নিষেকের পর ধারাবাহিক পরিবর্তনের মাধ্যমে ভূণ গঠিত হয়। এ সময় একটি অস্থায়ী অঙ্গ ভ্রূণ ও মায়ের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করে।
যে রাসায়নিক বস্তুটি কোষে উৎপন্ন হয়ে উৎপত্তিস্থল থেকে বাহিত হয়ে দূরবর্তী স্থানের কোষের কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ করে তাকে হরমোন বলে।
পরপরাগায়নের মাধ্যমে উদ্ভিদের ভ্যারাইটি সৃষ্টি হয় কারণ দুটি ভিন্ন উদ্ভিদের ফুলের মধ্যে পরাগায়ন ঘটে। ফলে মাতৃউদ্ভিদের মতো বৈশিষ্ট্য থাকে না।
পরপরাগায়নের মাধ্যমে নতুন চরিত্রের সৃষ্টি হয়, বীজের অঙ্কুরোদগমের হার বেড়ে যায় এবং বীজ অধিক জীবনীশক্তি সম্পন্ন হয়। সেই সাথে নতুন প্রজাতির সৃষ্টি হয়। দুটি ভিন্ন গুণসম্পন্ন উদ্ভিদের মধ্যে পরাগায়ন ঘটে। এভাবে যে বীজ উৎপন্ন হয় তা নতুন গুণসম্পন্ন হয়। ফলে ভ্যারাইটি আসে।
উদ্দীপকে ধারাবাহিক পরিবর্তন বলতে ভূণের বৃদ্ধি ও বিকাশকে আলোকপাত করা হয়েছে। ডিম্বাণু ও শুক্রাণুর মিলনের ফলে জাইগোট উৎপন্ন হয়। কিছু পরিবর্তন ও পরিবর্ধনের মাধ্যমে জাইগোট শেষ পর্যায়ে পূর্ণাঙ্গ ফিটাসে পরিণত হয়। নিচে তা বর্ণনা করা হলো-
- নিষেকের পর যে ডিপ্লয়েড জাইগোট কোষ সৃষ্টি হয় তা ৩৬ ঘণ্টা পর প্রথমে বিভাজিত হয়ে দু'কোষ বিশিষ্ট গঠন সৃষ্টি করে।
- পরবর্তীতে ৭১ ঘণ্টা পর একটি বলের মতো গঠন তৈরি করে একে ব্লাস্টুলা বলে।
- চার সপ্তাহ পরে এগুলো ভূণে রূপ নেয় এবং প্রায় পাঁচ সপ্তাহ পরে ভূণের বৃদ্ধি চলতে থাকে এবং হাত ও পায়ের গঠন শুরু হয়।
- প্রায় ৮ সপ্তাহ পরে ভূণের কিছু বিকাশ ঘটে এবং অঙ্গগুলো ছোট আকারে থাকে। ভূণের কিছু বিকাশ ঘটে এবং অঙ্গগুলো ছোট আকারে থাকে। ভূণের এ অবস্থাকে ফিটাস বলে।
- ২৮ সপ্তাহ পরে ফিটাস পূর্ণাঙ্গতা প্রাপ্ত হয়। এরপর ৩৮ সপ্তাহ পরে পূর্ণাঙ্গ ফিটাস ভূমিষ্ট হওয়ার উপযুক্ত হয়।
উল্লিখিত যে অঙ্গটির কথা বলা হয়েছে তা হলো অমরা। ভূণের বিকাশে অমরার গুরুত্ব অপরিসীম।
দৈহিক সম্পর্কের মাধ্যমে পুরুষের শুক্রাণু স্ত্রী প্রজনন অঙ্গে প্রবেশ করে। পরিণত শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলনে জাইগোট উৎপন্ন হয়। নিষিক্ত ডিম্বাণু ধীরে ধীরে ডিম্বনালি থেকে জরায়ুর দিকে অগ্রসর হয়। জাইগোটের কোষ বিভাজনকে ক্লিভেজ বলে এবং ভূণ গঠন শুরু হয়। এরপর ধীরে ধীরে জরায়ু প্রাচীরে ভূণ সংযুক্ত ও বিকশিত হয়। এটি জরায়ুর সাথে যে নালির মাধ্যমে সংযুক্ত থাকে তাকে অমরা বলে। জরায়ুতে পৌঁছানোর ৪-৫ দিনের মধ্যে সংস্থাপন সম্পন্ন হয়। এভাবে ভ্রূণ ও মাতৃজরায়ুর অন্তঃস্তরের মধ্যে একটি অবিচ্ছেদ্য অস্থায়ী অঙ্গ তৈরি হয়। অমরার সাহায্যে ভূণ জরায়ু গাত্রে সংস্থাপিত হয়। খাদ্য অমরার মাধ্যমে পরিবহণ হয়। অমরা অনেকটা ফুসফুসের মতো কাজ করে। মায়ের রক্ত থেকে O₂ ও ভ্রূণ হতে CO₂ এর বিনিময় ঘটে। এছাড়া এর সাহায্যে ভ্রূণে উৎপন্ন বর্জ্যও অপসারিত হয়।
তাই বলা যায়, ভূণের বৃদ্ধিতে অমরার গুরুত্ব অপরিসীম।
