| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘নমুনা ‘ক’ :…’ বরিশাল বোর্ড ২০২৫ – কোষ ও এর গঠন, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

নমুনা ‘ক’ : বৈষম্যভেদ্য একটি সজীব ঝিল্লি- যা কোষ অভ্যন্তরে বিভিন্ন বস্তুর চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে।
নমুনা ‘খ’ : একটি অঙ্গাণু যা হাইড্রোলাইটিক এনজাইমের একস্তরী ঝিল্লি দ্বারা তৈরি এবং এটি আন্তঃকোষীয় পরিপাকে সাহায্য করে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১
মাইটোকন্ড্রিয়ার অন্তঃপর্দার ভাঁজগুলো নির্দিষ্ট ব্যবধানে আঙুলের মতো যে প্রবর্ধক সৃষ্টি করে, তাই ক্রিস্টি।
কোষ প্রাচীর উদ্ভিদের একটি বিশেষায়িত এবং অপরিহার্য অংশ, যা প্রাণী কোষে অনুপস্থিত। এটি প্রধানত সেলুলোজ, হেমিসেলুলোজ এবং পেকটিন দ্বারা গঠিত একটি দৃঢ় ও অনমনীয় স্তর যা কোষঝিল্লির বাইরে অবস্থান করে। এই প্রাচীর উদ্ভিদ কোষকে একটি নির্দিষ্ট আকার ও আকৃতি প্রদান করে এবং যান্ত্রিক আঘাত ও চাপ থেকে সুরক্ষা দেয়। এটি উদ্ভিদকে দৃঢ়তা ও অবলম্বন প্রদান করে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে সাহায্য করে। এ কারণে কোষ প্রাচীর উদ্ভিদের বিশেষায়িত অংশ।
উদ্দীপকের বর্ণিত নমুনা 'ক' হলো কোষঝিল্লি বা প্লাজমামেমব্রেন। কোষঝিল্লির গঠনের সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য মডেল হলো ফ্লুইড মোজাইক মডেল। বিজ্ঞানী Singer ও Nicolson ১৯৭২ সালে প্লাজমামেমব্রেনের ফ্লুইড মোজাইক মডেলটি প্রবর্তন করেন। নিচে মডেলটি বর্ণনা করা হলো-
১. ফসফোলিপিড বাইলেয়ার: প্লাজমামেমব্রেন দুটি স্তরে বিন্যস্ত থাকে। প্রত্যেকটি স্তর ফসফোলিপিড অণু দিয়ে গঠিত। প্রতিটি ফসফোলিপিডে এক অণু গ্লিসারল থাকে এবং গ্লিসারলের সাথে দুটি নন-পোলার ফ্যাটি অ্যাসিড লেজ এবং একটি পোলার ফসফেট মাথা বা হেড থাকে।
২. মেমব্রেন প্রোটিন: কোষঝিল্লিতে তিন রকমের প্রোটিন দেখা। যায়। যথা- i. পেরিফেরাল প্রোটিন, ii. লিপিড সম্পৃক্ত প্রোটিন এবং iii. ইন্টিগ্রাল প্রোটিন।
৩. গ্লাইকোক্যালিক্স: ফসফোলিপিড ও প্রোটিন অণুর সঙ্গে যুক্ত ক্ষুদ্র কার্বোহাইড্রেট শৃঙ্খল যথাক্রমে গ্লাইকোলিপিড ও গ্লাইকোপ্রোটিন গঠন করে। এ দুটোকে মিলিতভাবে গ্লাইকোক্যালিক্স বলা হয়।
৪. কোলেস্টেরল: ফসফোলিপিড অণুর ফাঁকে ফাঁকে কোলেস্টেরল অণু অবস্থান করে।
প্রোটিন অণুগুলো ফসফোলিপিড স্তরে বিক্ষিপ্তভাবে ভেসে থাকে, ফলে এদের মোজাইকের মতো দেখা যায়। এসব বৈশিষ্ট্যের কথা বিবেচনা করে প্লাজমামেমব্রেনের এই মডেলটির নামকরণ হয়েছে ফ্লুইড মোজাইক মডেল। বিজ্ঞানী সিঙ্গার ও নিকলসন লিপিড অণুর সাথে প্রোটিনের বিন্যাসকে হিমশৈলের সাথে তুলনা করেন বলে এই মডেলকে আইসবার্গ মডেলও বলা হয়ে থাকে।
উদ্দীপকে বর্ণিত নমুনা 'খ' এর অঙ্গাণুটি হলো লাইসোজোম, যা হাইড্রোলাইটিক এনজাইমের একস্তরী ঝিল্লি দ্বারা তৈরি। নিচে লাইসোজোমের জৈবিক গুরুত্ব উপস্থাপন করা হলো-
১. লাইসোসোম বিভিন্ন প্রকার এনজাইমের মাধ্যমে কোষস্থ উপাদানকে ধ্বংস করতে পারে।
২. লাইসোসোম এনজাইমের সাহায্যে ফ্যাগোসাইটোসিস ও পিনোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় অণুপ্রবেশিত জীবাণু ও খাদ্য উপাদানকে আত্তীকরণ করে।
৩. কোষে খাদ্যাভাব দেখা দিলে বা কোষের ক্ষতি হলে লাইসোসোম কোষস্থ অঙ্গাণুগুলোকে বিগলিত করে ধ্বংস করে। একে অটোফ্যাগি বা স্ব-গ্রাস বলে।
৪. লাইসোসোমের উৎসেচকগুলো যখন কোষের মধ্যে গৃহীত খাদ্যবস্তু, ব্যাকটেরিয়া ইত্যাদিকে জারিত করে, তখন সেই প্রক্রিয়াকে হেটারোফ্যাগি বলে।
৫. লাইসোসোম প্রতিকূল অবস্থায় পতিত হলে এটি লাইসোসোমসহ সমস্ত কোষ অঙ্গাণু এমনকি সম্পূর্ণ কোষকে ধ্বংস করে। এভাবে সমস্ত কোষটি পরিপাক হয়ে যেতে পারে। এ প্রক্রিয়াকে অটোলাইসিস বলে।
৬. লাইসোসোম কোষের অকেজো অঙ্গাণুগুলোকে অপসারণ করে।
৭. অন্তঃকোষীয় স্কাভেনজিং-এর ফলে সৃষ্ট মেটাবোলাইটগুলো নতুন অঙ্গাণু সৃষ্টি করে।
৮. লাইসোসোম মাইটোসিস কোষবিভাজনে উদ্দীপনা যোগায়।