| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘নিলয় শারীরিকভাবে অতটা…’ ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজ ২০২৬ – যৌবনের গান, গদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

নিলয় শারীরিকভাবে অতটা শক্তিশালী না হলেও অটুট মনোবলের অধিকারী। কেবল মনের জোরেই সে সকল অন্যায়-অনিয়মের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় সবার আগে। তার জমজ ভাই নিবিড় শারীরিকভাবে যেমন মানসিকভাবে তেমন শক্তিমত্তার অধিকারী নয়। যুবক বয়সেও যেকোনো অন্যায়-অসংগতি দেখলে এগিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে সে পিছিয়ে পড়ে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১২
সেন বংশের শেষ রাজা ছিলেন লক্ষ্মণ সেন।
প্রশ্নোক্ত বাক্যে প্রাবন্ধিক বলতে চেয়েছেন- যেখানে যৌবনের' তেজদীপ্ত শক্তি নেই, সেখানে দুঃখের অন্ধকার বিরাজমান।
'যৌবনের গান' রচনায় লেখক তারুণ্যশক্তির জয়গান গেয়েছেন। কারণ যৌবন হচ্ছে অফুরন্ত প্রাণশক্তির আধার। যৌবন মানুষের জীবনকে গতিশীল ও প্রত্যাশাময় করে তোলে। তারুণ্যশক্তি বৃদ্ধি পেলে দেশ দ্রুত উন্নতির দিকে অগ্রসর হয়। অন্যদিকে, তারুণ্যহীন জীবন নিঃসাড়। তখন জীবন গতিশূন্য হয়ে পড়ে। জীবনের ছন্দপতন ঘটে। মানবজীবন ধীরে ধীরে অন্ধকারে ছেয়ে যায়।..
উদ্দীপকে উল্লিখিত নিলয় চরিত্রটি 'যৌবনের গান' প্রবন্ধের তারুণ্যের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।
'যৌবনের গান' প্রবন্ধে লেখক তারুণ্যের গুণকীর্তন করেছেন। শারীরিক শক্তির চেয়ে লেখক মানসিক শক্তিকে অধিক গুরুত্ব দিয়েছেন।
উদ্দীপকের নিলয় চরিত্রটির মধ্যে তারুণ্যের মনোবল লক্ষণীয়। শারীরিকভাবে অক্ষম হলেও অটুট মানসিক শক্তির অধিকারী সে। কেবল মনের জোরেই সে সব অন্যায় ও অনিয়মের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়।
'যৌবনের গান' প্রবন্ধে লেখক সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় অগ্রগতিতে তারুণ্যের অংশগ্রহণের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছে। তিনি তারুণ্য বলতে মানসিক সবলতাকে বুঝিয়েছেন। সমাজকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য দরকার দৃঢ় মনোবল। মানসিকভাবে দুর্বলরা কখনোই সাহসী পদক্ষেপ নিতে পারে না। তাই লেখক সব জড়তা-ভীরুতা পেছনে ফেলে দৃঢ় মনোবল নিয়ে তারুণ্যশক্তিকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। এভাবে দেখা যাচ্ছে যে, উদ্দীপকের নিলয় চরিত্রটি 'যৌবনের গান' প্রবন্ধের তারুণ্যের মানসিকতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
"বার্ধক্যকে সব সময় বয়সের ফ্রেমে বাঁধা যায় না"- 'যৌবনের গান' প্রবন্ধের এ উক্তিটি উদ্দীপকের আলোকে বলা যায় যে, নিলয় হলো তারুণ্যের অধিকারী এবং নিবিড় হলো বার্ধক্যে জীর্ণ।
'যৌবনের গান' প্রবন্ধে লেখক তরুণ প্রজন্মকে উজ্জীবিত হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তরুণ প্রজন্ম এগিয়ে এলেই দেশের অগ্রগতি সম্ভব। তাই তরুণদের সমাজের প্রতি দায়িত্ববান হতে হবে। স্বভাব-বৈশিষ্ট্যে যারা যুবক প্রাবন্ধিক মূলত তাদেরই আহ্বান করেছেন।
উদ্দীপকের নিলয় শারীরিকভাবে দুর্বল হলেও অটুট মনোবলের অধিকারী। সমাজের সব অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে সে সোচ্চার। অন্যদিকে তার যমজ ভাই শারীরিকভাবে শক্তিশালী হয়েও মানসিকভাবে তেমন শক্তিমত্তার অধিকারী নয়। অন্যায়-অবিচার দেখলে সে পিছিয়ে আসে। 'যৌবনের গান' প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক এজন্যই বার্ধক্যকে যে বয়সের ফ্রেমে বাঁধা যায় না সেই বিষয়ে আলোকপাত করেছেন।
'যৌবনের গান' প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক তারুণ্যকে শুধু বয়সের কাঠামোতে ফেলে বিচার করেননি। যে তরুণ মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত, তার তুলনায় একজন বৃদ্ধ শ্রেয়। আবার কখনো কখনো দেখা যায়, বয়স্করা সমাজে অবিচারের বিরুদ্ধে সামনে থেকে লড়াই করছেন। বয়সে তরুণ হয়েও যদি পৃথিবী ও সমাজকে বদলে দেওয়ার ইচ্ছাশক্তি না জাগে, তাহলে সেই তরুণ বৃদ্ধের চেয়েও অধম। তাই প্রাবন্ধিক বলেছেন তারুণ্যকে সব সময় বয়সের ফ্রেমে বাঁধা যায় না। উদ্দীপকের নিলয় শারীরিকভাবে সক্ষম না হলেও তারুণ্যের পরিচয় দিয়েছে। অথচ তার যমজ ভাই নিবিড় শারীরিকভাবে সক্ষম হয়েও অন্যায়ের প্রতিবাদ করে না। তাই বলা যায় যে, বার্ধক্যকে সব সময় বয়সের ফ্রেমে বাঁধা যায় না। সুতরাং 'যৌবনের গান' প্রবন্ধের এই উক্তিটি যথার্থ।