| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘নর যদি রাখে…’ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম কলেজ ২০২৬ – অর্ধাঙ্গী, গদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

নর যদি রাখে নারীরে বন্দী, তবে এর পর যুগে
আপনারি রচা ঐ কারাগারে পুরুষ মরিবে ভুগে
যুগের ধর্ম এই-
পীড়ন করিলে সে পীড়ন এসে পীড়া দেবে তোমাকেই।
শোন মর্তের জীব!
অন্যেরে যত করিবে পীড়ন, নিজে হবে তত ক্লীব।
স্বর্ণ-রৌপ্য অলঙ্কারে যক্ষপুরীতে নারী
করিল তোমায় বন্দিনী, বল, কোন সে অত্যাচারী?
আপনারে আজ প্রকাশের তব নাই সেই ব্যাকুলতা
আজ তুমি ভীরু আড়ালে থাকিয়া নেপথ্যে কও কথা!
চোখে চোখে আজ চাহিতে পার না; হাতে বুলি পায়ে মল,
মাথার ঘোমটা ছিঁড়ে ফেল নারী ভেঙ্গে ফেল ও শিকল।
যে ঘোমটা তোমা করিয়াছে ভীরু, ওড়াও সে আবরণ
দূর করে দাও দাসীর চিহ্ন ঐ যত আভরণ!
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৮
কলম্বাস ১৫০৬ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
'যাই হোক পড়া হইতে রক্ষা পাওয়া গেল' উক্তিটি মুসলমান সমাজে নারীশিক্ষার প্রতি প্রচলিত অবহেলা ও অপর্যাপ্ত শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি এক তীব্র ব্যঙ্গ ও সমালোচনা।
বেগম রোকেয়া তাঁর প্রবন্ধে উল্লেখ করেন মুসলমান সমাজে কন্যাশিক্ষা কেবল আনুষ্ঠানিকতা ও অর্ধশিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। এই শিক্ষা ছিল নিয়মহীন ও উদ্দেশ্যহীন। বিয়ের পর যখন এই অগোছালো পড়াশোনার সমাপ্তি ঘটত, তখন মেয়েরা তা থেকে মুক্তি পেয়ে স্বস্তিবোধ করত। বেগম রোকেয়া বুঝিয়েছেন শিক্ষাকে যদি বোঝা বা নিরর্থক কাজ হিসেবে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তবে তা থেকে রক্ষা পাওয়াই যুক্তিসংগত হয়ে ওঠে।
'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধের নারীমুক্তি, সম-অধিকার ও শৃঙ্খল ভাঙার দাবির সঙ্গে উদ্দীপকের সাদৃশ্য রয়েছে।
'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে লেখিকা পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীর অবস্থানের কথা তুলে ধরেছেন। দীর্ঘকাল পুরুষের আধিপত্য স্বীকার করতে করতে নারীরা এক প্রকার পুরুষের দাসে পরিণত হয়েছে। বেগম রোকেয়া নারীদের নিজের মুক্তির ব্যবস্থা নিজেকেই করতে বলেছেন। বলেছেন, নারীর এই শৃঙ্খলামোচন না হলে সমাজ কখনো পূর্ণাঙ্গ ও উন্নত হতে পারবে না।
উদ্দীপকটি নারীমুক্তি ও সম-অধিকারের এক কাব্যিক ঘোষণা। কবি নারীকে তার শারীরিক ও মানসিক শৃঙ্খল ভেঙে স্বাধীন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধেও বেগম রোকেয়া নারীদের মুক্তির কথা বলেছন। নারীর দুর্বলতা যে পুরুষ বা গোটা সমাজের অসম্পূর্ণতা তা বলেছেন। উভয় ক্ষেত্রেই নারীর শারীরিক ও মানসিক দাসত্বের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ এবং সম-অধিকারের দাবি উচ্চারিত হয়েছে। উদ্দীপক কাব্যিক ও আবেগধর্মী ভাষায় এবং বেগম রোকেয়া যুক্তি ও সমাজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে একই বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন।
"নারীর উন্নতিকল্পে পুরুষের পাশাপাশি নারীদেরও দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন আবশ্যক"- উক্তিটি যথার্থ, কারণ উভয়েই নির্দেশ করে নারীদের পরিবর্তন তাদের সচেতনতা ও মনোভাব পরিবর্তনের ওপরও নির্ভরশীল।
'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে বেগম রোকেয়া নারীদের আত্মনিন্দা ও আরামপ্রিয়তা ত্যাগ করে নিজেদের ক্ষমতায় বিশ্বাসী হতে বলেছেন। তিনি দেখিয়েছেন নারী নিজেই অনেক সময় পুরুষের শ্রেষ্ঠত্ব মেনে নিয়ে তাদের অন্যায়কে ক্ষমা করে, যা নারীমুক্তর পথে বাধা। তাঁর মতে, নারীকে জ্ঞানচর্চা, কর্মব্রত ও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠতে হবে। নইলে কেবল পুরুষের ইচ্ছায় নারীর মুক্তি সম্ভব নয়।
উদ্দীপকে কবি বলেছেন, নারীর ভীরুতা ও আত্মপ্রকাশহীনতাই তার মুক্তি অন্তরায়। কবির মতে, পুরুষ যদি নারীকে বন্দি রাখে তবে সেই কারাগারই পুরুষকেও ভোগাবে। প্রবন্ধেও লেখিকা অন্ধভাবে পুরুষের শ্রেষ্ঠতা স্বীকার ও নিজেকে তুচ্ছ মনে করতে নিষেধ করেছেন। শুধু পুরুষের মনোভাব পরিবর্তন নয়, নারীকেও নিজের দাসত্বের চিহ্ন প্রত্যাখ্যান করতে হবে।
'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে বেগম রোকেয়া সমাজের অগ্রগতি ও কল্যাণের উদ্দেশ্যে নারী জাগরণকে কামনা করেছেন। সেজন্য নারীদের নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ও মানসিক দাসত্ব থেকে বের হতে বলেছেন। উদ্দীপকের কবিও নারীকে আত্মবিশ্বাস ও সক্রিয়তার ওপর জোর দিয়ে আত্মপ্রকাশে উদ্যোগী হতে বলেছেন। পুরুষতান্ত্রিক কাঠামো ভাঙতে পুরুষের মানসিকতার পরিবর্তনের পাশাপাশি নারীকেও নিজের অধিকার ও শক্তিতে বিশ্বাসী হয়ে উঠতে হবে। বেগম রোকেয়া ও উদ্দীপকের কবি দুজনেই নারী ও পুরুষ উভয়ের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনকেই নারীর মুক্তি ও সমাজের পূর্ণাঙ্গ উন্নতির পূর্বশর্ত হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।