| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘ঐ সৌরমন্ডলেরঐ পৃথিবীর…’ a – সুচেতনা, পদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

|
ঐ সৌরমন্ডলের ঐ পৃথিবীর এক কীর্তনখোলা নদীর পাড়ে যে শিশুর জন্ম দিগন্তবিস্তৃত মাঠে ছুটে বেড়ানোর অদম্য স্বপ্ন যে কিশোরের |
জ্যোৎস্না থাকে প্লাবিত করে বনভূমি যাকে দুর্বিনীত করে নদীর জোয়ার যাকে ডাকে নশার ডাকের মত। অথচ যার ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে ঔপনিবেশিক জোয়াল। |
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১২
জীবনানন্দ দাশের কাব্যবৈশিষ্ট্যকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'চিত্ররূপময়' বলে আখ্যায়িত করেছেন।
➤ সমকালীন পৃথিবী যুদ্ধ, হানাহানি, অন্যায়, অবিচার, শোষণ ও নির্যাতনে ক্ষতবিক্ষত। এসব মানবতাবিরোধী অপকর্মের জন্য পৃথিবীর এখন গভীরতর অসুখ।
➤ পৃথিবীব্যাপী ক্ষমতালিপু মানুষ নিজেদের সামান্য সুখের জন্য মানবসমাজকে ভয়াবহ বিপর্যয়ের মধ্যে ফেলে দিচ্ছে। ফলে মানুষ সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য হাহাকার করছে সর্বদা। কিন্তু পৃথিবীব্যাপী এই ধ্বংসযজ্ঞের ফলে তা সম্ভব হচ্ছে না যাকে পৃথিবীর গভীরতর অসুখ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
সারকথা: ব্যক্তিস্বার্থে অন্য একশ্রেণির মানুষ সমস্ত পৃথিবীকে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে বসবাসের অনুপযোগী করে ফেলেছে। এ পৃথিবীই বর্তমানে অসুস্থ পৃথিবী।
➤ উদ্দীপকের সঙ্গে 'সুচেতনা' কবিতার বৈচিত্র্যময় পৃথিবীতে চলতে থাকা মানবিক বিপর্যয়ের দিক থেকে সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়।
➤ আমাদের পৃথিবীতে অশান্তির মূলে রয়েছে মানুষের স্বার্থান্বেষী চিন্তাভাবনা ও কর্মকাণ্ড। মানুষ প্রতিনিয়ত নিজের হীনস্বার্থে পৃথিবীকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
➤ উদ্দীপকে অবাধ সুন্দর শান্তিময় এ পৃথিবীতে জন্ম নেওয়া শিশুর অদম্য স্বপ্নের পথচলায় ঔপনিবেশিক অত্যাচারের কশাঘাত চিত্রিত হয়েছে। শান্তিপ্রিয় দুরন্ত যে শিশু জ্যোৎস্না ভালোবাসে, বনভূমির সজীবতা যাকে উদ্যম ও কর্মঠ করে তোলে, তার ঘাড়েই চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে ঔপনিবেশিক বোঝা। 'সুচেতনা' কবিতায় ঠিক এমনই পৃথিবীব্যাপী হত্যা হিংসা, বৈষম্য দেখে কবি সেটিকে পৃথিবীর গভীরতর অসুখ বলেছেন। পৃথিবীর এই অসুখ মূলত একশ্রেণির মানুষের দ্বারা সৃষ্টি যা আত্মস্বার্থ চরিতার্থ করতে মানুষের ঘাড়ে বিপর্যয় ও অত্যাচারের জোয়াল চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের সঙ্গে 'সুচেতনা' কবিতার বৈচিত্র্যময় পৃথিবীতে চলতে থাকা মানবিক বিপর্যয়ের দিক থেকে সাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়েছে।
সারকথা: পৃথিবীর ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ঔপনিবেশিক শাসকশ্রেণি হীনস্বার্থে মানুষের কাঁধে অত্যাচারের জোয়াল তুদে দিয়েছে, যার ফলে পৃথিবী কালে কালে গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
➤ "সাদৃশ্য থাকলেও উদ্দীপক ও 'সুচেতনা' কবিতার সামগ্রিক ভাব এক নয়।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
➤ স্বার্থের দ্বন্দ্বে সুন্দর পৃথিবী ধ্বংসের সীমানায় পৌঁছে গেছে। ক্ষমতার লড়াই, অন্যকে শোষণ করার নিরন্তর চেষ্টা, অমানবিকতা প্রভৃতি এ পৃথিবীকে বসবাসের অযোগ্য করে ফেলেছে। এগুলো থেকে পৃথিবীকে মুক্ত করে সুন্দর পরিবেশ তৈরি করতে পারলে মানুষের ক্রমমুক্তি ঘটবে।
➤ উদ্দীপকে একজন মানব শিশুর বেড়ে ওঠার মধ্য দিয়ে পৃথিবীব্যাপী ঘটে যাওয়া দোলাচলের বর্ণনা ফুটে উঠেছে। এ পৃথিবীতে একজন শিশুর যেভাবে অবাধ ও স্বাধীনভাবে বেড়ে ওঠার কথা তা সম্ভব হচ্ছে না। শোষক ও উৎপীড়ক শ্রেণি নিজস্বার্থের জন্য সাধারণ মানুষকে শৃঙ্খলিত করে রেখেছে হিসাবের জাঁতাকলে। উপনিবেশিবাদী এই সভ্যতার করাল গ্রাসে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবন পদে পদে ব্যহত হয়ে উঠছে। 'সুচেতনা' কবিতায় আমরা মানুষের মানবিক বিপর্যয় পৃথিবীব্যাপী ধ্বংস, মৃত্যু, বীভৎসতার কথা লক্ষ করি। এমন পৃথিবীকে বাসযোগ্য করতে কবি মনীষীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
➤ উদ্দীপক ও কবিতায় স্বাভাবিক সুন্দর পৃথিবীতে মানবিক বিপর্যয় কবি দেখিয়েছেন। উদ্দীপকে কীভাবে একটি শিশুকে শোষণচক্রে পড়িত করে তার ঘাড়ে উপনিবেশবাদের বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে কবি তা দেখিয়েছেন এবং এই শোষণচক্র থেকে মানুবমুক্তির পথ কবি দেখিয়ে দিয়েছেন যা উদ্দীপকের ভাবের সঙ্গে কবিতার ভাবের পার্থক্য করে দিয়েছে। তাই বলা যায়, সাদৃশ্য থাকলেও উদ্দীপক ও 'সুচেতনা' কবিতার ভাব এক নয়।
সারকথা: শোষকশ্রেণির অত্যাচারের জাল এমনভাবে বিস্তৃত যে মানবশিশু জন্মের পরেই সে জালে আবদ্ধ হয়ে যায়। জ্ঞানী ব্যক্তিবর্গ ও মনীষীগণ এগিয়ে এলেই এ পৃথিবীর ক্রমমুক্তি । হবে যদিও তা দীর্ঘ সময়ের ব্যাপার।