ওই যে দেখ নীল-নোয়ান সবুজ ঘেরা-গাঁ,
কলার পাতা দোলায় চামর শিশির ধোয়ায় পা,
সেথায় আছে ছোট কুটির সোনার পাতায় ছাওয়া,
সাঁঝ আকাশের ছড়িয়ে-পড়া আবীর রঙে নাওয়া,
সেই ঘরেতে একলা বসে ডাকছে আমার মা
সেথায় যাব, ও ভাই এবার আমায় ছাড় না।
কবি পল্লি-দুলালের কাঁধে হাত রেখে উদাস বেশে ঘুরে বেড়াবেন।
ডাহুক মেয়ে বেতস কেয়ার বনে আসর মাতায়।
'যাব আমি তোমার দেশে' কবিতায় কবি পল্লি-দুলালের সঙ্গে তার পল্লিগ্রামে বেড়াতে যেতে চান। প্রকৃতি যেন সেই গ্রামকে ঘিরে রেখেছে। তার বনের শীর্ষে আকাশ, পায়ের কাছে দিক-হারা মাঠ। কবি সেই পল্লিগ্রামের নানা সৌন্দর্যমণ্ডিত প্রাকৃতিক দৃশ্য অবলোকন করবেন।' প্রকৃতির এই অনুষঙ্গগুলো বর্ণনা করতে গিয়ে কবি উল্লেখ করেন যে, ডাহুক পাখি যেন মেয়ে রূপে বেতস - 'কেয়ার বনে আসর মাতায়।
উদ্দীপকের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বর্ণনা ও প্রকৃতির অনুষঙ্গগুলোর সঙ্গে 'যাব আমি তোমার দেশে' কবিতার সাদৃশ্য রয়েছে।
'যাব আমি তোমার দেশে' কবিতায় কবি আশ্রয় নিতে চান পল্লির-সরল জীবনে। ধানখেতের গন্ধ, কদম-কলির সুবাস, বনের ছায়া আর শিশুর খেলার হাসি তাঁকে টানে। তিনি চান এই প্রকৃতিময় পল্লিজীবনের সান্নিধ্যে নিজের মায়ের কাছে ফিরে যেতে।
উদ্দীপকেও দেখা যায়, নীল নোয়ানো সবুজ ঘেরা গাঁ, যেখানে কলার পাতা চামর দোলায়, শিশির পা ধুয়ে দেয়। সেখানে সোনার পাতায় ছাওয়া ছোট কুটির আছে, যেখানে সাঁঝ আকাশে আবির রঙের মতো সৌন্দর্য ঢেলে পড়ে। এমন অনাবিল প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের - বর্ণনা আলোচ্য কবিতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, 'যাব আমি তোমার দেশে' কবিতার সঙ্গে উদ্দীপকের প্রকৃতি চিত্রণে সাদৃশ্য রয়েছে।
প্রকৃতির বর্ণনা বিবেচনায় বলা যায়, "উদ্দীপকটি 'যাব আমি তোমার দেশে' কবিতার পুরো ভাবকে ধারণ করতে ব্যর্থ হয়েছে" মন্তব্যটি যথার্থ।
'যাব আমি তোমার দেশে' কবিতাটি প্রকৃতির সঙ্গে এক গভীর প্রেমের প্রকাশ। পল্লিগ্রামের অপরূপ সৌন্দর্য কবিকে ব্যাকুল করে। দিঘির জল, বনের ফুল, মেঘের ঝারি- সবই কবির কাছে এক ভালোবাসার আহ্বান। এই পল্লিপ্রেমই তাঁকে বারবার ডাকে পল্লির কোলে ফিরে যেতে।
'যাব আমি তোমার দেশে' কবিতায় কবি পল্লি-দুলালের দেশ অর্থাৎ সৌন্দর্যে ঘেরা পল্লিগ্রামে যেতে চেয়েছেন। গ্রামের অপরূপ সৌন্দর্যের স্বাদ আস্বাদন করতে চেয়েছেন। পল্লি-দুলালকে সঙ্গে নিয়ে কবি পুরো গ্রাম ঘুরে বেড়াতে চান। সেই গ্রামকে ঘিরে রেখেছে প্রকৃতি। তার বনের শীর্ষে আকাশ, দিক-হারা মাঠ পায়ের কাছে। সেখানে বেত কেয়ার বনে ডাহুক ডাকে, ধান-কাউনের খেতের ভেতর দিয়ে সরু সুতার মতো দীর্ঘ পথ রয়েছে। সেই পথে কবি হেঁটে বেড়াতে চান। পল্লি-দুলালের কাঁধে হাত রেখে উদাস বেশে তিনি ঘুরে বেড়াবেন। নিরালা নিঝুম অন্ধকারে কবি পল্লি-দুলালের সঙ্গে পল্লিমায়ের অপরূপ সৌন্দর্য অন্বেষণ করবেন।
উদ্দীপকে আলোচ্য কবিতার আংশিক চিত্র ফুটে উঠেছে। সেখানে পল্লিগ্রামের সঙ্গে মিশে যাওয়া বা তার সৌন্দর্যকে আস্বাদন করাকে মুখ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি। উদ্দীপকের কবি তাঁর ঘরে একলা থাকা মায়ের কথা বলতে গিয়ে কিছু অনুষঙ্গকে টেনে আনেন। তিনি সমস্ত কিছুকে ছেড়ে তাঁর মায়ের কাছে যেতে চান। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি 'যাব আমি তোমার দেশে' কবিতার পুরো ভাবকে ধারণ করতে পারেনি।
