নবম শ্রেণিতে পড়ে গরিব ও মেধাবী ছাত্রী রিমা। হঠাৎ তার বাবা পাশের গ্রামে এক প্রভাবশালীর ছেলের সাথে তার বিয়ে ঠিক করেন। কিন্তু রিমার স্বপ্ন লেখাপড়া করে অনেক বড়ো হবে। চাচাতো ভাই সৎ-সাহসী রনি বিষয়টি জানতে পেরে প্রতিবাদ করে এবং তাকে পলিয়ে যেতে বলে। কিন্তু রিমা বাবার অপমানের কথা চিন্তা করে না পালিয়ে রনিকে নিয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষকের নিকট যায় এবং ব্যাপারটি খুলে বলে। শিক্ষক তার বাবাকে বুঝিয়ে বললে বাবা ভুল বুঝতে পারেন। এখন রিমা তার স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছে।
বহিপীরের মতে, পুত্রকন্যার শিক্ষাদীক্ষার ভার পিতা-মাতার ওপর।
হাশেম আলির বিয়ে করার প্রস্তাবে তাহেরা অসম্মতি জানালে বিস্মিত হয়ে খোদেজা প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করে।
বৃদ্ধ পীরের সাথে অসম বিয়ের হাত থেকে বাঁচতে তাহেরা পালিয়ে এসে জমিদারের বজরায় আশ্রয় পায়। কাকতালীয়ভাবে পীর সাহেবও দুর্ঘটনার শিকার হয়ে সে বজরাতেই আশ্রয় নেন। তাহেরাকে সাথে নিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি নানা কূটকৌশলের আশ্রয় নিতে থাকেন। এমতাবস্থায়, জমিদার পুত্র হাশেম আলি সর্বতোভাবে তাহেরার পাশে দাঁড়ায় এবং তাহেরাকে বাঁচাতে প্রয়োজনে তাকে বিয়ে করতে চায়। কিন্তু তার এমন প্রস্তাবে তাহেরা রাজি হয় না। তাহেরার জন্য হাশেম এতকিছু করার পরও সে রাজি না হওয়ায় ঘটনাটি খোদেজাকে বিস্মিত করে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে তিনি প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটির অবতারণা করেন।
অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী ভূমিকার দিক থেকে উদ্দীপকের রনি ‘বহিপীর’ নাটকের হাশেম আলির প্রতিনিধিত্ব করে।
‘বহিপীর’ নাটকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হাশেম আলি। নাটকটিতে নাট্যকার হাশেম আলিকে উপস্থাপন করেছেন কেন্দ্রীয় চরিত্র বহিপীরের বিপরীত চরিত্র হিসেবে। ন্যায়বোধে সমুন্নত হাশেম আলি এ নাটকে কুসংস্কার এবং ধর্মীয় গোঁড়ামীর বিরুদ্ধে সদাই সোচ্চার থেকেছে এবং উদার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সমস্ত ঘটনাক্রমকে বিচার করেছে।
উদ্দীপকের রনি তার চাচাতো বোন রিমার প্রতি সহানুভূতিশীল এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক প্রতিবাদী। এ কারণেই পাশের গ্রামের এক প্রভাবশালী ব্যক্তির ছেলের সাথে রিমার বিয়ে দিতে চাইলে সে এর প্রতিবাদ করে। শুধু তাই নয়, অযাচিত এই বিয়ের হাত থেকে রিমাকে বাঁচাতে সে সর্বতোভাবে সহযোগিতা করে। একইভাবে, বৃদ্ধ পীরের সাথে অনাকাঙ্ক্ষিত বিয়ের হাত থেকে বাঁচতে ‘বহিপীর’ নাটকের তাহেরা পালিয়ে এসে জমিদারের বজরায় আশ্রয় নিলে হাশেম তার পাশে দাঁড়ায়। বহিপীরের কূটকৌশলকে নস্যাৎ করতে সে সবরকম চেষ্টা করে, যেমনটি উদ্দীপকের রনির ক্ষেত্রেও একইভাবে পরিলক্ষিত হয়। এদিক থেকে উদ্দীপকের রনি আলোচ্য নাটকের হাশেম আলিরই প্রতিনিধিত্ব করে।
"উদ্দীপকের রীমা যেন ‘বহিপীর’ নাটকের তাহেরা চরিত্রেরই প্রতিচ্ছবি।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
‘বহিপীর’ নাটকের কাহিনি অগ্রসর হয়েছে তাহেরা ও বহিপীরকে কেন্দ্র করে। এ নাটকে তাহেরাকে উপস্থাপন করা হয়েছে প্রথাবিরুদ্ধ ভূমিকায়। যেখানে বৃদ্ধ বহিপীরের সাথে অসম বিয়েকে মেনে নিতে না পেরে বিয়ের রাতেই সে পালিয়ে যায়। এমন কর্মকান্ড তার প্রথাবিরুদ্ধ ও প্রতিবাদী ভাবমূর্তিকেই তুলে ধরে।
উদ্দীপকের রিমা সবে নবম শ্রেণিতে পড়ে। কিন্তু এ বয়সেই তার বাবা পাশের গ্রামের এক প্রভাবশালী ব্যক্তির ছেলের সাথে তার বিয়ে ঠিক করে। এতে তার পড়াশোনা করে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়। এমতাবস্থায় তার চাচাতো ভাই রনি এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ায়। অবশেষে কোনো কূলকিনারা না পেয়ে তারা বিষয়টি রিমার স্কুলের প্রধান শিক্ষক মহোদয়কে জানায়। পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রধান শিক্ষক মহোদয় রিমার বাবাকে বুঝিয়ে রিমার বাল্যবিবাহ বন্ধ করার উদ্যোগ নেন।
‘বহিপীর’ নাটকটি মূলত তাহেরারই জীবনালেখ্য। যেখানে বহিপীরের প্রতি ভক্তির কারণে তাহেরার বাবা ও সৎ মা সেই পীরের সঙ্গে তার বিয়ে ঠিক করে। এক্ষেত্রে তারা তাহেরার ভবিষ্যতের কথা পর্যন্ত চিন্তা করেনি। তবে তাহেরা তাদের এমন সিদ্ধান্ত মুখ বুজে মেনে নেয়নি। অসম এই বিয়ে থেকে নিজেকে রক্ষা করতে বিয়ের রাতেই সে পালিয়ে যায়। পক্ষান্তরে, উদ্দীপকের রিমাও তার বিয়ে সম্পর্কিত অযাচিত সিদ্ধান্তকে মেনে নেয়নি। তাই চাচাতো ভাই রনির সহায়তায় এ বিষয়ে সে তার স্কুলের প্রধান শিক্ষকের শরণাপন্ন হয় এবং তাঁর হস্তক্ষেপের মাধ্যমে বাবাকে বুঝিয়ে বিয়ে বন্ধ করে। তাহেরা এবং রিমার এমন কর্মকান্ডে তাদের দৃঢ়চেতা মনোভাব এবং প্রতিবাদী চেতনাই প্রতিফলিত হয়েছে, যা চরিত্রদুটিকে তুলনীয় করে তোলে। সে বিবেচনায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথাযথ।
