| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘নন-অ্যালিলিক জিনের আন্তঃক্রিয়ার…’ চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২১ – জিনতত্ত্ব ও বিবর্তন, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

নন-অ্যালিলিক জিনের আন্তঃক্রিয়ার মেন্ডেলের ২য় সূত্রের
অনুপাতের ব্যতিক্রম ঘটে, যেমন ১৩ : ৩।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ১১
একজোড়া বিপরীত বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন হোমোজাইগাস জীবে সংকরায়ন ঘটালে F, জনুতে সৃষ্ট হেটারোজাইগাস জীবে যে বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পায়, তাই হলো প্রকট বৈশিষ্ট্য।
F1 বা F2 জনুর জীবের সাথে মাতৃবংশের বিশুদ্ধ প্রচ্ছন্ন লক্ষণ বিশিষ্ট জীবের যে ক্রস করা হয় তাকে টেস্ট ক্লস বলে।
F1 বা F2 জনুর বংশধরগুলো হোমোজাইগাস না হেটারোজাইগাস তা জানার জন্য টেস্ট ব্রুস করা হয়। F1 জনুর হেটারোজাইগাস জীবের সাথে পিতৃ-মাতৃ-বংশায় যে কোন সদস্যের ক্রসকে ব্যাক ক্রস বলে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত অনুপাতটি হল ১৩:৩ যা মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্রের ব্যতিক্রম । উদ্দীপকে উল্লিখিত অনুপাতটির আলোকে মেন্ডেলের সূত্রটি নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্র: দুই বা ততোধিক জোড়া বিপরীত বৈশিষ্ট্যের মধ্যে সংকরায়ন ঘটালে প্রথম বংশধরে (F1) কেবলমাত্র প্রকট বৈশিষ্ট্যগুলোই প্রকাশিত হবে, কিন্তু জননকোষ সৃষ্টির সময় বৈশিষ্ট্যগুলো জোড়া ভেঙে পরস্পর থেকে স্বতন্ত্র ও স্বাধীনভাবে বিন্যস্ত হয়ে ভিন্ন ভিন্ন জননকোষে প্রবেশ করবে। সূত্র অনুযায়ী F2 বংশধরে ফিনোটাইপিক অনুপাত হবে ৯:৩:৩:১ ।
অপরদিকে, উদ্দীপকের প্রাপ্ত ফলাফল সাদা লেগহর্ণ ও সাদা ওয়াইন-ডট এর মধ্যে দেখা যায়। এদের মধ্যে ক্রস ঘটালে F1 জনুতে উৎপন্ন সকল মোরগ-মুরগির সাদা পালক বিশিষ্ট হবে। F1 জনুর মোরগ মুরগির মধ্যে ক্রস ঘটিয়ে দেখা যায়, F2 জনুতে সাদা ও রঙিন পালক বিশিষ্ট মোরগ-মুরগির আবির্ভাব ঘটে এদের অনুপাত সাদা:রঙিন=১৩:৩ ।
এইক্ষেত্রে F2 জনুতে প্রকট এপিস্ট্যাটিক জিন I এর কারণে ১৩টি সাদা এবং I এর অনুপস্থিতির কারণে ৩টি রঙিন পালক বিশিষ্ট মোরগ মুরগির উৎপন্ন হয় । প্রকট এপিস্ট্যাসিস এর কারণে F2 জনুতের সাদা ও রঙিন মোরগ মুরগির অনুপাত ১৩:৩।
উদ্দীপকে উল্লিখিত অনুপাতটি হল ১৩:৩ যা প্রকট এপিস্ট্যাটিসসকে নির্দেশ করে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
যখন একটি প্রকট জিন অন্য একটি নন-অ্যালিলিক প্রকট জিনের কার্যকারিতা প্রকাশে বাধা দেয় তখন এই প্রক্রিয়াকে প্রকট এপিস্ট্যাটিসস বলে ।
ব্যাটসন এবং প্যানেট পরিচালিত এক পরীক্ষায় আবিষ্কৃত হয় যে সাদা লেগহর্ণ গোষ্টীর মোরগ-মুরগিতে রঙিন পালক সৃষ্টির জন্য দায়ী একটি প্রকট জিন (C) থাকে। কিন্তু এপিস্ট্যাটিক জিন (I) এর কারণে রঙিন পালক সৃষ্টি হতে না পারায় পালকগুলো সাদা হয়। F1 জনুতে সব সাদা পালক বিশিষ্ট হলেও F2 জনুতে ১৩:৩ অনুপাতের সাদা ও রঙিনপালক-বিশিষ্ট মোরগ মুরগির সৃষ্টি হয়।
ধরা যাক, সাদা লেগহর্ণের রঙিন পালকের জন্য দায়ী প্রকট জিন= C এবং সাদা লেগহর্ণের রঙিন পালকের বাধাদানকারী প্রকট জিন=I.
অতএব,সাদা লেগহর্ণের জিনোটাইপ CCII এবং সাদা ওয়াইনডট-এর জিনেটাইপ ccii. অর্থাৎ এক্ষেত্রে C হচ্ছে প্রকট হাইপোস্ট্যিটিক জিন এবং I প্রকট এপিস্ট্যাটিসস জিন।একটি সাদা পালকযুক্ত লেগহর্ণ এর সাথে সাদা পালকযুক্ত ওয়াইনডট-এর ক্রস ঘটালে প্রথম বংশধরে (F1) সবগুলো শাবকই সাদা পালকযুক্ত পাওয়া যাবে।
পিতামাতা(P1): জিনোটাইপ--- (+)সাদা লেগহর্ণ X (-)সাদা ওয়াইনডট
জিনোটাইপ--- CCII ccii
গ্যামেট (CI) (ci)
F1জনু--- CcIi
সুতরাং অনুপাত হবে= ১৩:৩