| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘নওগাঁর মান্দা উপজেলার…’ নিউ গভঃ ডিগ্রী কলেজ ২০২৫ – নাগরিক অধিকার ও কর্তব্য এবং মানবাধিকার, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র (এইচএসসি)

নওগাঁর মান্দা উপজেলার চালকল শ্রমিক রেজিনা খাতুন ও ছুলেমান। একই সমান পরিশ্রম করে রেজিনা পান ১০০ টাকা আর ছুলেমান পান ১৪০ টাকা। রেজিনা এর প্রতিবাদ করলে মালিক তাকে ছাঁটাই করার ভয় দেখায়।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৫
বিশ্ব মানবাধিকার দিবস পালিত হয় ১০ ডিসেম্বর।
রাজনীতি পরিচালনায় এবং শাসনকার্যে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ অংশগ্রহণ করার অধিকারকে রাজনৈতিক অধিকার বলা হয়।
গণতান্ত্রিক সরকারের ভিত্তিতে রাজনৈতিক অধিকার স্বীকৃত হয়। ভোটদানের অধিকার, নির্বাচনে অংশগ্রহণের অধিকার, রাজনৈতিক দল গঠনের অধিকার, বসবাস করার অধিকার, সরকারের সমালোচনা করার অধিকার প্রভৃতি রাজনৈতিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত। রাজনৈতিক অধিকার মানুষের মাঝে রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি করে।
উদ্দীপকে রেজিনা খাতুন অর্থনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
যেসব অধিকার ব্যক্তিকে অভাব ও দারিদ্র থেকে মুক্তি দিয়ে অর্থনৈতিক জীবনের নিরাপত্তা বিধান করে তাকেই অর্থনৈতিক অধিকার বলা হয়।
এর বিভিন্ন রূপভেদ রয়েছে। যেমন- ১. কর্মের অধিকার, যা যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ প্রাপ্তিকে নির্দেশ করে। ২. ন্যায্য মজুরি লাভের অধিকার, ৩. বিশ্রাম লাভের অধিকার, ৪. সংগঠন বা সংগঠিত হওয়ার অধিকার ও ৫. বৃদ্ধ ও অক্ষম অবস্থায় অর্থনৈতিক নিরাপত্তা লাভের
অধিকার। এদের মধ্যে ন্যায্য মজুরি লাভের অধিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অধিকার। এটি একটি স্বীকৃত আইনগত অধিকার যা
জাতি-বর্ণ-প্রথা-ধর্ম-লিঙ্গ প্রভৃতির ঊর্ধ্বে কেবল কাজের জন্য যথাযথভাবে প্রত্যেকের জন্য নির্দেশিত।
উদ্দীপকের রেজিনা একজন চালকল শ্রমিক। একই সমান পরিশ্রম করে রেজিনা ছুলেমানের চেয়ে কম মজুরি পাচ্ছে এবং রেজিনা এই বৈষম্যের প্রতিবাদ করলে মালিক তাকে ছাঁটাইয়ের ভয় দেখায়। এখানে মজুরি প্রদানের ক্ষেত্রে লিঙ্গভেদে বৈষম্য করা হয়েছে যার দ্বারা রেজিনার অর্থনৈতিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে।
সুতরাং নিঃসন্দেহে বলা যায়, উদ্দীপকে রেজিনা খাতুন তার অর্থনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
উদ্দীপকের "অধিকার তথা অর্থনৈতিক অধিকার যথাযথভাবে প্রদান ছাড়া রাজনৈতিক সাম্য অর্থহীন।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
রাজনৈতিক সাম্য বলতে রাজনৈতিক অধিকার ভোগের ক্ষমতাকে বোঝায়। রাজনৈতিক অধিকার বলতে ভোটাধিকার, নির্বাচিত হওয়ার অধিকার, সরকারি চাকরি লাভের অধিকার, সরকারি কাজে অংশগ্রহণের অধিকার, সরকারের সমালোচনা করার অধিকার প্রভৃতি বোঝায়। জাতি-ধর্ম-বর্ণ-পেশা নির্বিশেষে এই রাজনৈতিক অধিকার লাভের সমান সুযোগ পেলে রাজনৈতিক সাম্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
অন্যদিকে, যেসব অধিকার ব্যক্তিকে অভাব ও দারিদ্র্য থেকে মুক্তি দিয়ে অর্থনৈতিক জীবনের নিরাপত্তা বিধান করে তাকে অর্থনৈতিক অধিকার বলে। 'অর্থনৈতিক অধিকার রাষ্ট্রে ব্যক্তিকে তার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার সুযোগ করে দেয়। তাই ব্যক্তির মর্যাদা তথা নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা না পেলে রাজনৈতিক সাম্য প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। বর্তমান বিশ্বের জনপ্রিয় শাসনব্যবস্থা হলো গণতন্ত্র। আর এ গণতন্ত্রের ভিত্তি হলো সাম্য। সমাজে রাজনৈতিক সাম্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গণতন্ত্রের ভিত্তি সুদৃঢ় হয়ে ওঠে। আর এটি প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন নাগরিকের অর্থনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করা। কারণ অর্থনৈতিক অধিকার ব্যতীত অর্থনৈতিক সাম্য প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। আর অর্থনৈতিক সাম্য প্রতিষ্ঠিত না হলে রাষ্ট্র ব্যবস্থায় আয় ও ব্যয়ের চরম বৈষম্য দেখা দেয়। ফলে সমাজে ধনী ও দরিদ্র দুই শ্রেণিতে বিভক্ত হয়ে পড়ে। ধনীরা আরও ধনী হয়ে যায়, আর গরিবরা মানবেতর জীবনযাপন করে। এমতাবস্থায় মানুষের মাঝে জন্ম নেয় অপরাধপ্রবণতা ও সমাজবিরোধী কর্মকান্ড। অভাবের তাড়নায় তারা নাগরিকত্বের দায়িত্ব-কর্তব্যও বিসর্জন দেয়। এ কারণে সমাজে রাজনৈতিক সাম্য প্রতিষ্ঠার আগে অর্থনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি। কারণ অর্থনৈতিক অধিকার এবং রাজনৈতিক সাম্য একে- অপরের পরিপুরক। অর্থনৈতিক অধিকারের যথাযথভাবে প্রদান না করলে রাজনৈতিক সাম্যের প্রকৃত লক্ষ অর্জন করা সম্ভব নয়।
আলোচনা থেকে এটি স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, অর্থনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠা ব্যতীত রাজনৈতিক সাম্য অর্থহীন।