| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘অঢেল সম্পত্তির মালিক…’ ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫ – সিরাজউদ্দৌলা, নাটক ও উপন্যাস, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

অঢেল সম্পত্তির মালিক রহমান সাহেব বিশ্বাস করে তার জমিজমা দেখাশোনার ভার দেন সেলিম মিয়াকে। রহমান সাহেব একদিন দেখেন তার সম্পত্তি সেলিম মিয়ার নামে হয়ে গেছে। এতদিন তিনি ভুল মানুষকে বিশ্বাস করেছেন। বিশ্বাস করা ভালো কিন্তু অন্ধবিশ্বাস – কখনো কখনো মানুষকে পথে বসিয়ে দেয়।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১
সিরাজউদ্দৌলার স্ত্রীর নাম লুৎফুন্নেসা।
"আমার সারা অস্তিত্বজুড়ে কেবল যেন দেয়ালের ভিড়।"-উক্তিটি দ্বারা নবাব সিরাজউদ্দৌলা প্রাসাদ ষড়যন্ত্র এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাঁর বেদনাদায়ক অবস্থা বোঝাতে চেয়েছেন।
বাংলার মসনদে আরোহণের পর থেকেই নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য প্রাসাদ ষড়যন্ত্র শুরু করেন সিরাজের খালা ঘসেটি বেগম। ক্ষমতা না পাওয়ায় ঘসেটি বেগমের মধ্যে প্রচণ্ড ক্ষোভবিরাজমান ছিল- নবাব তা বুঝতে পারতেন। মিরজাফর, জগৎশেঠ, রাজবল্লভের সঙ্গে ঘসেটি বেগম সিরাজের বিরুদ্ধে গোপন ষড়যন্ত্র শুরু করেন। ওদিকে দেশের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য ইংরেজ ও সিরাজের দ্বন্দ্বও দিন দিন বেড়েই চলছিল। সিরাজ তাঁর সেই বেদনায়ক অবস্থা বোঝাতেই স্ত্রী লুৎফুন্নেসার কাছে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন।
বিশ্বাসঘাতকতা করার কারণে উদ্দীপকের সেলিম মিয়া 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের মিরজাফর চরিত্রের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের অন্যতম একটি চরিত্র হলো মিরজাফর। তিনি বিশ্বাসঘাতক ছিলেন। তার বিশ্বাসঘাতকতার কারণেই সিরাজের পরাজয় হয় আর বাংলাদেশের স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয়।
উদ্দীপকে রহমান সাহেব বিশ্বাস করে সেলিম মিয়াকে তার জমিজমা দেখাশোনার দায়িত্ব দেন। কিন্তু সেলিম মিয়া জমিজমা নিজের করে নেয়। অর্থাৎ সে রহমান সাহেবের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে। 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে নবাব বিশ্বাস করে মিরজাফরকে প্রধান সেনাপতির দায়িত্ব দেন। কিন্তু তিনি এই বিশ্বাসের মর্যাদা রাখেননি। অর্থ ও ক্ষমতার লোভে তিনি নবাবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। ইংরেজদের সহায়তায় তিনি নবাবকে হটিয়ে নিজে মসনদে আরোহণ করেন, যা উদ্দীপকের সেলিম মিয়ার বিশ্বাসঘাতকতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
সিরাজউদ্দৌলা ও রহমান সাহেবের পরিণতির পরিপ্রেক্ষিতে "অন্ধবিশ্বাস মানুষকে কখনো কখনো পথে বসিয়ে দেয়”- মন্তব্যটি যথার্থ।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে সিরাজ বিশ্বাসঘাতকতার শিকার। তিনি জানতেন যে রাজ্যের অধিকাংশ সভাসদ তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তারপরও তিনি তাদের অন্ধের মতো বিশ্বাস করেছেন। যার ফলস্বরূপ দেশের স্বাধীনতা ও তাঁর প্রাণ দুটোই চলে যায়।
উদ্দীপকে রহমান সাহেব বিশ্বাসঘাতকতার শিকার। তিনি সেলিম মিয়াকে জমিজমা দেখাশোনার দায়িত্ব দিলে সেলিম মিয়া সব নিজের নামে করে নেয় এবং রহমান সাহেবকে পথে বসিয়ে দেয়। 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে নবাব সিরাজ তাঁর প্রধান সেনাপতি মিরজাফরকে বিশ্বাস করতেন এবং দেশের স্বার্থে ইংরেজের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য শপথও করিয়েছিলেন। বিভিন্ন ঘটনাচক্রে তিনি - বহুবার নবাবের ক্ষতি করার চেষ্টা করেন যা নবাবের দৃষ্টিগোচর হয়। শেষ পর্যন্ত পলাশি যুদ্ধের দায়িত্ব মিরজাফরের হাতে সমর্পণ করে তিনি শোচনীয় পরাজয়বরণ করেন। এর ফলে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয়।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে নবাব সিরাজউদ্দৌলা রাজ অমাত্যদের বিশ্বাসঘাতকতা ও দেশদ্রোহিতার শিকার হন। মিরজাফরকে বিশ্বাস করার দিক থেকে উদ্দীপকের বিষয়টি সম্পর্কিত। মিরজাফরের প্রতি অন্ধবিশ্বাসের কারণেই নবাব পরাজিত হন। এদিক বিচারে বলা যায়, - প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।