A. Nayanㅤ
A. Nayan
15 Oct 2026 (2 weeks ago)
Dhaka, Narayanganj

সৃজনশীলঃ ‘ওই দেখ, ওই…’ যশোর বোর্ড ২০২৫ – সিরাজউদ্দৌলা, নাটক ও উপন্যাস, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)


📘 ক্লাস ১১শ–১২শ🎓 গ্রুপ সাধারণ📚 বই বাংলা📖 বিষয় ১ম পত্র📂 বিভাগ নাটক ও উপন্যাস🧩 অধ্যায় ১ম অধ্যায় — সিরাজউদ্দৌলা🔢 সৃজনশীল নং ১০৯🏫 বোর্ড যশোর বোর্ড📅 সাল ২০২৫⭐ গুরুত্ব ★★★★★
🔊 স্মার্ট বাংলা Text Readerসম্পূর্ণ বাক্য highlight · প্রশ্নের পর উত্তর · সরাসরি seek
০%
ভয়েস লোড হচ্ছে।

ওই দেখ, ওই যেন চিত্রিত প্রাচীর
ওই তব সৈন্যগণ
দাঁড়াইয়া অকারণ,
গনিতেছে লহরী কি রণ-পয়োধির?
দেখিছ না সর্বনাশ সম্মুখে তোমার?
যায় বঙ্গ সিংহাসন
যায় স্বাধীনতা-ধন
যেতেছে ভাসিয়া সব, কি দেখিছ আর?

✦ PREMIUM STUDY EXPERIENCE

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

১ম পত্র · অধ্যায় ১

✦উত্তর ও বিশ্লেষণANSWER

"আমি বরং নবাবকে বিশ্বাস করতে পারি।"- উক্তিটি রবার্ট ক্লাইভের।

০%
প্রথমে প্রশ্ন, তারপর উত্তর শুনতে চাপ দিন।
✦উত্তর ও বিশ্লেষণANSWER

"আমার সারা অস্তিত্বজুড়ে কেবল যেন দেয়ালের ভিড়।"-উক্তিটি দ্বারা নবাব সিরাজউদ্দৌলা প্রাসাদ ষড়যন্ত্র এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাঁর বেদনাদায়ক অবস্থা বোঝাতে চেয়েছেন।

বাংলার মসনদে আরোহণের পর থেকেই নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য প্রাসাদ ষড়যন্ত্র শুরু করেন সিরাজের খালা ঘসেটি বেগম। ক্ষমতা না পাওয়ায় ঘসেটি বেগমের মধ্যে প্রচণ্ড ক্ষোভবিরাজমান ছিল- নবাব তা বুঝতে পারতেন। মিরজাফর, জগৎশেঠ, রাজবল্লভের সঙ্গে ঘসেটি বেগম সিরাজের বিরুদ্ধে গোপন ষড়যন্ত্র শুরু করেন। ওদিকে দেশের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য ইংরেজ ও সিরাজের দ্বন্দ্বও দিন দিন বেড়েই চলছিল। সিরাজ তাঁর সেই বেদনায়ক অবস্থা বোঝাতেই স্ত্রী লুৎফুন্নেসার কাছে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন।

০%
প্রথমে প্রশ্ন, তারপর উত্তর শুনতে চাপ দিন।
✦উত্তর ও বিশ্লেষণANSWER

উদ্দীপকের 'ওই তব সৈন্যগণ/দাঁড়াইয়া অকারণ' প্রসঙ্গটি 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের সঙ্গে পলাশি যুদ্ধের ময়দানে ইংরেজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ না করে মিরজাফরের হুকুমে সেনাদের নিষ্ক্রিয় দাঁড়িয়ে থাকার দিক দিয়ে সংগতিপূর্ণ।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে নবাবের অমাত্যবর্গ তাঁর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে এবং ষড়যন্ত্র করে ইংরেজদের সঙ্গে হাত মেলায়। ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশির প্রান্তরে ইংরেজ বাহিনীর বিরুদ্ধে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজদ্দৌলার যুদ্ধ হয়। সিরাজের সেনাবাহিনী শক্তিশালী থাকলেও তাদের একটা বিশাল অংশ ইংরেজদের সঙ্গে গোপনে হাত মেলায়, যার পরিপ্রেক্ষিতে যুদ্ধের ময়দানে গিয়ে মোহনলাল, মিরমর্দান ও সাঁফ্রে ছাড়া প্রায় সবাই দর্শকের ভূমিকা পালন করে। তারপরও তারা যুদ্ধে জয়ী হতেন যদি মিরজাফরের কুচক্রান্তে যুদ্ধ বন্ধ করা না হতো। আর সেজন্যই বলা হয়েছে- 'পলাশিতে যুদ্ধ হয়নি, হয়েছে যুদ্ধের অভিনয়।'
উদ্দীপকের কবিতাংশে যুদ্ধ না করে সেনাদের অকারণে দাঁড়িয়ে থাকার কথা বলা হয়েছে। কবিতাংশের কবি জানতে চেয়েছেন, তারা কি সামনে প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে, দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে রণ-পয়োধির লহরী গণনা করবে? তারা কি তাদের সামনে আসন্ন সর্বনাশ সম্পর্কে ধারণা করতে পারছে না? বাংলার সিংহাসন যে হারিয়ে যেতে বসেছে, শ্রেষ্ঠ ধন স্বাধীনতা যে হারিয়ে যাচ্ছে তা কি তারা দেখছে না? তাদের চোখের সামনে সব ভেসে যাচ্ছে; আর তারা অকারণে দাঁড়িয়ে আছে। শত্রুর মোকাবিলা করছে না। সেনাদের এইভাবে দাঁড়িয়ে থাকার এই বিষয়টি পলাশিতে যুদ্ধের ময়দানে মিরজাফরের নির্দেশে সেনাদের দাঁড়িয়ে থাকার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

০%
প্রথমে প্রশ্ন, তারপর উত্তর শুনতে চাপ দিন।
✦উত্তর ও বিশ্লেষণANSWER

উদ্দীপকের কবিতাংশের মূলভাব বিচারে "উদ্দীপকে নবাব সিরাজের পরিণতির আশঙ্কাই যেন বর্ণিত হয়েছে" মন্তব্যটি যথার্থ।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে মহান শাসক, দেশপ্রেমিক নবাব ও অকুতোভয় বীর নবাব সিরাজ প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের শিকার হন এবং সেনাপতি, অমাত্যদের বিশ্বাসঘাতকতায় পলাশির যুদ্ধে ইংরেজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে পরাজিত ও বন্দি হন। পরে কারাগারের ভিতরেই তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। তাঁর এই করুণ পরিণতির অর্থাৎ সিংহাসন ও স্বাধীনতা হারানোর জন্য দায়ী মিরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতা।

উদ্দীপকের কবিতাংশে সেনাদের নিষ্ক্রিয় দাঁড়িয়ে থাকার যে বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে তাতে ১৭৫৭ সালে পলাশির প্রান্তরে বাংলার স্বাধীনতা হারানোর বিষয়ের দিকটির মিল রয়েছে। পলাশির প্রান্তরে এদেশের সেনারা প্রাচীরের মতো দাঁড়িয়ে থেকেছে। স্বদেশ, স্বদেশের স্বাধীনতার ধ্বংস আসন্ন জেনেও তারা শত্রুর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়নি। তারা দেশের স্বাধীনতা রক্ষায় এগিয়ে যায়নি। তারা অকারণে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে এদেশের ধ্বংস, স্বাধীনতা হারিয়ে যাওয়ার দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেছে। উদ্দীপকের কবি তাই প্রশ্ন ছুড়েছেন- "সম্মুখে যে সর্বনাশ তা কি তারা দেখছে না? বাংলার সিংহাসন ও স্বাধীনতা যে ভেসে যাচ্ছে।" উদ্দীপকের কবি যেন 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের নবাব সিরাজের পরিণতির আশঙ্কাই কবিতায় ব্যক্ত করেছেন।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে বাংলার শেষ নবাব সিরাজউদ্দৌলার নির্মম পরিণতির ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। তাঁর এই পরিণতির পেছনে কাজ করেছে তাঁর নিকট আত্মীয় ও অমাত্যদের হীন চক্রান্ত ও বিশ্বাসঘাতকতা; যা পলাশির যুদ্ধে পরাজয়ের মধ্য দিয়ে নিশ্চিত হয়েছে। এই বিষয়টি উদ্দীপকের মূলভাবেও প্রতিফলিত হয়েছে। তাই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

০%
প্রথমে প্রশ্ন, তারপর উত্তর শুনতে চাপ দিন।
0 Views
No Comments
Share
0
No comments to “সৃজনশীলঃ ‘ওই দেখ, ওই…’ যশোর বোর্ড ২০২৫ – সিরাজউদ্দৌলা, নাটক ও উপন্যাস, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)”