| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘নিষেক একটি জৈবিক…’ a – মানব জীবনের ধারাবাহিকতা, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

নিষেক একটি জৈবিক প্রক্রিয়া। নিষেকে সৃষ্ট জাইগোট ভ্রূণে পরিণত হয়। মানব ভ্রূণ এক বিশেষ পদ্ধতিতে জরায়ুর প্রাচীরে সংস্থাপিত হয়। [যশোর বোর্ড ২০১৬ ]
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৯
বয়োপ্রাপ্ত নারীর সমগ্র যৌন জীবনে প্রায় নিয়মিত গড়ে ২৮ দিন পরপর জরায়ু থেকে রক্ত, মিউকাস, এন্ডোমেট্রিয়ামের ভগ্নাংশ ও ধ্বংসপ্রাপ্ত অনিষিক্ত ডিম্বাণুর চক্রীয় নিষ্কাশনই রজঃচক্র।
ভ্রূণ বৃদ্ধির সমস্যাজনিত রোগ ম্যাক্রোসোমিয়ার ক্ষেত্রে শিশু নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত মাতৃগর্ভে থাকে কিন্তু ওজন ও আকারে অনেক বড় হয়। এজন্য একে বিগ বেবি সিনড্রোম বলে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত জৈবিক প্রক্রিয়াটি হলো নিষেক। শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলনের ফলে নিষেক ক্রিয়া সম্পন্ন হয়। নিচে নিষেক ক্রিয়াটির গুরুত্ব উল্লেখ করা হলো-
১. নিষেক জীবের ডিপ্লয়েড সংখ্যাকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করে যা শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলনে সম্ভব হয়।
২. নিষেকের ফলে ডিম্বাণু পরবর্তী পর্যায়ের বৃদ্ধির জন্য প্রস্তুত হয়।
৩. নিষেক পিতা ও মাতার বৈশিষ্ট্যকে সমন্বিত করে।
৪. নিষেকের ফলে জাইগোটে জিনের নতুন সমন্বয় ঘটে এবং এতে জীবে প্রকরণের সূচনা হয়।
৫. নিষেক ডিম্বাণুর বিপাক হার ও প্রোটিন সংশ্লেষণ হার বৃদ্ধি করে।
৬. নিষেকের মাধ্যমে ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারিত হয়।
৭. নিষেক জীবের বংশ রক্ষায় ও ধারাবাহিকতায় নিশ্চয়তা প্রদান করে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত বিশেষ পদ্ধতিটি হলো ইমপ্লানটেশন । বর্ধনশীল মানব ভ্রূণ জরায়ুর প্রাচীরে সংস্থাপিত হওয়ার কৌশলকে ইমপ্লানটেশন বলে। নারীর ডিম্বাণু ডিম্বনালির (ফেলোপিয়ান নালি) ঊর্ধ্ব প্রান্তে নিষিক্ত হয়ে জাইগোটে পরিণত হয়। এটি দ্রুত বিভক্ত হয়ে মরুলা নামক একটি নিরেট কোষপুঞ্জের সৃষ্টি করে এবং ডিম্বনালির সিলিয়ার আন্দোলন ও ক্রমসংকোচনের ফলে নিম্নগামী হয় । জাইগোটের পর্যায়ক্রমিক মাইটোসিস বিভাজনকে ক্লিভেজ বলে। নিরেট কোষপুঞ্জটি ডিম্বনালি থেকে সংগৃহীত তরলে পূর্ণ অন্তঃস্থ গহ্বর (ব্লাস্টোসিল) সমন্বিত ও এক কোষস্তরীয় ব্লাস্টোসিস্ট-এ পরিণত হয়। ব্লাস্টোসিস্টে প্রায় ১০০টির মতো কোষ থাকে। প্রতিটি কোষকে ব্লাস্টোমিয়ার বলে। ব্লাস্টোমিয়ারের স্তরকে বলে ট্রফোব্লাস্ট। ৪-৫ দিনের ভেতর ব্লাস্টোসিস্ট জরায়ুতে এসে পৌঁছালে দু'দিনের মধ্যে এর জোনা পেলুসিডা আবরণ অদৃশ্য হয়ে যায়। তখন ট্রফোব্লাস্ট কোষ ও জরায়ুর এন্ড্রোমেট্রিয়াম কোষের মধ্যে সংযোগ স্থাপিত হয়। ব্লাস্টোসিস্ট এন্ডোমেট্রিয়ামের যেখানে প্রোথিত হবে সেখানকার আবরণী টিস্যু ট্রফোরাস্ট থেকে নিঃসৃত এনজাইমের প্রভাবে বিগলিত হয়। তখন ব্লাস্টোসিস্টটি সেখানে যুক্ত হয়। এভাবে নিষেকের ৬ষ্ঠ থেকে ৯ম দিনের মধ্যে নিষিক্ত ডিম্বাণু বা জাইগোটটি ব্লাস্টোসিস্ট অবস্থায় জরায়ুর এন্ডোমেট্রিয়ামে আবদ্ধ হয়। জরায়ুর এন্ডোমেট্রিয়ামে ব্লাস্টোসিস্টের প্রোথিত হওয়ার প্রক্রিয়াকে ইমপ্লান্টেশন বলে।