| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘অধ্যাপক স্পেংলার এর…’ আবদুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজ ২০২৬ – দেশপ্রেম ও জাতীয়তা, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র (এইচএসসি)

অধ্যাপক স্পেংলার এর মতে, “জাতীয়তার উপাদান বংশগত বা ভাষাগত ঐক্য নয়, বরং এটি ভাবগত ঐক্য।”
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১০
পৃথিবীর সব দেশের সব মানুষের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, প্রযুক্তি ও সাংস্কৃতিক নৈকট্য ও একাত্মতার ধারণাই হলো বিশ্বায়ন।
নিজের সম্পাদিত কাজের জন্য অন্য ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখাদানের বাধ্যবাধকতাই হচ্ছে জবাবদিহিতা।
জবাবদিহিতা একটি সুশাসিত রাষ্ট্রপরিচালনার অপরিহার্য উপাদান। এটি সরকারের সকল কর্মকাণ্ডের স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করে। জনগণের প্রতি দায়িত্ব পালনের মানসিকতা সৃষ্টি করতে জবাবদিহিতা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে প্রশাসনে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করা যায়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত জাতীয়তার উপাদান ব্যতীত অন্য উপাদানগুলো আলোচনা করো।
হ্যাঁ, আমি অধ্যাপক স্পেংলারের এই মতের সাথে একমত যে, জাতীয়তার মূল ভিত্তি হলো ভাবগত বা মানসিক ঐক্য।
জাতীয়তা মূলত একটি মানসিক ধারণা বা আত্মিক অনুভূতি। যখন কোনো জনসমষ্টির মধ্যে এই বোধ জাগ্রত হয় যে তারা একে অপরের সাথে নিবিড়ভাবে জড়িত এবং অন্য জনসমষ্টি থেকে আলাদা, তখনই জাতীয়তার সৃষ্টি হয়। এই ভাবগত ঐক্যই একটি জনসমষ্টিকে জাতিতে রূপান্তরের প্রেরণা জোগায় এবং তাদের মধ্যে সংহতি বজায় রাখে।
উদ্দীপকে অধ্যাপক স্পেংলার বংশগত বা ভাষাগত ঐক্যের চেয়ে ভাবগত ঐক্যকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। অনেক সময় দেখা যায় একই বংশের বা একই ভাষায় কথা বলা সত্ত্বেও মানুষের মধ্যে জাতীয়তাবোধ গড়ে ওঠে না। আবার ভিন্ন ভাষা বা ধর্মের হওয়া সত্ত্বেও কেবল মানসিক ঐক্যের কারণে একটি শক্তিশালী জাতীয়তা গড়ে উঠতে পারে। যেমন- আমেরিকা বা সুইজারল্যান্ডের অধিবাসীদের মধ্যে ভাষাগত বা বংশগত বৈচিত্র্য থাকলেও তাদের ভাবগত ঐক্যই তাদের জাতীয়তার মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
পরিশেষে বলা যায়, জাতীয়তার অন্যান্য উপাদান যেমন ভাষা, ধর্ম বা বংশগত ঐক্য জাতীয়তা গঠনে সহায়ক ভূমিকা পালন করলেও ভাবগত ঐক্য ছাড়া তা পূর্ণতা পায় না। মানুষের মনের গভীরের একাত্মবোধই হলো জাতীয়তার প্রাণশক্তি। তাই অধ্যাপক স্পেংলারের উক্তিটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও যৌক্তিক, কারণ এই ভাবগত ঐক্যই জাতীয়তাকে স্থায়িত্ব ও গণতান্ত্রিক সংহতি দান করে।