| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘নিচের উদ্দীপকটি লক্ষ…’ সিলেট বোর্ড ২০২৫ – প্রাণীর বিভিন্নতা ও শ্রেণিবিন্যাস, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

নিচের উদ্দীপকটি লক্ষ কর-
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ১
প্রাণী শ্রেণিবিন্যাসের মূল বা ভিত্তি একক হচ্ছে প্রজাতি। Earnst Mayr (1969) এর মতে "প্রাকৃতিক পরিবেশে কোনো জীবগোষ্ঠী যদি নিজেদের মধ্যে যৌন মিলন ঘটিয়ে জননক্ষম সন্তান উৎপাদনে সক্ষম হয় কিন্তু অন্য কোনো গোষ্ঠীর সাথে প্রজননগতভাবে বিচ্ছিন্ন বা আলাদা থাকে তখন ঐ ধরনের জীবগোষ্ঠীকে প্রজাতি বলে।” যেমন-পৃথিবীর সকল মানুষ, বানর, ব্যাঙ, আম, কাঁঠাল গাছ একেকটি প্রজাতির অন্তর্গত।
Urochordata উপপর্ব প্রায় ২৮০৪টি প্রজাতি নিয়ে গঠিত। এ উপপর্বের প্রাণীদের পৃথিবীর সব সমুদ্র উপকূলে অগভীর পানিতে পাওয়া যায়। এ উপপর্বের কিছু কিছু প্রজাতি সাইফন দিয়ে সজোরে পানি উৎসারিত করে বলে Urochordata উপপর্বের প্রাণীদের সাগর ফোয়ারা বলা হয়।
উদ্দীপকে উল্লেখিত 'X' নমুনাটি হলো অক্টোপাস যা Mollusca পর্বের অন্তর্ভুক্ত। Mollusca পর্বের শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য নিচে উল্লেখ করা হলো-
১. এ পর্বের প্রাণীদের দেহ অপ্রতিসম বা দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম।
২. দেহ নরম ও অখণ্ডায়িত।
৩. দেহ সাধারণত এক বা একাধিক খোলক দ্বারা আবৃত।
৪. দেহের অঙ্কীয় দিকে পেশিযুক্ত পদ বিদ্যমান যা চলন, গর্ত করা বা সাঁতারের জন্য বিভিন্নভাবে অভিযোজিত।
৫. রক্ত সংবহনতন্ত্র অর্ধমুক্ত ধরনের অর্থাৎ রক্তনালি ও হিমোসিল উভয়ই থাকে।
৬. ফুলকা বা ম্যান্টল পর্দা দ্বারা শ্বসন সম্পন্ন হয়, স্থলচরদের ক্ষেত্রে পালমোনারি থলির বিকাশ ঘটে।
৭. রক্তে হিমোসায়ানিন ও অ্যামিবোসাইট কণিকা থাকে।
৮. মলাস্কাজাতীয় প্রাণী ভিন্ন লিঙ্গবিশিষ্ট এবং ডিম পাড়ে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত নমুনা- 'Y' প্রাণীটি হলো কেঁচো যা Annelida পর্বের অন্তর্ভুক্ত এবং 'Z' নমুনার প্রাণীটি হলো মানুষ যা Chordata পর্বের অন্তর্ভুক্ত। মানুষ, কেঁচো অপেক্ষা উন্নততর নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
১. মানুষের ক্ষেত্রে ভ্রূণাবস্থায় অথবা আজীবন পৃষ্ঠমধ্যরেখা বরাবর দণ্ডাকার ও স্থিতিস্থাপক নিরেট নটোকর্ড থাকে এবং পূর্ণাঙ্গ অবস্থায় এটি মেরুদণ্ডে পরিণত হয়, যা উন্নত প্রাণীদের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য। এ বৈশিষ্ট্যগুলো কেঁচোর ক্ষেত্রে অনুপস্থিত। তাই এরা অনুন্নত প্রাণী।
২. মানুষের ক্ষেত্রে স্নায়ুরজ্জুটি পরিবর্তিত হয়ে সম্মুখ প্রান্তে মস্তিষ্কে ও পশ্চাতে সুষুম্নাকাণ্ড গঠন করে। এ বৈশিষ্ট্যগুলো উন্নত প্রাণীর প্রধান বৈশিষ্ট্য, যা কেঁচোর অনুপস্থিত।
৩. মানুষের চলন, খাদ্যগ্রহণ প্রক্রিয়া উন্নত ধরনের। কেঁচোর চলন ও খাদ্যগ্রহণ প্রক্রিয়া নিম্নশ্রেণির প্রাণীর ন্যায়।
৪. মানুষের পৃথক পৃথক সুগঠিত সংবহন তন্ত্র রয়েছে। যেমন-পরিপাকতন্ত্র, রেচনতন্ত্র, জননতন্ত্র ও রক্তসংবহনতন্ত্র রয়েছে। কেঁচোর পৃথক পৃথক কোনো সংবহন তন্ত্র নেই তবে এদের ক্ষেত্রে একটি বা দুটি তন্ত্রের মাধ্যমে শারীরবৃত্তীয় সকল কার্য সম্পন্ন হয়।
অতএব, উপরিউক্ত আলোচনা থেকে স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করা যায় যে, কেঁচো অপেক্ষা মানুষ অধিক উন্নত প্রাণী।