নবম শ্রেণি পড়ুয়া প্রাণবন্ত তুহিন বন্ধুদের সঙ্গে মিলেমিশে খেলাধুলা করত। হঠাৎ সড়ক দুর্ঘটনায় তার একটা পা হারানোর পর আগের মতো সে সবখানে আর প্রাণবন্ত সেই পরিবেশ পায় না। ফলে ধীরে ধীরে সে নিশ্চুপ হয়ে যায়।
সুভা অবসর সময়ে নদীতীরে এসে বসে।
প্রতাপ নিতান্ত অকর্মণ্য ছিল বলে বাবা-মা তার প্রতি নিরাশ হয়েছিলেন।
, 'সুভা' গল্পে বাবা-মায়ের নিতান্ত অকর্মণ্য ছেলে প্রতাপ। অনেক চেষ্টা করেও তাকে দিয়ে সংসারের উন্নতি হয় এমন কোনো কাজ করানো যায় না। এ কারণে মা-বাবা তাকে নিয়ে তাদের প্রত্যাশা বাদ দিয়েছিলেন। ফলে সে অবহেলায় সময় কাটানোর জন্য অপরাহ্ণে নদীতীরে ছিপ ফেলে মাছ ধরত। এভাবে মাছ ধরার বাহানায় অনেকটা সময় কাটানো যায়। প্রকৃতপক্ষে প্রতাপ ছিল প্রচন্ড অলস। সে কোনো কাজ করতে চাইত না। এজন্যই প্রতাপের প্রতি তার বাবা-মা নিরাশ হয়েছিলেন।
উদ্দীপকটিতে 'সুভা' গল্পের সুভার নির্বাক প্রকৃতির মাঝে নিশ্চুপ হয়ে নিজেকে লুকিয়ে রাখার দিকটি ফুটে উঠেছে।
'সুভা' গল্পে সুভা হলো বাক্প্রতিবন্ধী এক কিশোরী। সে কথা বলতে পারে না বলে সবাই তার সামনেই তার ভবিষ্যৎ নিয়ে নেতিবাচক দুশ্চিন্তা প্রকাশ করে। এতে সুভা নিজেকে বিধাতার অভিশাপ ভেবে আত্মগোপন করে থাকতে পারলে বাঁচে। তার সমবয়সিরা তার সঙ্গে খেলে না, মেশে না। তাই সে নির্বাক প্রকৃতিতে তার আশ্রয় খুঁজে নেয়।
উদ্দীপকের প্রাণবন্ত তুহিনের হঠাৎ দুর্ঘটনায় একটি পা হারিয়ে নিশ্চুপ হয়ে যাওয়ার দিকটি ফুটে উঠেছে। সে আর বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলা করতে পারে না। এ বিষয়টি 'সুভা' গল্পের সুভার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। 'সুভা' গল্পের সুভা বাক্প্রতিবন্ধী, সে কথা বলতে পারে না। এ কারণে সবাক মানুষের সঙ্গে তার বিশেষ সম্পর্ক গড়ে ওঠেনি। তার কথা বলার এই শূন্যতা পূরণ করেছে প্রকৃতি। সুভা তার অনুভূতি দিয়ে প্রকৃতিকে জয় করে নিয়েছে। প্রকৃতির মাঝে সে প্রাণের স্পর্শ খুঁজে পেয়েছে। প্রকৃতিই হয়ে উঠেছে তার আশ্রয়। বিপুল নির্বাক প্রকৃতির কাছে সে থাকতে ভালোবাসে। মানুষের কাছ থেকে আত্মগোপন করতে পারলেই সে বাঁচে। উদ্দীপকের তুহিন পা হারানোর পর প্রাণবন্ত পরিবেশ না পেয়ে নিশ্চুপ হয়ে নিজেকে লুকিয়ে রাখে। আগের সেই পরিবেশ, মানুষের সেই সখ্য ও স্বতঃস্ফূর্ততা না থাকার বেদনা তাকে বাশূন্য করে তোলে। এ ক্ষেত্রে সে বাক্প্রতিবন্ধী না হলেও সুভার মতো নিশ্চুপ হয়ে গিয়েছে।
প্রতিবন্ধীদের প্রতি সহমর্মিতা ও মমত্বশীল দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হয় 'সুভা' গল্প পাঠে, তাই "উদ্দীপকের তুহিনের মতো মানুষদের প্রতি দরদি হওয়ার শিক্ষাই 'সুভা' গল্পের মূল উপজীব্য" মন্তব্যটি যথার্থ।
'সুভা' গল্পের মাধ্যমে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুর মন ও চিন্তা, আবেগ ও অনুভূতির সূক্ষ্মতর দিকগুলো উপস্থাপন করেছেন। বাক্প্রতিবন্ধী কিশোরী সুভার প্রতি লেখকের হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসা ও মমত্ববোধে গল্পটি অমর হয়ে আছে। এ ধরনের শিশু বা মানুষের প্রতি। সবার মমত্বশীল দৃষ্টিভঙ্গি প্রস্তুতে সহায়তা করে এ গল্পটি
উদ্দীপকের তুহিন নবম শ্রেণির ছাত্র। এ বয়সের কিশোররা প্রাণবন্ত, দুরন্ত ও চঞ্চল হয়ে থাকে। তুহিনও ঠিক তেমনই প্রাণবন্ত এক কিশোর। দুর্ঘটনায় পড়ে সে তার একটি পা হারিয়েছে। ফলে আগের মতো প্রাণবন্ত পরিবেশ সে পায় না। বেশিরভাগ সময়ই তাকে প্রকৃতিবিচ্ছিন্ন থাকতে হয়। 'সুভা' গল্পের সুভারও বাক্প্রতিবন্ধী কারণে জীবনের। স্বাভাবিক বিকাশ বিঘ্নিত। সে অন্যদের অবহেলার শিকার। তুহিন ও সুভার বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে এই প্রতিবন্ধিতা অত্যন্ত পীড়াদায়ক।
'সুভা' গল্পে বাক্প্রতিবন্ধী কারণে সুভা পারিপার্শ্বিক ও মানসিক যে বঞ্চনার শিকার হয়েছে, ঠিক তেমনই উদ্দীপকের দুর্ঘটনায় পা হারানো তুহিনও মুক্ত পরিবেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এসব বঞ্চিত শিশু-কিশোরের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়াই 'সুভা' গল্পের মূল উপজীব্য। কারণ সামান্য সহানভূতি ও ভালোবাসা তাদের এই ছোট্ট জীবনকে আলোকিত করে তুলতে পারে। এতে করে তারা সমগ্র জীবন আত্মনির্ভরশীল হয়ে মর্যাদার সঙ্গে বাঁচতে এবং পরিবার ও দেশের জন্যও অবদান রাখতে পারে। তাই বলা যায়, আলোচ্য মন্তব্যটি যথার্থ।
