| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ নটরডেম কলেজ ২০২৫ – সরকার কাঠামো ও সরকারের অঙ্গসমূুহ, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৭
যে শাসনব্যবস্থায় রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধান জনগণের দ্বারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নির্বাচিত হন, তাকে প্রজাতন্ত্র বলে।
যে শাসনব্যবস্থায় শাসন বিভাগ তাদের কাজের জন্য সংসদ বা আইনসভার নিকট দায়ী থাকে, তাকে সংসদীয় সরকার বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকারব্যবস্থা বলে। এ ধরনের শাসনব্যবস্থায় একজন নামমাত্র রাষ্ট্রপ্রধান থাকেন। সরকার পরিচালনায় প্রকৃত ক্ষমতা থাকে আইনসভার আস্থাভাজন মন্ত্রিসভার হাতে। প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভার নেতা ও সরকারপ্রধান। মন্ত্রিসভার সদস্যগণ ব্যক্তিগত ও যৌথভাবে তাদের কাজের জন্য সরকারের নিকট দায়ী থাকেন। আইনসভা অনাস্থা প্রকাশ করলে মন্ত্রিসভা পদত্যাগ করবে। উদাহরণস্বরূপ বাংলাদেশ, ভারত, মালয়েশিয়া প্রভৃতি দেশের কথা বলা যায়।
চিত্রে উল্লিখিত 'ক' চিহ্নিত স্থানটি সরকারের বিচার বিভাগকে নির্দেশ করে।
সরকার তিনটি বিভাগের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ হলো বিচার বিভাগ। সংবিধানের ব্যাখ্যাদান করাও বিচার বিভাগের অন্যতম দায়িত্ব। সর্বোপরি দুষ্টের দমন আর শিষ্টের পালন এই মহান ব্রত নিয়ে সরকারের বিচার বিভাগ কাজ করে থাকে।
উদ্দীপকের 'ক' চিহ্নিত স্থান সম্পর্কে বলা হয়েছে, এটি জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষা করে, কোনো কারণে নাগরিকের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হলে সংবিধানের ৪৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি হাইকোর্ট বিভাগে আবেদনের মাধ্যমে তার প্রতিকার পায়। সংবিধানের ব্যাখ্যা প্রদান করে, কোনো কারণে সাংবিধানিক জটিলতা সৃষ্টি হলে কিংবা শাসনতান্ত্রিক কোনো জটিল বিষয়ে বিচার বিভাগ সংবিধানের ব্যাখ্যা দিয়ে থাকে। যেমন- অন্তবর্তী সরকার নিয়োগের ব্যাপারে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট ব্যাখ্যা দিয়েছে। অপরাধীকে শাস্তি এবং নিরপরাধ ব্যক্তিকে মুক্তির মাধ্যমে বিচার বিভাগ দুষ্টের দমন শিষ্টের পালন করে থাকে। এরূপ কাজগুলো সরকারের বিচার বিভাগকে নির্দেশ করে।
তাই উদ্দীপকের 'ক' চিত্রের প্রদর্শিত উদ্দীপনা থেকে সহজেই বুঝা যায়, 'ক' চিহ্নিত স্থানে সরকারের বিচার বিভাগকে নির্দেশ করছে।
নাগরিক অধিকার সংরক্ষণে ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় বিচার বিভাগের গুরুত্ব অত্যধিক।
সরকারের তিনটি বিভাগের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ হলো বিচার বিভাগ। বিচার বিভাগ সারাদেশে এর নিম্ন আদালত, মধ্যম আদালত এবং উচ্চ আদালত দ্বারা বিচারকার্য পরিচালনা করে। কোথাও নাগরিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে মনে হলে বিচার বিভাগ সেখানে নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখে। আর আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় এর বিকল্প নেই। আইনের শাসন বলতে বোঝায়, সকলের জন্য আইনের সমান প্রয়োগ এবং তা দ্বারা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।
উদ্দীপকের বর্ণনায় বিচার বিভাগের প্রতিরূপ প্রকাশ পেয়েছে, যা একটি দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ও একচ্ছত্র ভূমিকা পালন করে। কেননা, বিচার বিভাগ বর্তমানে স্বাধীনভাবে নাগরিক অধিকার রক্ষা ও ব্যক্তিস্বাধীনতার রক্ষার অন্যতম রক্ষাকবচ। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আইন ও শাসন বিভাগের অভিভাবক হিসেবে বিচার বিভাগ নিয়োজিত। আইনের ব্যাখ্যা, আইন প্রণয়ন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, তদন্তসংক্রান্ত কাজ প্রভৃতির মাধ্যমে বিচার বিভাগ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করে। সরকার বা কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি সংবিধানে লিপিবদ্ধ নাগরিক অধিকারে হস্তক্ষেপ করে তাহলে বিচার বিভাগ তা প্রতিহত করে। আইন বিভাগ ও শাসন বিভাগের স্বেচ্ছাচারিতা রোধ করতে বিচার বিভাগ ও তার স্বাধীনতার কোনো বিকল্প নেই। দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালনের মাধ্যমে বিচার বিভাগ দেশে আইনের অনুশাসন নিশ্চিত করতে সর্বদাই নিযুক্ত থাকে। সুষ্ঠু-সুন্দর নাগরিক জীবন গঠনে আইনের শাসন অপরিহার্য আর বিচার বিভাগই এর নিশ্চয়তা বিধান করে থাকে।
আলোচনার পরিশেষে তাই বলা যায়, নাগরিকের অধিকার সংরক্ষণ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বিচার বিভাগের বিকল্প নেই।