| ㅤ | A. Nayan18 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘নিচের উদ্দিপকটি পড়…’ সরকারি আজিজুল হক কলেজ ২০২৪ – জনসংখ্যা, ভূগোল, ভূগোল ২য় পত্র (এইচএসসি)

নিচের উদ্দিপকটি পড় এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে অর্থনৈতিক উন্নতির সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ। ইহা বিশ্লেষণ করতে গিয়ে ওয়ার্নার থম্পসন একটি জনবিবর্তন মডেল প্রদান করেন। যেখানে তিনি জন্ম ও মৃত্যুহার তথা জনসংখ্যা বৃদ্ধি পর্যালোচনা করেন।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ২
পরিণত বয়সে সামান্য অসুখ-বিসুখ বা আঘাতেই মানুষের মৃত্যু ঘটে, একে স্বাভাবিক মৃত্যু বলে।
যখন জনসংখ্যা জনসম্পদে পরিণত হয় সেই জনসংখ্যাকে সম্পদ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।
জনসংখ্যাকে সম্পদে পরিণত করতে হলে জনসম্পদ বা জনশক্তিকে রূপান্তর করতে হবে।এর জন্য প্রয়োজন খাদ্য শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের। শুধু শিক্ষা দিয়েই জনশক্তি সৃষ্টি সম্ভব না শিক্ষার পাশাপাশি প্রশিক্ষণেরও প্রয়োজন।
উদ্দীপকে উল্লেখিত মডেল হল জনসংখ্যা ট্রানজিকশনাল মডেল। নিম্নে এই মডেলের প্রাথমিক ও দ্বিতীয় পর্যায়ে বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করা হলো :
প্রথম বা প্রাক শিল্পায়ন যুগ: এই সময় উচ্চ জনসংখ্যার হার এবং উচ্চ মৃত্যুহার ছিল এজন্য জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কম ছিল। এ সময় ও জন্ম নিয়ন্ত্রণের অভাব ছিল। পুষ্টিহীনতা ও সংক্রামক ব্যাধি ছিল।
দ্বিতীয় পর্যায়: উচ্চ জন্মহার এবং মৃত্যুহার হ্রাস এজন্য জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার বেশি। এই সময় চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়ন হয়, শিশু মৃত্যুর হার হ্রাস পায় অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয়।
ট্রানজেকশনাল মডেলের আলোকে বাংলাদেশের অবস্থান নিম্নে বিশ্লেষণ করা হলো-
জনমিতিক ট্রানজেকশন মডেল বা জনসংখ্যার পরিবৃত্ত মডেলটি জনসংখ্যা পরিবর্তন প্রক্রিয়ার বর্ণনার সাথে সম্পর্কিত।এটি এমন একটি মডেল যা সময়ের সাথে সাথে জনসংখ্যার পরিবর্তন বর্ণনা করে। সময়ের পরিবর্তনের সাথে কোন দেশ বা অঞ্চলের জন্ম ও মৃত্যুহার পরিবর্তিত হলে যে সংখ্যা গত পার্থক্য সৃষ্টি হয় সেটি ট্রাঞ্জিকশনাল মডেল থেকে বোঝা যায়। ১৯১১ সাল থেকে ১৯৫১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ট্রাঞ্জিকশনাল মডেলের প্রথম পর্যায়ে এ সময় জন্ম ও মৃত্যুহার বেশি থাকাই জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কম ছিল ১৯৫১ সালের পর থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার বেশি থাকায় সেটি জনসংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়েছে ১৯৫১ সালে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিল মাত্র ৪৪.২ মিলিয়ন যা ১৯৯১ সালে দ্বিগুণের বেশি হয়ে দাঁড়িয়েছে ১১১.৫ মিলিয়ন। আবার ১৯৯১ সালের পর থেকে বাংলাদেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ক্রমান্বয়ে কমতে থাকে যা ২০১১ সালে ১.৪৭ পারসেন্ট এ দাঁড়ায় এ সময় জন্ম ও মৃত্যুহার ক্রমান্বয়ে হ্রাস পেতে থাকে। বর্তমানে বাংলাদেশ দ্রুত আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে উন্নতি লাভ করেছে। শিল্প ক্ষেত্রেও অগ্রগতি লাভ করেছে এবং নতুন নতুন শিল্প স্থাপিত হচ্ছে। বাংলাদেশ চিকিৎসা ক্ষেত্রেও অনেক দূর এগিয়েছে মৃত্যু হার কমেছে সুতরাং বলা যায় যে বাংলাদেশ জনমিতিক ট্রানজেকশন মডেলের দ্বিতীয় পর্যায়ে শেষ প্রান্তে রয়েছে এবং খুব দ্রুতই তৃতীয় পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত হবে।