নিচের উদ্দীপকটি লক্ষ করো-
জীবদেহ বা জৈব অণুর রাসায়নিক বন্ধন ছিন্ন করার মাধ্যমে প্রাপ্ত শক্তিই হচ্ছে জীবনীশক্তি বা জৈবশক্তি।
সালোকসংশ্লেষণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। উদ্ভিদ যতো বেশি পাবে সালোকসংশ্লেষণের হার ততো বৃদ্ধি পাবে। বায়ুমণ্ডলে ০.০৩% এবং পানিতে ০.৩% থাকে। অর্থাং বায়ুমণ্ডলের তুলনায় পানিতে বেশি থাকে। তাই স্থলজ উদ্ভিদের তুলনায় জলজ উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণের হার বেশি হয়।
উদ্দীপকের "X" উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত কোষীয় অঙ্গাণুটি হলো মাইটোকন্ড্রিয়া। নিচে মাইটোকন্ড্রিয়ার গঠন চিত্রসহ ব্যাখ্যা করা হলো-
১. মাইটোকন্ড্রিয়া গোলাকার বা দণ্ডাকার হয়ে থাকে।
২. মাইটোকন্ড্রিয়া দুই স্তরবিশিষ্ট আবরণী বা ঝিল্লি দিয়ে ঘেরা।
৩. এর ভিতরের স্তরটি ভিতরের দিকে ভাঁজ হয়ে থাকে। এদের ক্রিস্টি বলে।
৪. ক্রিস্টির গায়ে বৃন্তযুক্ত গোলাকার বস্তু থাকে। এদের অক্সিজোম বলে।
৫. অক্সিজোমে উৎসেচকগুলো সাজানো থাকে।
৬. মাইটোকন্ড্রিয়নের (এক বচন) ভিতরে থাকে ম্যাট্রিক্স।
৭. জীবের শ্বসনকার্যে সাহায্য করা মাইটোকন্ড্রিয়ার প্রধান কাজ।
৮. শ্বসনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ক্রেবস চক্রের বিক্রিয়াগুলো মাইটোকন্ড্রিয়াতে সম্পন্ন হয়।
৯. মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের 'শক্তি উৎপাদন কেন্দ্র' বা 'পাওয়ার হাউজ' বলা হয়।
উদ্দীপকের Y অঙ্গাণুটি হলো ক্লোরোপ্লাস্ট। ক্লোরোপ্লাস্ট থেকে উৎপাদিত বস্তু হলো শর্করা (গ্লুকোজ) যা পরবর্তীতে X অঙ্গাণু মাইটোকন্ড্রিয়াতে সংঘটিত সবাত শ্বসনের শেষের তিনটি ধাপ যথা- অ্যাসিটাইল কো-এ সৃষ্টি, ক্রেবসচক্র ও ইলেকট্রন প্রবাহতন্ত্রের মাধ্যমে ATP উৎপন্ন করে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
১. অ্যাসিটাইল Co-A সৃষ্টি : গ্লাইকোলাইসিস পর্যায়ে সৃষ্ট প্রতি অণু পাইরুভিক এসিড পর্যায়ক্রমে বিক্রিয়া শেষে ২ কার্বন বিশিষ্ট ১ অণু অ্যাসিটাইল কো এনজাইম এ, এক অণু এবং এক অণু NADH উৎপন্ন করে। দুই অণু পাইরুভিক এসিড হতে দুই অণু অ্যাসিটাইল কো এনজাইম এ, দুই অণু এবং দুই অণু উৎপন্ন হয়।
২. ক্রেবস চক্র: এ পর্যায়ে অ্যাসিটাইল Co-A মাইটোকন্দ্রিয়াতে প্রবেশ করে এবং ক্রেবস চক্রে অংশগ্রহণ করে। এ চক্রের সকল বিক্রিয়াই মাইটোকন্ড্রিয়াতে সংঘটিত হয়। এই চক্রে এক অণু অ্যাসিটাইল Co-A থেকে দুই অণু কার্বন ডাইঅক্সাইড, তিন অণু , এক অণু এবং এক অণু GTP উৎপন্ন হয়। (অর্থাৎ দুই অণু অ্যাসিটাইল Co -A থেকে চার অণু অণু , দুই অণু এবং দুই অণু GTP উৎপন্ন হয়।)
৩. ইলেকট্রন প্রবাহতন্ত্র : গ্লাইকোলাইসিস, অ্যাসিটাইল কো-এ সৃষ্টি এবং ক্রেবস চক্রে (বিজারিত NAD), (বিজারিত FAD) উৎপন্ন হয়, এই ধাপে সেগুলো জারিত হয়ে ATP, পানি, উচ্চশক্তির ইলেকট্রন এবং প্রোটন উৎপন্ন হয়। উচ্চ শক্তিসম্পন্ন ইলেকট্রনগুলো ইলেকট্রন প্রবাহতন্ত্রের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় যে শক্তি প্রদান করে সেই শক্তি ATP তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
