| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘নিঃস্বার্থ সেবা ও…’ a – জীবন ও বৃক্ষ, গদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

নিঃস্বার্থ সেবা ও ভালোবাসার বিরল উদাহরণ আব্বাস উদ্দীন। জনপ্রতিনিধি না হয়েও নিঃস্বার্থভাবে জনগণকে কীভাবে সেবা করতে হয় তা তিনি দেখিয়েছেন। বন্যা, দুর্যোগ, খরা ইত্যাদি দুর্যোগে তিনি গরিব, এতিম, রোহিঙ্গাসহ সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সহায়তায় সবসময় কাছে ছুটে গেছেন। যতটুকু সামর্থ্য আছে, সাধোর সবটুকু দিয়ে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে তিনি দাঁড়িয়েছেন। সাথে সাথে তিনি তরুণদেরকেও উদবুদ্ধ করেছেন সামাজিক কাজের প্রতি।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১৪
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নদীকে মনুষ্যত্বের প্রতীক করতে চেয়েছেন।
- তাকে অনেক বাধা ডিঙানোর দুঃখ পেতে হয়"- এই কথাটি দ্বারা লেখক মানুষের জীবনের দুঃখ-কষ্টকে নদীর চলার পথের " প্রতিবন্ধকতার সঙ্গে তুলনা করেছেন।
- 'জীবন ও বৃক্ষ' প্রবন্ধে লেখক ফুলের ফোটা এবং নদীর গতির সঙ্গে মানুষের জীবনের তুলনা করেছেন। তিনি নদীর গতির মধ্যেই মনুষ্যত্বের সাদৃশ্য প্রত্যক্ষ করেছেন। তাঁর মতে, মনুষ্যত্বের বেদনা নদীর গতিতেই উপলব্ধ হয়, ফুলের ফোটায় নয়। কেননা ফুলের ফোটা সহজ। নদীর গতি সহজ নয়- তাকে অনেক বাধা ডিঙানোর দুঃখ পেতে হয়। মানুষের জীবনও নানা বাধাবিঘ্নের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়।
সারকথা: নদীর চলার পথের প্রতিবন্ধকতার বিষয়টি তুলে ধরতে গিয়ে আলোচ্য বাক্যটি ব্যবহৃত হয়েছে।
- উদ্দীপকের আব্বাস উদ্দীনের কর্মকান্ড 'জীবন ও বৃক্ষ' প্রবন্ধের বৃক্ষের ফুলে-ফলে পরিপূর্ণ হয়ে অন্যের সেবায় আত্মনিয়োগের বিষয়টিকে নির্দেশ করে।
- সমাজের অধিকাংশ মানুষ স্বার্থপর। তবে এমন কিছু মানুষ আছেন যাঁরা নিজেদের স্বার্থকে দূরে রেখে তাঁদের সর্বস্ব দিয়ে অন্যের সেবা করেন। তাঁদের মহানুভবতার জন্যই এই বিশ্ব এখনও বসবাসের উপযোগী আছে। তাঁরা অপরের কল্যাণে নিয়োজিত হওয়ার মাঝেই নিজেদের শান্তি খুঁজে পান।
- উদ্দীপকের আব্বাস উদ্দীন একজন নিঃস্বার্থ পরোপকারী মানুষ। তিনি জনপ্রতিনিধি না হয়েও নানা রকম প্রাকৃতিক দুর্যোগে সাধারণ মানুষের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। তার এই কর্মকান্ড 'জীবন ও বৃক্ষ' প্রবন্ধের বৃক্ষের নিঃস্বার্থ সেবার বিষয়টিকে নির্দেশ করে। বৃক্ষ যেমন ফুলে-ফলে পূর্ণতা অর্জন করে তা অন্যকে দান করে, সার্থকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে ওঠে, উদ্দীপকের আব্বাস উদ্দীনের কর্মকান্ডও তেমনই। বৃক্ষের নীরব সাধনার মতো তিনিও নিঃস্বার্থভাব মানুষের সেবা করে গেছেন।
সারকথা: বৃক্ষ ফুলে-ফলে পরিপূর্ণতা পায় এবং তা অন্যকে দান করে সার্থকতার দৃষ্টান্ত হয়ে ওঠে। উদ্দীপকের আব্বাস উদ্দীনের কর্মকান্ড এই বিষয়কেই নির্দেশ করেছে।
- উদ্দীপকের মূলভাব 'জীবন ও বৃক্ষ' প্রবন্ধের সম্পূর্ণ ভাবের পরিচায়ক নয়- মন্তব্যটি যথার্থ।
- অন্যের কল্যাণ কামনা যাঁরা করেন তাঁরা প্রকৃত শান্তি লাভ করেন। তাঁদের নিঃস্বার্থ চেতনা মানবকল্যাণে সার্থক হয়ে ওঠে। বিবেকসম্পন্ন মানুষ পরোপকারী চেতনায় বিশ্বাসী। মানবকল্যাণে কাজ করতে পারলেই তাঁরা নিজেদের সার্থক মনে করেন।
- উদ্দীপকে একজন নিঃস্বার্থ পরোপকারী মানুষের কথা বলা হয়েছে। আব্বাস উদ্দীন জনপ্রতিনিধি না. হয়েও মানুষের কল্যাণে সদা তৎপর। নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগে তিনি অসহায় মানুষের পাশে ছুটে যান এবং সাধ্যমতো সাহায্য-সহায়তা করেন। তার এই কর্মকান্ড 'জীবন ও বৃক্ষ' প্রবন্ধের একটি বিশেষ ভাবকে ধারণ করেছে বটে, তবে সমগ্র ভাবের পরিচায়ক হয়ে উঠতে পারেনি।
- 'জীবন ও বৃক্ষ' প্রবন্ধে লেখক পরার্থে আত্মনিবেদিত মানুষ প্রত্যাশা করেছেন। তিনি মানবজীবনের মহত্তম প্রত্যাশা থেকে মানুষের জীবনকে বৃক্ষের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি দেখিয়েছেন বৃক্ষ ফুলে-ফলে পরিপূর্ণতা পায় এবং অন্যকে তা দান করার মাঝে সার্থক হয়ে ওঠে। প্রবন্ধের এই দিকটি উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়েছে। এটি ছাড়া প্রবন্ধের অন্যান্য বিষয় যেমন- নদীর সঙ্গে বৃক্ষের তুলনা, স্বার্থপর ও জবরদস্তিপ্রিয় মানুষের চেতনা, বৃক্ষের বৃদ্ধির ইতিহাস ইত্যাদি বিষয় সেখানে অনুপস্থিত। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
সারকথা: উদ্দীপকের মূলয়ার জীবন ও বৃক্ষ' প্রবন্ধের বৃক্ষের পরোপকারী দিকটি তুলে ধরলেও অন্যান্য বিষয় ও সাব প্রকাশ করতে পারেনি। সুতরাং প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটিকে যথার্থ বলা যায়।