbicide tolerant) ভুট্টা; তুলা, টমেটো ইত্যাদি ফসলের জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে।
iv. জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে একই উদ্ভিদে একাধিক বৈশিষ্ট্য (Trait) অনুপ্রবেশ করানো যায়। বাণিজ্যিকভাবে এখন এ ধরনের ট্রান্সজেনিক উদ্ভিদ সহজলভ্য হয়েছে। যেমন তুলা এবং ভুট্টার মধ্যে একই সাথে আগাছানাশক সহিষ্ণু (Herbicide tolerant) এবং পোকামাকড় প্রতিরোধী (Insect resistant) বৈশিষ্ট্য অনুপ্রবেশ করানো হয়েছে।
v. জিনগত রূপান্তরের মাধ্যমে ফসলের পুষ্টিমান উন্নয়ন করা হয়েছে। যেমন, ধানে ভিটামিন এ তথা বিট-ক্যারোটিন জিন স্থনান্তর করা হয়েছে। এই ধানের চাল থেকে প্রস্তুত ভাত খেলে আলাদা করে আর ভিটামিন। খেতে হবে না। ধানে লৌহ বা আয়রন যোগ করারও প্রচেষ্টা অব্যাহত হয়েছে। লবণাক্ততা এবং খরা সহনশীল জিন স্থানান্তরের মাধ্যমে জিনগত পরিবর্তন (Genetic modification) ঘটিয়ে বিভিন্ন ফসলের জাত উদ্ভাবনের চেষ্টা চলছে।
