| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘”অদ্ভুত আঁধার এক…’ a – সুচেতনা, পদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

|
“অদ্ভুত আঁধার এক এসেছে এ-পৃথিবীতে আজ, যারা অন্ধ সবচেয়ে বেশি আজ চোখে দ্যাখে তারা; যাদের হৃদয়ে কোনো প্রেম নেই প্রীতি নেই করুণার আলোড়ন নেই পৃথিবী অচল আজ তাদের সুপরামর্শ ছাড়া। |
যাদের গভীর আস্থা আছে আজো মানুষের প্রতি এখনো যাদের কাছে স্বাভাবিক বলে মনে হয় মহৎ সত্য বা রীতি, কিংবা শিল্প অথবা সাধনা শকুন ও শেয়ালের খাদ্য আজ তাদের হৃদয়।” |
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১২
সুচেতনা' কবিতাটি জীবনানন্দ দাশের 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থ থেকে চয়ন করা হয়েছে।
➤ 'সুচেতনা' কবিতার প্রশ্নোক্ত পঙক্তিতে কবি সমকালীন অশান্ত-বিক্ষুব্দ পৃথিবীর চিত্র তুলে ধরেছেন।
➤ পৃথিবীর সামাজিক-অর্থনৈতিক বিপর্যয়, হিংসা, হানাহানি, হত্যা, ধ্বংস ইত্যাদি কবিকে আহত করেছে। কবি দেখেছেন মানুষই মানুষকে হত্যা করছে স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য। পরিজনদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়ে নিজে বাঁচার চেষ্টা করছে। এই অমানবিক দিকগুলোকে কবি পৃথিবীর গভীরতর অসুখ বলে আখ্যায়িত করেছেন।
সারকথা: 'পৃথিবীর গভীর গভীরতর অসুখ' বলতে এ কবি সমকালীন অশান্ত বিক্ষুদ্ধ পৃথিবীর কথা বুঝিয়েছেন।
➤ উদ্দীপকটিতে 'সুচেতনা' কবিতার বৈশ্বিক সংকটের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
➤ সত্য ও সুন্দরের সমন্বয়ে যে প্রেম মানবমনে গড়ে ওঠে তা দ্বারা পৃথিবী পরিচালিত হয়। অথচ বর্তমান বিশ্ব পরিচালিত হচ্ছে অর্থ ও বিত্ত দ্বারা, যেখানে মানবিকতা ও প্রেম-ভালোবাসার কোনো মূল্য নেই। অথচ এখনও পৃথিবী টিকে আছে প্রেম ও ভালোবাসার ওপর।
➤ উদ্দীপকের কবিতাংশে কবি অদ্ভুত এক অন্ধকার পৃথিবীতে আসার কথা বলেছেন। কবির মতে, যাদের হৃদয়ে কোনো প্রেম নেই, প্রীতি নেই, নেই কোনো করুণার আলোড়ন পৃথিবী আজ তাদের পরামর্শে পরিচালিত হচ্ছে। যাদের দ্বারা পৃথিবী সুন্দর হওয়ার কথা ছিল তাদের হৃদয় শকুন ও শেয়ালের খাদ্যে পরিণত হয়েছে। উদ্দীপকের কবির এই মানবিক সংকট 'সুচেতনা' কবিতায়ও প্রকাশ পেয়েছে। বলা হয়েছে পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে সভ্যতাকে সঙ্গে নিয়ে। কিন্তু সভ্যতা বিকাশের পাশাপাশি বহু যুদ্ধ-রক্তপাত-প্রাণহানি সংঘটিত হওয়ায় তৈরি হয়েছে এক তীব্র সংকট। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকটিতে 'সুচেতনা' কবিতার বৈশ্বিক সংকটের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
সারকথা: উদ্দীপকের কবি পৃথিবীর প্রেম-ভালোবাসার বিপরীতে যে উপস্থাপন করেছেন। অন্যদিকে 'সুচেতনা' কবিতায়ও এই সংকট তা সংকটের চিত্র দেখা যায়।
➤ "উদ্দীপকটিতে 'সুচেতনা' কবিতার সমগ্র দিক উন্মোচিত হয়নি।"- উক্তিটি যথার্থ।
➤ সভ্যতার ছোঁয়া নিয়ে পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু পৃথিবী সামনে এগিয়ে গেলেও মানবিকতার বিপরীতে পৃথিবীর সংকটাপন্ন রূপও দেখতে পাই। এই সংকট থেকে মুক্তির পথ প্রেম ও ভালোবাসার মাঝে নিহিত।
➤ উদ্দীপকের কবিতাংশে কবি এক বৈশ্বিক সংকট চিহ্নিত করেছেন। যে সংকট তৈরি হয়েছে হৃদয়হীন, নির্মম ও নিষ্ঠুর মানুষ দ্বারা। পৃথিবী এসব মানুষের পরামর্শ মতো পরিচালিত হচ্ছে। অথচ যাদের হৃদয় প্রেম-ভালোবাসা দিয়ে পরিপূর্ণ তাদের দিকে পৃথিবীর সুনজর নেই। এই অমানবিক অবস্থা নিঃসন্দেহে পৃথিবীর জন্য সংকটের। এই সংকটের কথা 'সুচেতনা' কবিতায়ও বলা হয়েছে। সভ্যতাকে সঙ্গে নিয়ে পৃথিবী, এখনও বের হতে পারেনি। এই বিষয়টি ছাড়াও আলোচ্য কবিতায় কবির চেতনাজাত প্রার্থনা, বিশ্বাস, ধারণা, উত্তরণের পথ, সত্য ও সুন্দর প্রভৃতি বিষয় রয়েছে, যেগুলো উদ্দীপকের কবিতাংশে অনুপস্থিত।
➤ 'সুচেতনা' কবিতায় ও উদ্দীপকের কবিতাংশে বৈশ্বিক সংকটির চিত্র উঠে এসেছে। কিন্তু আলোচ্য কবিতায় এটি ছাড়াও আরও অনেক বিষয় রয়েছে যেগুলো উদ্দীপকে অনুপস্থিত। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকটিতে 'সুচেতনা' কবিতার সমগ্র দিক উন্মোচিত হয়নি।
সারকথা: উদ্দীপকে মানবিক সংকটের কথা বলা হয়েছে। 'সুচেতনা' কবিতায় মানবিক সংকটের বিষয়টি উঠে এসেছে। এই বিষয়টি ছাড়াও আরও কিছু বিষয় 'সুচেতনা' কবিতায় রয়েছে। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।