| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘”ওই-যে দাঁড়ায়ে নতশিরমুক…’ তথ্যসূত্র: এবার ফিরাও ঘোরে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরা – যৌবনের গান, গদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

“ওই-যে দাঁড়ায়ে নতশির
মুক সবে, ম্লানমুখে লেখা শুধু শত শতাব্দীর
বেদনার করুণ কাহিনী, স্কন্দ্বে যত চাপে ভার
বহি চলে মন্দগতি যতক্ষণ থাকে প্রাণ তার-“
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১২
'যৌবনের গান' প্রবন্ধে লেখকের গান করার স্বভাব বনের পাখির মতো।
➤ 'যৌবনের গান' প্রবন্ধে 'একমাত্র সম্বল' বলতে লেখক তরুণদের প্রতি তাঁর অপরিসীম ভালোবাসা ও প্রত্যাশাকে বুঝিয়েছেন।
➤ 'যৌবনের গান' প্রবন্ধে লেখক তরুণদের প্রতি তার অনুরাগ ও প্রত্যাশার কথা বলেছেন। কারণ তারুণ্য সত্য ও ন্যায়ের পূজারি, উদার ও মহৎ, সাহসী ও অমিত শক্তির অধিকারী। সমাজে যা কিছু জীর্ণ সেগুলো ভেঙে নতুন করে গড়ার দুঃসাহস কেবল তরুণদেরই আছে। যুগে যুগে তারুণ্যশক্তিই নিজেদের মতো করে পৃথিবীকে গড়ে নিয়েছে। তারাই হতাশের বুকে আশা জাগিয়েছে। তারুণ্যশক্তি কর্মপ্রেরণার মাধ্যমে বেহেশত ও বেহেশতি চিজ অর্জন করে নিতে পারে। এসব কারণে তারুণ্যের প্রতি কবির অপরিসীম দরদ ও টান। তাই তারুণ্যশক্তিই তাঁর একমাত্র সম্বল।
সারকথা: 'যৌবনের গান' প্রবন্ধে 'একমাত্র সম্বল' বলতে তরুণদের প্রতি লেখকের অপরিসীম ভালোবাসা ও । প্রত্যাশাকে বুঝিয়েছেন।
➤ যৌবনশক্তি দুর্বলের বন্ধু ও আশাহতদের প্রেরণাদাতা হওয়ার দিক থেকে উদ্দীপকটি 'যৌবনের গান' প্রবন্ধের সঙ্গে সম্পর্কিত।
➤ তরুণরা অমিত প্রাণশক্তির অধিকারী। জগতের মহৎ কাজের ধারা অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা অবিস্মরণীয়। তারা পুরানো ও জড়তাকে ভেঙ্গো নতুন সৃষ্টিতে মেতে ওঠে। তারা মানবিক ও কল্যাণের পথে কাজ করে।
➤ উদ্দীপকে দরিদ্র-দুর্বল অসহায় মানুষের কথা বলা হয়েছে। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে তারা মুক ও ম্লান হয়ে আছে। কারণ তাদের দুবেলা আহার জোটে না। তাদের শিক্ষা-দীক্ষার কথা কেউ বলে না। তারা মুখ বুজে সব রকম কষ্ট, নির্যাতন, গ্লানি সহ্য করে যায়। তারা দুর্বল বলে নিজেদের অধিকারের কথা বলতে পারে না। 'যৌবনের গান' প্রবন্ধে তরুণরা বিপন্ন মানবতার পাশে দাঁড়ায় এবং তাদের প্রাণশক্তিকে জাগিয়ে তোলে, অধিকার সচেতন করে। ঐক্যবদ্ধভাবে অধিকার আদায়ের প্রেরণা জোগায় তারা। ফলে মূক মুখে ভাষা ফোটে আর ম্লান মুখে ছড়িয়ে পড়ে হাসি। শতাব্দীকাল ধরে শোষিত-বঞ্চিত মানুষ মেরুদন্ড সোজা করে বাঁচতে শেখে। এভাবে উদ্দীপক ও 'যৌবনের গান' প্রবন্ধের মধ্যে সম্পর্ক বিদ্যমান।
সারকথা: দুর্বলের পক্ষে সহায়ক শক্তি হওয়ার দিক থেকে উদ্দীপক ও 'যৌবনের গান' প্রবন্ধ সম্পর্কিত।
➤ "উদ্দীপকে 'যৌবনের গান' প্রবন্ধে উল্লিখিত যৌবনের মাতৃরূপ প্রতিফলিত হয়েছে।" মন্তব্যটি যথার্থ।
➤ যুগে যুগে তারুণ্যই অফুরন্ত প্রাণশক্তির উৎস হিসেবে প্রশংসা কুড়িয়েছে। কেননা তারা দুর্বার উদ্দীপনা, ক্লান্তিহীন উদাহ অপরিমেয় ঔদার্য, বিপুল মনোবলের অধিকারী। মৃত্যুকে তুচ্ছ করে প্রগতিশীল কল্যাণকর জীবন রচনায় তাদের বিকল্প নেই।
➤ 'যৌবনের গান' প্রবন্ধে লেখক তারুণ্যের প্রশস্তি করেছেন। তারুণ্যের তেজ, শক্তি, গতিবেগ, আশা, উৎসাহ, ঔদার্য, সাধনা- সবকিছুই নতুন ও প্রগতিশীল সমাজ তথা সভ্যতা গড়ে তোলার জন্য। যৌবনশক্তি কেবল আবিষ্কার, উদ্ভাবন, সৃজনশীল কাজের মাধ্যমে কল্যাণকর, শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ বিশ্ব গড়ে তুলবে। তারুণ্যশক্তি দুর্বলের পাশে বল হয়ে দাঁড়াবে, আশাহতের বুকে আশা জাগাবে। উদ্দীপকেও অনুরূপ চেতনার প্রতিফলন ঘটেছে। যারা দুর্বল তাদের প্রতি মানবিক বোধ থেকেই তাদের অবস্থা তুলে ধরেছেন।
➤ উদ্দীপকের প্রতিটি চরণে ক্লিষ্টতার যে করুণ হাহাকার প্রতিধ্বনিত হয়েছে তা বেদনাদায়ক। কারণ এখনও অনেকের মুখে প্রতিবাদের ভাষা নেই। যেন নত শিরে সবকিছু মেনে নেওয়াই তাদের নিয়তি। তাই কাঁধে ভারী বোঝা নিয়ে ধীর পায়ে তারা এগিয়ে যায় কোনো রকমে প্রাণ বাঁচিয়ে। তারুণ্যশক্তি এসব ম্লানমুখ ও মুকের প্রতি সহানুভূতিশীল, তারাই এদেরকে দেখায় আশার আলো, বুকে জাগায় অধিকার নিয়ে বেঁচে থাকার স্বপ্ন। এদিক থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
সারকথা: যৌবনের মাতৃরূপ- কথাটির মাধ্যমে যৌবনের বিদ্রোহী ও সংগ্রামী রূপের পাশাপাশি তারুণ্যশক্তির মানবিক চেতনায় দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।