নজরুল ইসলাম বড়ভিটা ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার। তিনি তাঁর গ্রামের যেকোনো ঝগড়া-বিবাদ ন্যায্যতার ভিত্তিতে মীমাংসা করেন। সরকারি ভাতা ও সহায়তা তিনি উপযুক্ত ব্যক্তিদের দেন। গ্রামের কারও অসুস্থতার খবর পেলে তিনি খোঁজখবর নেন। যেকোনো বিপদ-আপদে তাঁকে কাছে পাওয়া যায়। এজন্য এলাকার মানুষ তাঁকে সম্মান ও শ্রদ্ধা করে। একদিন তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে ইভটিজিংয়ের অভিযোগ উঠলে তিনি বিন্দুমাত্র পক্ষপাতিত্ব না করে ছেলেকে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
আমির-উল-মুমেনিন কথাটির অর্থ বিশ্বাসীদের নেতা।
অনাড়ম্বর জীবনযাপন করার জন্য হজরত উমর (রা.)-কে চীরধারী সম্রাট বলা হয়েছে।
'উমর ফারুক' কবিতায় হজরত উমর (রা.)-এর জীবনাদর্শের নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে। অর্ধ-পৃথিবীর শাসক হয়েও তিনি কখনো আভিজাত্যকে গ্রহণ করেননি। খাস দরবারে বিভিন্ন দেশের লোকেরা এসে তাঁর জন্য অপেক্ষা করে উৎসুক হয়ে তাঁকে খুঁজতে থাকেন। অথচ খলিফা উমর (রা.) নিজের একমাত্র পিরানটি শুকায়নি বলে সেটি রোদে ধরে বসে আছেন। সেটি শুকালে তা পরে খাস দরবারে উপস্থিত হবেন। তাঁর এমন অনাড়ম্বর জীবনযাপন বোঝানোর জন্যই তাঁকে চীরধারী সম্রাট বলা হয়েছে।
উদ্দীপকে ছেলের ব্যাপারে নজরুল মেম্বারের পদক্ষেপে 'উমর ফারুক' কবিতার হজরত উমর (রা.)-এর ন্যায়বিচারের দিকটি ফুটে উঠেছে।
'উমর ফারুক' কবিতায় খলিফা হজরত উমর (রা.)-এর ন্যায়বিচারের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ফুটে উঠেছে। তিনি ছিলেন আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল একজন ন্যায়পরায়ণ শাসক। মদপানের অপরাধে তিনি নিজের' পুত্রকে শাস্তি দেন।
উদ্দীপকের নজরুল ইসলাম বড়ভিটা ইউনিয়নের একজন মেম্বার। একদিন তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে ইভটিজিংয়ের অভিযোগ উঠলে তিনি বিন্দুমাত্র পক্ষপাতিত্ব না করে ছেলেকে পুলিশের হাতে তুলে দেন। এখানে নজরুল মেম্বারের মাঝে ন্যায়বিচারের দিকটি ফুটে উঠেছে যা 'উমর ফারুক' কবিতায় হজরত উমর (রা.)-এর মাঝেও লক্ষ করা যায়। খলিফা উমর (রা) ছিলেন ন্যায়বান, সুশাসক। আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে তিনি আপন-পর ভেদাভেদ করেননি। আর সেই কারণে মদ্যপানের অপরাধে নিজ হাতে পুত্রকে বেত্রাঘাত করেছেন, মৃত্যু হয়েছে পুত্রের। কিন্তু তিনি আইনের অপমান করেননি। ন্যায়বিচারের প্রতি তিনি ছিলেন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
কবিতায় ফুটে ওঠা খলিফা উমর (রা.)-এর বীরত্ব, দূরদর্শিতা, অনাড়ম্বর জীবন ইত্যাদি চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য উদ্দীপকের নজরুল মেম্বারের মধ্যে না থাকায় 'উমর ফারুক' কবিতার উমরের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের সকল দিক নজরুল মেম্বারের মধ্যে নেই বলে আমার মত।
'উমর ফারুক' কবিতায় হজরত উমর (রা)-এর চরিত্র-মাহাত্ম্য বর্ণিত হয়েছে। তিনি ছিলেন একজন মহৎ ব্যক্তিত্ব। তাঁর চরিত্রে একাধারে বীরত্ব, কোমলতা, নিষ্ঠা ও সাম্যবাদী আদর্শের অনন্য সমন্বয় ঘটেছিল।
উদ্দীপকের নজরুল মেম্বার তাঁর গ্রামের যেকোনো ঝগড়া-বিবাদ ন্যায্যতার ভিত্তিতে মীমাংসা করেন। গ্রামের কারও বিপদে-আপদে পাশে থাকেন। সরকারি ভাতা ও সহায়তা তিনি উপযুক্ত ব্যক্তিদের দিয়ে থাকেন। আবার তিনি নিজের ছেলেকেও পুলিশে দিয়ে ন্যায়বিচার করেছেন। এখানে নজরুল, মেম্বারের চরিত্রে মানবিকতা, সাম্যবাদিতা ও ন্যায়বিচার ফুটে উঠেছে যেগুলো 'উমর ফারুক' কবিতার উমর (রা.)-এর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের কয়েকটি দিককে ধারণ করে।
'উমর ফারুক' কবিতায় ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত উমর (রা.)-এর জীবনাদর্শ, চরিত্র-মাহাত্ম্য প্রভৃতি সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। তিনি ছিলেন একজন মহৎ ব্যক্তি। তাঁর চরিত্রে একাধারে বীরত্ব, কোমলতা, নিষ্ঠা ইত্যাদি গুণের সমন্বয় ঘটেছিল। তিনি ছিলেন ন্যায়পরায়ণ শাসক। তিনি ছিলেন সত্যের একজন দৃঢ়চিত্ত উপাসক। একজন ন্যায়নিষ্ঠ, নির্ভীক ও গণতন্ত্রমনা রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তাঁর খ্যাতি চির অম্লান। বিশাল মুসলিম রাষ্ট্রের সর্বাধিনায়ক হয়েও তিনি অতি সহজ, সরল, অনাড়ম্বর জীবনযাপন করতেন। হজরত উমর (রা.)-এর এসব চারিত্রিক গুণ উদ্দীপকের নজরুল মেম্বারের মধ্যে প্রতিফলিত হয়নি।
