| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘নির্বাচনের ‘ক’ প্রার্থী…’ নটরডেম কলেজ ২০২৬ – মূল্যবোধ, আইন, স্বাধীনতা ও সাম্য, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র (এইচএসসি)

নির্বাচনের ‘ক’ প্রার্থী এক জনসভায় বলেন, “গণতন্ত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ধারণ করে। আপনারাই ভোটের মাধ্যমে ঠিক করবেন আমি জয়ী হব কি না। ফলাফল যাই হোক, আমি তা মাথা পেতে নেব। পাশাপাশি, বিরোধী দলের গঠনমূলক সমালোচনা ও পরামর্শ আমি সদয়ভাবে গ্রহণ করব। সংবিধান অনুসরণ করেই আমি দেশের সুশাসন ও ন্যায়ের ভিত্তি প্রতিষ্ঠা করতে চাই।”
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৩
সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত যেসব সুযোগ-সুবিধা ভোগের মাধ্যমে নাগরিকের ব্যক্তিত্বের পূর্ণ বিকাশ ঘটে, তাকে অধিকার বলে।
রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া বা শাসক নির্বাচনের অংশ হিসেবে জনগণ যেসব অধিকার ভোগ করে, তাকে রাজনৈতিক অধিকার বলে।
যেমন- ভোট প্রদানের অধিকার, নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অধিকার, রাজনৈতিক সংগঠন গড়ার অধিকার, সরকারি চাকরি লাভের অধিকার ইত্যাদি। বাংলাদেশ সংবিধানে নাগরিকদের রাজনৈতিক অধিকার সংরক্ষিত করা হয়েছে।
উদ্দীপকে বর্ণিত 'ক' গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত।গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ হলো এমন এক ধরনের বিশ্বাস ও আচরণ যা গণতন্ত্রকে শক্তিশালী ও কার্যকর করে। এর মধ্যে রয়েছে পরমতসহিষ্ণুতা, সহনশীলতা, আইনের মেনে চলা এবং সংখ্যাগরিষ্ঠের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানানো। এটি নাগরিক ও রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও দায়িত্ববোধ তৈরি করে একটি সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলে।
উদ্দীপকের 'ক' প্রার্থী জনসভায় বলেন যে, গণতন্ত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ধারণ করে। তিনি নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক তা মাথা পেতে নেওয়ার ঘোষণা দেন, যা রাজনৈতিক সহনশীলতা ও পরমতসহিষ্ণুতার পরিচয় দেয়। এছাড়া তিনি বিরোধী দলের গঠনমূলক সমালোচনা ও পরামর্শ সদয়ভাবে গ্রহণ করার কথা বলেছেন, যা একটি উদারনৈতিক গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বহিঃপ্রকাশ। সংবিধান অনুসরণ করে সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার তার গণতান্ত্রিক চেতনার গভীরতাকে প্রকাশ করে। তার এই বক্তব্য ও মানসিকতা থেকে স্পষ্ট হয় যে, তিনি ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থের চেয়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও জনমতকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন, যা মূলত গণতান্ত্রিক মল্যবোধেরই প্রতিফলন।
হ্যাঁ, আমি মনে করি উদ্দীপকে বর্ণিত গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ একটি কার্যকর ও টেকসই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য অপরিহার্য।
গণতন্ত্র কেবল একটি শাসনব্যবস্থা নয়, এটি একটি জীবনদর্শন ও সংস্কৃতি। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ছাড়া গণতন্ত্র কেবল একটি বাহ্যিক কাঠামোতে পরিণত হয়, যা প্রকৃত সুফল দিতে ব্যর্থ হয়। সহনশীলতা, পরমতসহিষ্ণুতা এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধা না থাকলে সমাজে বিশৃঙ্খলা ও স্বৈরাচারী মনোভাব তৈরি হয়। একটি স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশের জন্য শাসক ও বিরোধী দল উভয়ের মধ্যেই এই মূল্যবোধ থাকা একান্ত প্রয়োজন।
উদ্দীপকের 'ক' প্রার্থীর আচরণে দেখা যায়, তিনি জনমতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন এবং বিরোধী দলের মতামতকে সম্মান করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। যখন কোনো রাজনৈতিক নেতা নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেওয়ার মানসিকতা রাখেন এবং গঠনমূলক সমালোচনা গ্রহণ করেন, তখন রাজনৈতিক সংঘাত ও অস্থিরতা হ্রাস পায়। 'ক' প্রার্থীর এই দৃষ্টিভঙ্গি জনগণের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা ও ব্যবস্থার প্রতি আস্থা বৃদ্ধি করে, যা গণতন্ত্রের ভিতকে মজবুত করতে সহায়তা করে।
উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অনুপস্থিতিতে গণতন্ত্র সর্বদা সংকটের মুখে পড়ে। যদি বিজয়ী পক্ষ বিরোধীদের দমন করে বা পরাজিত পক্ষ জনমতকে উপেক্ষা করে ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে, তবে রাষ্ট্রে অস্থিতিশীলতা ও অরাজকতা দেখা দেয়। উদ্দীপকের 'ক' প্রার্থীর মতো মূল্যবোধ চর্চা করলে রাষ্ট্রে সুশাসন নিশ্চিত হয় এবং নাগরিক অধিকার সংরক্ষিত থাকে। এটি সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের পথ সুগম করে। তাই রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায়, একটি সফল ও আদর্শ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের কোনো বিকল্প নেই।