| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ নটরডেম কলেজ ২০২৫ – রাজনৈতিক দল, নেতৃত্ব ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৬
সামাজিক মূল্যবোধ হলো সামাজিক মানুষের আচরণ নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করার নীতি ও আদর্শ।
বাংলাদেশ সংবিধানের মূলনীতি ৪টি। যথা- ১. জাতীয়তাবাদ, ২. সমাজতন্ত্র, ৩. গণতন্ত্র ও ৪. ধর্মনিরপেক্ষতা। সংবিধানে জাতীয়তাবাদ সন্নিবেশন করে বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাস-ঐতিহ্য সমুন্নত করে পৃথিবীর অন্যান্য জাতি থেকে বাঙালি জাতিসত্তাকে স্বাতন্ত্র মহিমায় উদ্ভাসিত করেছে। সমাজতন্ত্র সংবিধানের অন্যতম মূলনীতি। এর মাধ্যমে সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করে মানুষে মানুষে সমতা আনার চেতনা ধারণ করা হয়েছে। গণতন্ত্রকে সংবিধানের মূলনীতি হিসেবে চিহ্নিত করে বাংলাদেশের সংবিধানকে বিশ্বমানের সংবিধানে রূপ দেওয়া হয়েছে। ধর্মনিরপেক্ষতার মাধ্যমে মূলত ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার- এই মূলমন্ত্র সংবিধানে উজ্জীবিত হয়েছে।
'ক' ও 'খ' দলীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে যথাক্রমে একদলীয় ও বহুদলীয় ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে। তাই প্রশ্নের মর্মাথ অনুযায়ী একদলীয় ও বহুদলীয় ব্যবস্থার' পার্থক্য বর্ণনা করা হলো।
একদলীয় ব্যবস্থা গণতন্ত্র বিরোধী। এ ব্যবস্থায় জনগণের অংশগ্রহণ যেমন থাকে সীমিত তেমনি ব্যক্তির মত প্রকাশের স্বাধীনতা, সংগঠনের স্বাধীনতা, সরকারের সমালোচনা করার স্বাধীনতা থাকে না। পক্ষান্তরে, বহুদলীয় ব্যবস্থা গণতন্ত্রের প্রধান সূচক। বহুদলীয় ব্যবস্থায় জনগণ তাদের ইচ্ছামতো দল পছন্দ করে নেতা নির্বাচন করতে, নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠনে অংশ নিতে পারে এবং সরকারকে তাদের অংশ মনে করে। একদলীয় ব্যবস্থায় একটিমাত্র দল থাকায় নাগরিকগণের বিকল্প কোনো চিন্তা-চেতনা প্রকাশ করা সম্ভব হয় না। ফলে রাজনৈতিক বিকাশ ব্যহত হয় এবং জনমতের ভাবনা রাষ্ট্রকেন্দ্রিক না হয়ে ব্যক্তিকেন্দ্রিক হতে থাকে। বহুদলীয় ব্যবস্থায় জনগণ মুক্তি বুদ্ধি চর্চার সুযোগ পায়। এতে সরকার ও রাষ্ট্র একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে আবদ্ধ না থেকে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও বৈশ্বিক চাহিদার সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে পারে।
একদলীয় ব্যবস্থায় সমালোচনার সুযোগ না থাকায় একই দল একচ্ছত্রভাবে শাসন ক্ষমতায় থাকায় সরকারের স্বৈরাচারী ও দুর্নীতিপরায়ণ হয়ে উঠার আশঙ্কা থাকে কিন্তু বহুদলীয় ব্যবস্থায় ক্ষমতার লাটাই থাকে জনগণের নিকট। তাই সরকার সবসময়ই একটি অদৃশ্য জবাবদিহিতার আওতায় থাকে ফলে সমাজ ও রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি গড়ে উঠে।
পার্থক্য যাই থাকুক না কেন মূলকথা হলো উভয় ব্যবস্থারই কিছু দোষ-গুণ আছে। শাসকের ওপর নির্ভর করে এ দলীয়ব্যবস্থার সাফল্য।
'ক' ও 'খ' ব্যবস্থা অর্থাৎ একদলীয় ও বহুদলীয় রাজনৈতিক দল ব্যবস্থার মধ্যে বহুদলীয় ব্যবস্থা আমার নিকট গ্রহণীয়।
বহুদলীয় ব্যবস্থাই বর্তমান বিশ্বে সবর্জন স্বীকৃত ব্যবস্থা। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায়, একদলীয় কাঠামোর ওপর প্রতিষ্ঠিত সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা উগ্র ধর্মতান্ত্রিক শোষণ ও নির্যাতনের জাতাকলে পিষ্ট হয়ে জনগণকে একখন্ড পোড়া রুটির বেশি কিছু উপহার দিতে পারে নাই।
বহুদলীয় ব্যবস্থার অর্থ হলো রাষ্ট্রে একাধিক রাজনৈতিক দলের উপস্থিতি। এ ব্যবস্থায় এক দল সরকার গঠন করলে অন্য দলসমূহ ছায়া সরকার হিসেবে সরকারের সব কর্মকান্ডের দিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখে ফলে সরকারকে জনগণের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে হয়। বহুদলীয় ব্যবস্থায় রাজনৈতিক দলগুলো তাদের কর্মসূচি জনসম্মুখে প্রকাশ করার ফলে জনগণ সহজে সাদা ও কালার মধ্যে পার্থক্য বুঝতে পারে। বহুদলীয় ব্যবস্থায় শুধু সরকারই চাপে থাকে না বিরোধী দলসমূহ তাদের কর্মসূচি ও কর্মকাণ্ডের জন্য জনগণের নিকট দায়বদ্ধ থাকে। এভাবে সরকারি দল ও বিরোধী দলের দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে সৃষ্টি হয় সুশাসন আর সুশাসনই গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির। প্রধান বার্তাবাহক।
বহুদলীয় ব্যবস্থায় জনগণের মতামতের ভিত্তিতে সরকার গঠিত হয়। তাই জনগণ সরকারকে তাদের অংশ মনে করে। জনমনে এ চেতনার জন্ম হয় যে, সরকার তাদের এরূপ পরিবেশে সরকার ও জনগণের মধ্যে Bonding অধিকতর মজবুত হয়। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ভিত্তি হলো নির্বাচন। এক দলীয়ব্যবস্থার নির্বাচন ও প্রহসন সমার্থক শব্দ মাত্র। কিন্তু বহুদলীয় ব্যবস্থা ভোটপ্রদানের পছন্দক্রম থাকায় ভোটারদের প্রতি সরকারের সম্মানবোধ জন্মায়। এক্ষেত্রে ছোট-বড়, ধনী-গরিব, সবার মূল্যায়ন সমদৃষ্টিতে দেখা হয়। ফলে মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন এক ধরনের সমাজব্যস্থা গড়ে ওঠে।
মোটকথা হলো মানুষ জন্মগতভাবে স্বাধীন। একদলীয় ব্যবস্থা যেখানে মানুষের এ স্বাধীনতাকে শৃঙ্খলিত করে রাখে সেখানে বহুদলীয় ব্যবস্থা মানুষের চিন্তা, বিবেক ও কর্মের স্বাধীনতার ডানাগুলোকে উন্মুক্ত করে দেয়। তাই শুধু বহুদলীয় ব্যবস্থাই আমার নিকট গ্রহণীয় নয়, এটা আমার জোর দাবি।