| ㅤ | A. Nayan19 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘নিউইয়র্কে এক বাঙালি…’ কারমাইকেল কলেজ ২০২৬ – পাকিস্তানি আমলে বাংলা ভাষা আন্দোলন ও এর গতিপ্রকৃতি, ইতিহাস, ইতিহাস ১ম পত্র (এইচএসসি)

নিউইয়র্কে এক বাঙালি পরিবারে ছোট্ট আয়শা তার বাবাকে জিজ্ঞেস করল, ‘বাবা আজ স্কুলে সব শিক্ষার্থী তাদের মাতৃভাষায় পোস্টার বানিয়েছে কেন?’ বাবা বললেন, ‘এটি তাদের মাতৃভাষার প্রতি সম্মান প্রদর্শন।’
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৪
৫টি দল নিয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়েছিল।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ গণহত্যা শুরু হলে এবং ২৬ মার্চ মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিলে প্রবাসী বাংলাদেশিরা তৎপর হয়ে উঠেন। তারা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সমর্থন আদায়ের লক্ষ্যে বিভিন্ন দেশের পার্লামেন্ট সদস্যদের সাথে আলাপ-আলোচনা করেন এবং ভারতে আশ্রয় নেওয়া শরণার্থীদের সাহায্য-সহযোগিতায় অর্থ সংগ্রহের জন্য বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় প্রতিনিধি দল প্রেরণ করেন। পাকিস্তানে যেন অস্ত্র গোলাবারুদ সরবরাহ না করে সেজন্য বিশ্বের শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর সরকারের কাছে প্রবাসী বাংলাদেশিরা আবেদন করেন। তাছাড়া তারা প্রত্যেক প্রবাসী বাংলাদেশির কাছ থেকে প্রতি সপ্তাহে এক পাউন্ড স্টার্লিং করে চাঁদা উঠিয়ে 'বাংলাদেশ ফান্ড'-এ জমা করে এবং এ অর্থ দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের প্রয়োজনীয় সামগ্রী বাংলাদেশে পাঠান।
উদ্দীপকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষার দাবিতে সৃষ্ট আন্দোলনের ওপর পুলিশ গুলি করে শহিদ করেন রফিক, শফিক, বরকত, সালাম, জব্বারসহ নাম না জানা অনেককে। ১৯৫৩ সাল থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি 'শহিদ দিবস' হিসেবে দেশব্যাপী পালিত হয়ে আসছে। বাঙালির কাছে দিনটি গভীর শোকের চেতনায় উজ্জীবিত হওয়ার দিন। ১৯৯৯ সালে ১৭ নভেম্বর জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতির বিষয়ক অঙ্গ প্রতিষ্ঠান ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। সেই থেকে বিশ্বের সকল ভাষার মানুষ দিবসটিকে প্রতিবছর অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে পালন করে। 4
উদ্দীপকের বর্ণনানুসারে নিউইয়র্কে এক বাঙালি পরিবারে ছোট্ট আয়শা তার বাবাকে জিজ্ঞেস করল, 'বাবা আজ স্কুলে সব শিক্ষার্থী তাদের মাতৃভাষায় পোস্টার বানিয়েছে কেন?' বাবা বললেন, 'এটি তাদের মাতৃভাষার প্রতি সম্মান প্রদর্শন।' যা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে শহিদ দিবস বা ২১ ফেব্রুয়ারি উদ্যাপনকে নির্দেশ করে।
উক্ত ঘটনা অর্থাৎ ভাষা আন্দোলনের গুরুত্ব অত্যধিক। পাকিস্তান রাষ্ট্রযন্ত্রের বিরুদ্ধে এটি ছিল বাঙালি জাতির প্রথম বিদ্রোহ। বাঙালি জাতির রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসে এ ঘটনার প্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী।
১. বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশ: এই আন্দোলনের ফলে এই প্রথম বাঙালিরা সংঘবদ্ধ আন্দোলনে সফলতার স্বাদ গ্রহণ করে। ফলে অচিরেই বাঙালি জাতির মধ্যে জাতীয়তাবাদের বীজ চাঙ্গা হয়ে ওঠে। বাঙালির পরবর্তী সকল আন্দোলন সংগ্রামে এ আন্দোলনের চেতনা অগ্রপথিকের ভূমিকা পালন করে।
২. বাংলা ভাষার মর্যাদা বৃদ্ধি: এ আন্দোলনের ফলে সারা পৃথিবীব্যাপী বাংলা ভাষার মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। সিয়েরালিওনে বাংলাকে দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের সর্বস্তরে বাংলা ভাষার প্রচলন হয়েছে।
৩. আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস: পৃথিবীর প্রায় সকল দেশে একই দিনে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ২১ ফেব্রুয়ারি উদ্যাপন হয়।
৪. স্বাধীনতার চেতনা: ভাষার চেতনার সফলতার পর বাঙালির স্বাধীনতার চেতনায় উজ্জীবিত হয়। বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের যাত্রা ১৯৫২ থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের মাধ্যমে পূর্ণতা লাভ করে।
সুতরাং বাঙালির জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জীবনে ১৯৫২ সালে ২১ ফেব্রুয়ারির গুরুত্ব যে অত্যধিক ছিল তা নিশ্চিতভাবে বলা যায়।