| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘নিয়ন্ত্রিত অবস্থায় পরাগায়ন…’ রাজশাহী বোর্ড ২০১৭ – উদ্ভিদ প্রজনন, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

নিয়ন্ত্রিত অবস্থায় পরাগায়ন ঘটিয়ে বর্তমান জাতের ফসল হতে উন্নত জাতের ফসল প্রবর্তন সম্ভব।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১০
একটি পুংগ্যামিটের সঙ্গে সেকেন্ডারি নিউক্লিয়াসদ্বয়ের মিলনই হলো ত্রিমিলন।
নিষেক ছাড়া ডিম্বাণু থেকে ভ্রূণ সৃষ্টি তথা নতুন জীব সৃষ্টির পদ্ধতিকে পার্থেনোজেনেসিস বলে। বোলতা, মৌমাছি, রটিফার ইত্যাদি প্রাণিদেহে এবং স্পাইরোগাইরা, মিউকর, ফার্ন প্রভৃতি উদ্ভিদদেহে এ ধরনের জনন পরিলক্ষিত হয়। পার্থেনোজেনেসিস দু'প্রকার। যথা- হ্যাপ্লয়েড পার্থেনোজেনেসিস ও ডিপ্লয়েড পার্থেনোজেনেসিস।
উদ্দীপকে উল্লিখিত নিয়ন্ত্রিত অবস্থায় পরাগায়ন ঘটিয়ে বর্তমান জাতের ফসল হতে উন্নত জাতের ফসল উদ্ভাবন প্রক্রিয়া বলতে মূলত কৃত্রিম সংকরায়ন প্রক্রিয়ার কথা বলা হয়েছে। নিম্নে প্রক্রিয়াটি সংক্ষেপে বর্ণনা করা হলো-
প্রজনক নির্বাচন, ইমাস্কুলেশন, ব্যাগিং, পরাগরেণু সংগ্রহ ও সংরক্ষণ, ক্রসিং, লেবেলিং, পরিপক্ক বীজ সংগ্রহ ও জনু সৃষ্টি প্রভৃতি ধাপ অতিক্রমের মাধ্যমে এ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়।
কৃত্রিম সংকরায়নের শুরুতেই এমন প্রজনক নির্বাচন করতে হবে যাদের ভালো বৈশিষ্ট্য প্রচলিত জাতে অনুপস্থিত। অনাকাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্য দূরীকরণের জন্য প্রজনকের স্বপরাগায়ন করা হয়। মাতৃপুষ্প উভলিঙ্গ হলে তার স্বপরাগায়ন রোধের জন্য পরিপক্ক হওয়ার আগেই পুষ্প থেকে পুংকেশর সরিয়ে ফেলাকে বলা হয় ইমাস্কুলেশন। স্ত্রী হিসেবে ব্যবহৃত প্রজনকের স্বপরাগায়ন রোধের জন্য ইমাস্কুলেশন করা হয়। ইমাস্কুলেশনের পর নির্বাচিত প্রজনক উদ্ভিদের পুষ্পিত অংশ পাতলা পলিথিন বা কাগজের ব্যাগ দিয়ে ঢেকে দিতে হয়। একে ব্যাগিং বলে। ব্যাগকৃত পুংফুল ফোটার পর পরাগরেণু বা পরাগধানী পেট্রিডিস বা কাগজের ব্যাগে সংগ্রহ করা হয়। সংগৃহীত পরাগধানী ইমাস্কুলেশনকৃত ফুলের গর্ভমুণ্ডে নরম তুলির সাহায্যে ঘসে দিয়ে ক্রসিং করা হয়। ক্রসিং করার পর ফুল ব্যাগ দিয়ে পুনরায় ঢেঁকে দেওয়ার পর একটি ট্যাগ আটকে দেয়া হয়। বীজ পরিপক্ক হলে লেবেলসহ কাগজের প্যাকেটে বীজ সংগ্রহ করা হয়। সংগৃহীত বীজ পরবর্তী মৌসুমে বপন করে নতুন জনু সৃষ্টি করা হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত কৃত্রিম সংকরায়ন প্রক্রিয়ার সফল প্রয়োগের ফলেই বাংলাদেশ আজ খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণ- নিম্নে উদাহরণসহ উক্তিটির যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ করা হলো-
বর্তমান বাংলাদেশে কৃত্রিম সংকরায়নের মাধ্যমে বুনো প্রজাতির রোগ প্রতিরোধী বৈশিষ্ট্য আবাদী উদ্ভিদের মধ্যে স্থানান্তরের মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধী জাত উৎপাদন করা হচ্ছে। অনেক উচ্চ ফলনশীল ফসলের জাত রয়েছে যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম। এমন ফসলী জাতে কৃত্রিম সংকরায়নের মাধ্যমে রোগপ্রতিরোধী জাত উৎপাদন করা হচ্ছে। ফলে ফসলের পরিমাণ অনেকাংশে বেড়ে যাচ্ছে। এছাড়া অল্প সময়ে অধিক ফসল পাওয়ার জন্য ফসলের আবাদকাল কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত করা হচ্ছে। ফলে একই ফসল বছরে কয়েক বার উৎপাদন করা সম্ভব হয়ে উঠছে। এভাবে আমাদের দেশের মোট খাদ্য উৎপাদনের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে এবং জিডিপিতে বিশেষ ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশ ধান গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে ৩০ জাতের উচ্চ ফলনশীল ধান কৃষকের নিকট হস্তান্তর করেছে। এর ফলে দেশে খাদ্য উৎপাদন ৪-৫ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তাছাড়া তৈলবীজ, ডাল, আঁশ জাতীয় ফসল, আখ, শাকসবজি ও ফলজ উদ্ভিদের উন্নয়নে নানামুখী অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে। এভাবে কৃত্রিম সংকরায়ন কৃষি খাতে উৎপাদন বৃদ্ধি করে দেশের জিডিপির পরিমাণ অনেকাংশে বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়া কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে নতুন নতুন প্রজাতি সৃষ্টি সম্ভব হয়েছে যা আমাদের খাদ্য চাহিদার ঘাটতি পূরণ করছে। যেমন- গম ও রাই এর সংকরায়নে ট্রিটিসেল উদ্ভাবন করা হয়েছে, যা স্বল্প শীত ও প্রচণ্ড শীতে ভালো ফলন দেয়। ফলে আমাদের খাদ্য তালিকায় নতুন প্রজাতির ব খাদ্য অন্তর্ভূক্ত হয়ে আমাদের খাদ্য ঘাটতি পূরণ করছে।
উপরোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, কৃত্রিম সংকরায়ন প্রযুপ্তির ব্যবহারের ফলেই বাংলাদেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ।