| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘অযুত প্রাণের অগ্নিশিখার…’ বরিশাল বোর্ড ২০২২ – রেইনকোট, গদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

অযুত প্রাণের অগ্নিশিখার সূর্য-কুঁড়ি
ফৌজের হাঁকে কাঁপে থরধর দস্যুপুরী
নিমেষে ছড়ায় তারই আওয়াজ দিগন্তরে
মনে কি পড়ে?
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২৭
'রেইনকোট' গল্পের কলেজের পিওনের নাম ইসহাক মিয়া ।
ভোর রাত থেকে হওয়া বৃষ্টি নিয়ে নুরুল হুদার নানা রকম অভিব্যক্তি প্রকাশ পেয়েছে।
‘রেইনকোট' গল্পে ভোর রাত থেকে বৃষ্টি নুরুল হুদার মনে নানা রকম অভিব্যক্তি সৃষ্টি করে।তার মনে হয় বৃষ্টির কারণে পরিস্থিতি কিছুটা হলেও শান্ত থাকবে। কেননা, অন্যান্য দিনের মতো গুলির আওয়াজবৃষ্টির কারণে আর হবে না। তাছাড়া বৃষ্টি নিয়ে তার মনে প্রবাদও ঘুরে ফিরে আসে। যেহেতু মঙ্গলবার বৃষ্টি শুরু হয়েছে সেহেতু তিন দিন এই বৃষ্টি থাকবেই বলে মনে করে নুরুল হুদা। 'বৃষ্টি' সম্পর্কে এরকম বিভিন্ন অভিব্যক্তি নুরুল হুদার মনে ঘুরেফিরে আসে।
‘অযুত প্রাণের অগ্নিশিখার সূর্যকুড়ি' বলতে 'রেইনকোট' গল্পে বাঙালির মধ্যে স্বাধীনতার জন্য যে বিপ্লবী চেতনার জাগরণ ঘটেছিল তা বোঝানো হয়েছে ।
‘রেইনকোট' গল্পে কলেজ শিক্ষক নুরুল হুদার জবানিতে মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকার আতঙ্কজনক পরিস্থিতি ও মুক্তিযোদ্ধাদের গেরিলা আক্রমণের বিষয়টি ফুটে উঠেছে। বাংলার ছেলেরা এদেশের মুক্তির জন্য অগ্নিশিখার মতো জ্বলে উঠেছিল। তারা শত্রুকে পর্যদুস্ত করতে নানা কৌশলে আক্রমণ অব্যাহত রাখে । জীবনবাজি রাখা তেজি তরুণেরা সকল ভয়কে উপেক্ষা করে অব্যাহত রাখে মুক্তির লড়াই ।
উদ্দীপকের চরণে অযুত প্রাণের অগ্নিশিখার মতো প্রতিবাদী চেতনার জাগরণের কথা বলা হয়েছে। যে জাগরণ বাঙালির স্বভাবজাত বিদ্রোহের পরিচায়ক। যখনই দেশ-জাতি কোনো সংকটে পড়েছে, তখনই এদেশের অগণিত জনতা বিদ্রোহী চেতনায় জ্বলে উঠেছে। শত্রুর বিষদাঁত উপড়ে ফেলে তারা প্রমাণ করেছে এ জাতি পরাজয় স্বীকার করতে জানে না, পরাধীনতা মানে না। পরাধীনতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদী এই দিকটি ‘রেইনকোট' গল্পেও ফুটে উঠেছে। বিদেশি মিলিটারিরা মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকা শহরে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে এক ভয়ার্ত পরিবেশ তৈরি করেছিল। বাংলার মুক্তিসেনারা তখন দ্রোহের আগুনে জ্বলে উঠেছিল। গেরিলা আক্রমণে বিভ্রান্ত করেছিল পাকিস্তানি সেনাদের। তেমনি একটি অপারেশন হয় ঢাকা কলেজের সামনে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণের মাধ্যমে। নুরুল হুদার শ্যালক মুক্তিযোদ্ধা মিন্টুও দেশের জন্য লড়াই করে। মুক্তিসেনাদের এই প্রতিবাদী চেতনার দিকটি বোঝাতেই প্রশ্নোক্ত চরণটি ব্যবহৃত হয়েছে।
উদ্দীপক ও 'রেইনকোট' গল্পে মুক্তিযুদ্ধের সময় বাঙালির সাহস, দেশপ্রেম ও বিপ্লবী চেতনার স্ফুরণ ঘটেছে।
‘রেইনকোট' গল্পে বাঙালি জাতির সাহসিকতা ও দেশপ্রেমের পরিচয় পাওয়া যায়। দেশের দুর্দিনে বাংলার ছেলেরা কখনো বসে থাকেনি। তাঁরা স্বদেশকে হৃদয়ে ধারণ করে বিধায় পাকিস্তানি সেনাদের বাড়াবাড়ি মেনে নেয়নি। পরাধীনতার শিকল থেকে মুক্ত হতে তেজোদীপ্ত ভূমিকায় তাঁরা মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। গেরিলা আক্রমণের নিমিত্তে কখনো কখনো তাঁরা নৌকায় করে অপারেশনে অংশ নিয়েছে। তাদের শরীরে যে দ্রোহের উত্তাপ তা নুরুল হুদার শ্যালকের রেইনকোটের মাধ্যমে লেখক প্রস্ফুটিত করেছেন।
উদ্দীপকেও বাঙালি মুক্তিসেনার সেই উত্তাপ-উন্মাদনা ফুটে উঠেছে। বাঙালির ধমনিতে বিদ্রোহের চেতনা সর্বদাই প্রবাহিত ছিল। দস্যুর অত্যাচারে এ জাতি বারবার প্রতিবাদী ভূমিকা বেছে নিয়েছে। যতবারই হিংস্র নখর দিয়ে বাঙালি জাতির অস্তিত্বে থাবা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে ততবারই অগ্নিশিখার মতো অযুত প্রাণ জ্বলে উঠেছে। সূর্যের প্রখরতা হৃদয়ে ধারণ করে দস্যুপুরীতে আগুন ধরিয়েছে বাঙালি মুক্তিফৌজ। দিগন্ত থেকে দিগন্তে তাদের সেই দুঃসাহসী চিত্তের প্রভাব ছড়িয়েছে।
‘রেইনকোট' গল্পেও বাঙালি জাতির বিদ্রোহী সত্তার পরিচয় ফুটে উঠেছে। প্রয়োজনে স্বদেশের জন্য কতটা ভয়ংকর রূপ যে বাংলার ছেলেরা ধারণ করতে পারে, তা-ই গল্পে প্রকাশ পেয়েছে । পাকিস্তানি মিলিটারিরা ভেবেছিল ভয় দেখিয়ে কাবু করবে এ জাতিকে। তারা মানুষ হত্যা করেছে ঘর-বাড়ি, বাজার ও স্থাপনায় আগুনে জ্বালিয়েছে। নারীদের ধরে নিয়ে সম্ভ্রম হানি করেছে। কিন্তু এতেও তাদের উদ্দেশ্য সিদ্ধি হয়নি। বাঙালি ছেলেরা শত্রুর মসনদ কাঁপিয়ে দিয়ে নিজেদের চেতনাকে সমুন্নত রেখেছে। একের পর এক গেরিলা আক্রমণে নাস্তানাবুদ করেছে পাকিস্তানি সৈন্যদের। মিলিটারি হতচকিত হয়েছে মুক্তিসেনার সাহসী ভূমিকায়। নুরুল হুদাকে ধরে নিয়ে গিয়েও মিলিটারিরা কথা আদায় করতে পারেনি। কারণ শ্যালক মুক্তিযোদ্ধার মন্টুর রেইনকোট তার ভয় কাটিয়ে সাহস সঞ্চার করেছে। উদ্দীপকেও বাঙালির এই সাহসী ও বিপ্লবী চেতনার স্ফুরণ ঘটেছে।