| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ নটরডেম কলেজ ২০২৫ – মূল্যবোধ, আইন, স্বাধীনতা ও সাম্য, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৩
বিচারক নিয়োগের পদ্ধতি ৩টি।
সরকারের তিনটি বিভাগ রয়েছে। যথা- আইন, শাসন ও বিচার বিভাগ। ক্ষমতাস্বতন্ত্রীকরণ নীতির অর্থ সরকারের এ তিনটি বিভাগের ক্ষমতা ও কাজকে পৃথক বা স্বতন্ত্র করে দেওয়া। এক্ষেত্রে প্রতিটি বিভাগ তার নিজস্ব কর্মক্ষেত্রের মধ্যে স্বাধীন থাকবে। এক বিভাগ অন্য বিভাগের কাজে বাধা প্রদান বা হস্তক্ষেপ করবে না। এ নীতি অনুসারে আইন বিভাগ আইন প্রণয়ন করবে, শাসন বিভাগ সেসব আইন কার্যকর করবে এবং বিচার বিভাগ সেসব আইনের ব্যাখ্যাদান এবং বিভিন্ন মামলায় প্রয়োগ করবে।
উদ্দীপকে (?) চিহ্নিত স্থানে আইন বসবে।
আইন হলো বিধিবদ্ধ সেসব নিয়মকানুনের সমষ্টি যেগুলো একটি রাষ্ট্রের সার্বভৌম কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। রাষ্ট্রীয় জীবনের উন্নতি ও সুশৃঙ্খলা নিশ্চিত করার জন্য নিয়মকানুন বিধিবিধান প্রণীত হয়, সৃষ্টি হয় আইন। এই আইন একটি রাষ্ট্রে মূলত আইনসভা প্রণয়ন করে থাকে। তবে আইনসভা ছাড়াও আইনের আরও অনেক উৎস রয়েছে যেগুলো থেকে রাষ্ট্রে তার প্রয়োজনীয় বিধিবিধানগুলো ধারণ করে থাকে।
উদ্দীপকে (?) চিহ্নিত স্থানকে ধরে প্রথা, সংবিধান বিজ্ঞানসম্মত
আলোচনা ও ধর্ম উপাদানগুলোকে উপস্থাপন করা হয়েছে। উল্লিখিত এসব উপাদানগুলো আইনের উৎস হিসেবে পরিচিত। সে হিসেবে (?) চিহ্নিত স্থানের উপযুক্ত হলো আইন। অধ্যাপক হল্যান্ড আইনের ছয়টি উৎসের কথা বলেছেন। এগুলো হলো- প্রথা, ধর্ম, বিচারকের রায়, আইনবিদদের গ্রন্থ, ন্যায়বোধ ও আইনসভা। এ উৎসগুলোর মধ্য থেকে ছয়টি উৎস উদ্দীপকে উপস্থাপিত হয়েছে। এ থেকে বোঝা যায়, উদ্দীপকে আইনের প্রতিই আলোকপাত করা হয়েছে।
উদ্দীপকের (?) চিহ্নিত বিষয়টির সাথে তথা আইনের সাথে স্বাধীনতার গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
আইন স্বাধীনতার রক্ষক। কেননা, আইন না থাকলে স্বাধীনতা স্বেচ্ছাচারিতায় পরিণত হতো। কোনো কোনো চিন্তাবিদ আইনকে স্বাধীনতার পূর্বশর্ত বলে গণ্য করেছেন। তাদের মতে, এক একটি আইন এক একটি স্বাধীনতা। আইন স্বাধীনতাকে রক্ষা করে বলে ব্যক্তির আত্মোপলব্ধি ও ব্যক্তিত্বের বিকাশ সম্ভব হয়। আইন স্বাধীনতার দ্বারকে সকলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়। আইন স্বাধীনতার ক্ষেত্রকে প্রসারিত করে। যেমন- শ্রমিক কল্যাণের জন্য যেসব আইন প্রণীত হয়েছে এর দ্বারা মালিক শ্রেণির স্বেচ্ছাচারিতা সংকুচিত হয়েছে। আবার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণের প্রতিনিধিপুষ্ট আইনসভার মাধ্যমে যে আইন প্রণীত হয় তা জনগণের স্বাধীনতাকে প্রসারিত করে। একদিকে আইনের যৌক্তিক নিয়ন্ত্রণে স্বাধীনতার স্বাদ উপভোগ করা সম্ভবপর হয়ে ওঠে; অন্যদিকে স্বাধীনতার পূর্ণ বিকাশের সাথে সাথে ব্যক্তিত্বের পরিপূর্ণ বিকাশ সহজতর হয়। আইনহীন সমাজে স্বাধীনতা স্বেচ্ছাচারিতা আর অরাজকতার নামান্তর। স্বাধীনতাকে আইনের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও সুরক্ষিত করা হয়।
আলোচনার শেষে বলা যায়, আইন ও স্বাধীনতা একে অপরের পরিপূরক। আইন না থাকলে স্বাধীনতার অস্তিত্ব থাকে না। আর স্বাধীনতা না থাকলে আইনেরও প্রয়োজন হয় না।