অধ্যাপক ডক্টর মনজুর রশীদের গবেষণার বিষয় ছিল নাট্যসাহিত্য। নাটকের প্রতি তাঁর ভীষণ আগ্রহ; নাটক লেখেন, নাট্যরূপ দেন, আবার মঞ্চায়নেরও ব্যবস্থা করেন। নিজ জেলা কুষ্টিয়ার বিভিন্ন লোককবির পালাগান ও কাহিনি সংগ্রহের কাজে হাত দেন। একবার পদ্মা-গড়াই নদীর তীরবর্তী এলাকার দুইজন লোককবির লোকগাথা সংগ্রহ করে নাট্যরূপ দেন এবং নিজেই পরিচালনা ও নির্দেশনা দিয়ে সেগুলো দেশে-বিদেশে মঞ্চায়নের ও প্রচারের ব্যবস্থা করেন।
পল্লিসাহিত্য সম্পদের মধ্যে পল্লিগানগুলো অমূল্য রত্নবিশেষ।
'আজ দুঃখে দৈন্যে প্রাণে সুখ নেই।'- বলতে পল্লিসাহিত্যের বর্তমান দৈন্যদশাকে বোঝানো হয়েছে।
'পল্লিসাহিত্য' প্রবন্ধে লেখক পল্লিসাহিত্যের অনুষঙ্গগুলোকে অমূল্য সম্পদ বলে উল্লেখ করেছেন। বাংলার পল্লির প্রত্যেক পরতে পরতে সাহিত্য ছড়িয়ে আছে। অথচ আমাদের সচেতন সাহিত্য সমাজ পল্লির অমূল্য সেসব সাহিত্যের কদর করছে না। নব্য শহুরে সাহিত্যের প্রতি তারা বেশি অনুরাগী হয়ে উঠেছে। যারা পল্লির এসব সাহিত্য তৈরি ও চর্চা করত তারাও আজ দুঃখ-দৈন্যে আক্রান্ত। আমাদের মনে সুখের পরশ নেই। প্রশ্নোক্ত উক্তিটিতে আমাদের উদাসীনতা ও পারিপার্শ্বিকতার দুরাচারে পল্লিসাহিত্য আজ যে বিপন্ন তাই বোঝানো হয়েছে।
উদ্দীপকের অধ্যাপক ডক্টর মনজুর রশীদের কাজের মাধ্যমে পল্লিসাহিত্য' প্রবন্ধের লোকসাহিত্য সংগ্রহ ও প্রসারের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
লোকসাহিত্যগুলোর সাথে জড়িয়ে রয়েছে বাঙালির আবহমানকালের বিচিত্র সংস্কৃতির নানা বিষয়। মানুষের নিত্যদিনের সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা প্রভৃতি জীবনকাহিনি স্থান পেত এসব লোকসাহিত্যে। এসব সাহিত্যে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের নানা অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞান ফুটে উঠত।
উদ্দীপকের অধ্যাপক ডক্টর মনজুর রশীদ নাট্যসাহিত্য নিয়ে গবেষণা করেন। নিজ জেলা কুষ্টিয়ার বিভিন্ন লোককবির পালাগান ও কাহিনি সংগ্রহের কাজে হাত দেন। গড়াই নদীর তীরবর্তী এলাকার দুজন লোককবির লোকগাথা সংগ্রহ করে নাট্যরূপ দেন এবং নিজে পরিচালনা ও নির্দেশনা দিয়ে সেগুলো দেশে-বিদেশে মঞ্চায়ন ও প্রচারের ব্যবস্থা করেন। 'পল্লিসাহিত্য' প্রবন্ধে লেখক ঐতিহ্যবাদী পল্লিসাহিত্যগুলোর গুরুত্ব তুলে ধরে এগুলোর বিলুপ্ত হওয়ার জন্য ব্যথিত হয়েছেন। তিনি এগুলোকে সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করার প্রতি সবাইকে আহ্বান জানিয়েছেন, যা উদ্দীপকের অধ্যাপক ডক্তর মনজুর রশীদের কাজের মাধ্যমে ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকের অধ্যাপক ডক্টর মনজুর রশীদ যেন ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর কাঙ্ক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক দলের সার্থক প্রতিনিধি- মন্তব্যটি যথার্থ।
লোকসাহিত্যের নানা উপাদান এ দেশের মানুষের প্রাণের সঙ্গে মিশে আছে। এসব উপাদানের সঙ্গে মিশে আছে মানুষের অস্তিত্বের শিকড়। অথচ কালের করাল গ্রাসে পল্লিসাহিত্যগুলো আজ বিলুপ্তির পথে।
'পল্লিসাহিত্য' প্রবন্ধে লেখক বাংলার সমৃদ্ধ পল্লিসাহিত্যের বিভিন্ন শাখা তুলে ধরে শহুরে সাহিত্যের প্রভাবে এর জৌলুস হারানোর দিকটি তুলে ধরেন। পাশাপাশি হারিয়ে যেতে বসা পল্লিসাহিত্যের গুরুত্ব উল্লেখ করে এগুলো সংগ্রহ, প্রচার ও প্রসারের জন্য তিনি গবেষক ও আগ্রহী সাহিত্যিকদের আহ্বান জানান। যারা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে বাংলার গ্রামে-গঞ্জে, পল্লিগ্রামের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে থাকা এই পল্লিসাহিত্যকে সংগ্রহ করে প্রচার ও প্রসার ঘটাবেন।
উদ্দীপকের অধ্যাপক ডক্টর মনজুর রশীদ নিজ জেলা কুষ্টিয়ার বিভিন্ন লোককবির পালাগান ও কাহিনি সংগ্রহের কাজে লেগে পড়েন। লোকগাথা সংগ্রহ করে তিনি নিজেই সেগুলো দেশে-বিদেশে মঞ্চায়ন ও প্রচারের ব্যবস্থা করেন। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের অধ্যাপক ডক্টর মনজুর রশীদ যেন ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর কাঙ্ক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক দলের সার্থক প্রতিনিধি- মন্তব্যটি যথার্থ।
