| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ নিউ গভঃ ডিগ্রী কলেজ ২০২৫ – সরকার কাঠামো ও সরকারের অঙ্গসমূুহ, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৭
সরকরের অঙ্গ তিনটি।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা' কথাটির অর্থ হলো- কর্তব্য পালনে। বিচারকদের স্বাধীনতা। কাজেই বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বলতে বোঝায় আইনের ব্যাখ্যা প্রদান ও বিচার কাজ পরিচালনার ক্ষেত্রে বিচারকদের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ মতামত প্রকাশের ক্ষমতা বা স্বাধীনতা। তাই স্বাধীন বিচার বিভাগ বলতে শাসন বিভাগ ও আইন বিভাগের প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণমুক্ত বিচার বিভাগকে বোঝায়। বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য বিচারকদের দৃঢ় মনোবল, প্রজ্ঞা, বুদ্ধি ও আইনসংক্রান্ত গভীর জ্ঞানের প্রয়োজন।
উদ্দীপকে 'B' চিহ্নিত স্থানে সরকারের শাসন বিভাগের কথা বলা হয়েছে। সরকারের শাসন বিভাগ বিভিন্ন কার্যাবলি সম্পাদন করে থাকে।
শাসন বিভাগ হলো সরকারের সেই অংশ যার ওপর রাষ্ট্রের শাসনকার্য পরিচালনার দায়িত্ব ন্যস্ত থাকে। শাসন বিভাগের অন্যতম কাজ হলো আইনসভা কর্তৃক প্রণীত আইন অনুযায়ী দেশের শাসনকার্য পরিচালনা করা। এছাড়া ও রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা করা শাসন বিভাগের অন্যতম কাজ। বর্তমান বিশ্বের সকল স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল। রাজনৈতিক বাণিজ্যিক, সামরিকও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল রাষ্ট্রসমূহের মধ্যে আন্তঃরাষ্ট্র সম্পর্কে এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে আর এ আন্তঃসম্পর্ক রাষ্ট্রের উন্নয়নে শাসন বিভাগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, বহিরাগমন প্রতিহত করা, দেশের অভ্যন্তরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব শাসন বিভাগের ওপর ন্যস্ত। এসব দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করে শাসন বিভাগ রাষ্ট্রের উন্নয়নে ভূমিকা রাখে। সরকারকে সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য শাসন বিভাগকে নীতি নির্ধারণ সংক্রান্ত কাজ করতে হয়। স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্রসংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সরকারের শাসন বিভাগ সুনির্দিষ্ট নীতি নির্ধারণ করে।
আলোচনার পরিশেষে বলা যায়, রাষ্ট্রের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব ও অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি নানাবিধ কার্যাবলি পরিচালনার মাধ্যমে দেশকে উন্নতির পথে এগিয়ে নেওয়ার জন্য শাসন বিভাগ অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।
চিত্রে মন্ত্রিপরিষদ শাসিত শাসনব্যবস্থায় B বিভাগ অর্থাৎ শাসন বিভাগ, A বিভাগ আইন বিভাগ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
আইন বিভাগ তথা আইনসভা একটি দেশের জাতীয় তহবিলের অভিভাবক বা রক্ষাকারী। গণতান্ত্রিক মন্ত্রিপরিষদ শাসিতব্যবস্থায় আইন বিভাগের অনুমোদন ব্যতীত সরকার বা শাসন বিভাগ কোনো কর ধার্য, কর আরোপ, করের হার পরিবর্তন, কর আদায় বা সংগৃহীত অর্থ ব্যয় করতে পারে না। ব্রিটিশ সরকার কমন্সসভা অর্থাৎ আইন বিভাগের সম্মতি ছাড়া আর্থিক নীতি প্রণয়ন ও অর্থবিষয়ক কাজকর্ম পরিচালনা করতে পারে না। সংসদীয় পদ্ধতিতে সরকার প্রত্যেক অর্থবছরে পরবর্তী বছরের আয় ও ব্যয়সংক্রান্ত বাজেট আইনসভায় উপস্থাপন করে। আইনসভার সদস্যগণ দীর্ঘ বিতর্ক ও আলোচনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সংশোধনীসহ তা পাশ করেন। আইন বিভাগ অনুমোদিত বাজেট অনুযায়ী শাসন বিভাগ তথা সরকারকে বলতে হয়। এছাড়া শাসন বিভাগের বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ, মন্ত্রণালয় ইত্যাদির ক্ষেত্রে যেসব মঞ্জুরি দেওয়া হয় তা আইনসভা অনুমোদন করে। এছাড়া ও আইনসভা অনাস্থা মূলতবি প্রস্তাব, প্রশ্ন জিজ্ঞাসার মাধ্যমে শাসন বিভাগ তথা সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।
সুতরাং তাই বলা যায়, এভাবে শাসনকার্যে আইন বিভাগ কর্তৃক শাসন বিভাগ নিয়ন্ত্রিত হয়।