| ㅤ | A. Nayan10 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘নিম্নের লেখচিত্রটি লক্ষ…’ ঢাকা বোর্ড ২০১৭ – পরিবেশ রসায়ন, রসায়ন, রসায়ন ২য় পত্র (এইচএসসি)

নিম্নের লেখচিত্রটি লক্ষ কর এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ১
বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাতাসের নাইট্রোজেন মাটিতে নিবন্ধিত হওয়ার প্রক্রিয়াকে নাইট্রোজেন ফিক্সেশন বলা হয়।
লুইস মতবাদ অনুসারে, যেসব প্রশম অণু বা আয়ন ইলেকট্রন জোড় গ্রহণ করতে পারে তাদেরকে এসিড বলে।
AlCl3 যৌগে Al পরমাণুর যোজ্যতা স্তর ইলেকট্রন দ্বারা অষ্টক অপূর্ণ থাকায় অষ্টক পূরণের জন্য Al পরমাণু লুইস ক্ষারক থেকে একজোড়া মুক্তজোড় ইলেকট্রন গ্রহণ করে। এজন্য AlCl3 একটি লুইস এসিড।
উদ্দীপকের (I) নং গ্যাস ও (II) নং গ্যাস যথাক্রমে ও , যা উভই বাস্তব গ্যাস। এ গ্যাসদ্বয়ের রেখাচিত্র অনুভূমিক না হয়ে বক্র হয়। এর কারণ উক্ত অ্যামাগা বক্ররেখা দ্বারা ব্যাখ্যা করা যায়। যা নিম্নরূপ-
প্রদত্ত লেখচিত্রটি হতে দেখা যায়, আদর্শ গ্যাসের ক্ষেত্রে চাপ (P) পরিবর্তিত হলেও PV অপরিবর্তিত থাকে। অর্থাৎ PV বনাম P রেখাটি P অক্ষের সমান্তরাল হয়। কিন্তু বাস্তব গ্যাসের ক্ষেত্রে চাপের পরিবর্তনের সাথে সাথে PV এর মান পরিবর্তিত হয়। তাহলে বাস্তব গ্যাস CO₂ ও N₂ গ্যারে ক্ষেত্রে চাপ বৃদ্ধির সাথে সাথে প্রথমে PV এর মান আর্দশ মান হতে ক্রমাগত কমতে থাকে এবং এক সময় তা একটি ন্যূনতম মানে পৌঁছে। তারপর চাপ বৃদ্ধির সাথে বাড়তে থাকে এবং আদর্শ মান অপেক্ষা বেশি হয় এবং আদর্শ আচরণ হতে বিচ্যুতি হয়। এভাবে চাপ বৃদ্ধির ফলে আন্তঃআণবিক বল বৃদ্ধি পায় এবং আয়তন হ্রাস পায়। চাপ আরো বৃদ্ধি করলে অণুসমূহের মধ্যে বিকর্ষণ বল কার্যকর হতে শুরু করে। বিকর্ষণ বল আকর্ষণ বলের চেয়ে প্রাধান্য লাভ করলে , সমতাপীয় রেখা তথা ভগ্মরেখা অতিক্রম করে উপরের দিকে বৃদ্ধি পেতে থাকে।
এ কারণেই ও গ্যাসদ্বয়ের রেখাচিত্র অনুভূমিক না হয়ে বক্র হয়।
উদ্দীপকের I নং গ্যাসটি কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO₂)। গ্রিন হাউজ প্রভাব সৃষ্টিতে CO₂ গ্যাসটির ভূমিকা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো-
গ্রিন হাউজ প্রভাব সৃষ্টিতে CO₂ গ্যাসের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি (প্রায় ৫০ ভাগ)। বায়ুমণ্ডলে থাকা CO₂ গ্যাস লক্ষ কোটি বছর যাবৎ উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ দ্বারা শোষিত হয়ে হ্রাস পেয়ে প্রায় 0.029% এ স্থির ছিল। কিন্তু বিগত 170 বছর যাবৎ মানুষের জীবাশ্ম জ্বালানি কয়লা, পেট্রোলিয়াম অধিক হারে ব্যবহার ও বনাঞ্চল ধ্বংসের কারণে CO2 গ্যাস বায়ুমণ্ডলে বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় 0.04% হয়েছে যা 33% বৃদ্ধি হারের সমতুল্য। এ কারণে বিগত 50 বছরে 0.6 °C হারে গ্লোবাল তাপমাত্রা বেড়েছে। কারণ 33% CO2 গ্যাসের বৃদ্ধি বিকিরিত IR রশ্মির তাপ অধিক পরিমাণে শোষণ করেছে। শোষিত তাপের 20% বায়ুর তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে এবং ৪০% সমুদ্রের পানি বাষ্পীকরণে খরচ হয়েছে। বায়ুমণ্ডলে CO₂ বৃদ্ধি এভাবে অব্যাহত থাকলে আগামী এক শতকের মধ্যে CO₂ এর পরিমাণ বায়ুমণ্ডলে দ্বিগুণ হবে এবং পৃথিবীর তাপমাত্রা প্রায় 3.8 °C বৃদ্ধি পাবে যা পৃথিবীর প্রাকৃতিক ভারসাম্যের জন্য হুমকিস্বরূপ।
উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, গ্রিন হাউজ প্রভাব সৃষ্টিতে CO₂ গ্যাসের ভূমিকা সর্বাধিক।