| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘অমর একুশ বাঙালি…’ আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ ২০২৫ – ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯, পদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

অমর একুশ বাঙালি জাতির ইতিহাসে কেবল একটি তারিখ নয়; একুশ হলো একটি চেতনার নাম। একুশকে কেন্দ্র করে ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনের রক্তাক্ত পথ ধরে বাঙালি জাতিসত্তায় যে চেতনার জন্ম হয়েছিল, তা ছিল এক অবিনাশী চেতনা। এই চেতনার পথ ধরে ছেষট্টির ছয় দফা, উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান ও সত্তরের নির্বাচন এবং ১৯৭১-এ আমরা পেয়েছি স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। এই একুশ হয়েছে আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষার রক্তাক্ত স্মৃতিচিহ্নিত এই দিনটি তাই বাঙালির সব সংগ্রামের অনুপ্রেরণা ও বিজয়ের দিন।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২০
শামসুর রাহমানের প্রথম কবিতা 'সাপ্তাহিক সোনার বাংলা' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
• 'সারা দেশ ঘাতকের অশুভ আস্তানা' বলতে কবি পূর্ব বাংলার সর্বত্র শত্রুর আধিপত্য বিস্তারকে বুঝিয়েছেন।
• 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতায় কবি '৫২-এর ভাষা আন্দোলনের প্রেরণায় ১৯৬৯-এ গণআন্দোলন শুরু হওয়ার কথা বলেছেন। শাসকগোষ্ঠী তৎকালীন পূর্ব বাংলার মানুষকে নানাভাবে শাসন-শোষণ করেছে। তারা এ দেশে বসেই এ দেশের মানুষের ওপর অত্যাচার করেছে। নির্বিচারে মানুষ হত্যার মাধমে তারা বাঙালির স্বাধীনতার স্পৃহাকে স্তব্ধ করে দিতে চেয়েছিল। তারা পুরো দেশেই তাদের অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়েছে। এই কারণে কবি এই দেশকে 'ঘাতকের অশুভ আস্তানা' বলেছেন।
• উদ্দীপকে ফুটে ওঠা একুশের অবিনাশী বিপ্লবী ও জাতীয়তাবাদী চেতনা এবং 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতায় প্রকাশিত সংগ্রামী চেতনা মূলত একই।
• ১৯৫২ সালে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ভাষা আন্দোলন সংঘটিত হয়। বাঙালির জাতীয় জীবনে এ আন্দোলনের সুদূরপ্রসারী ভূমিকা ছিল। বস্তুত এ আন্দোলনের ভেতর দিয়েই বাঙালি হিসেবে আমাদের জাতীয়তাবাদী চেতনার উন্মেষ হয়।
• উদ্দীপকে একুশের অবিনাশী চেতনার প্রভাবের কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি এ চেতনার নিরিখেই যে ছেষট্টির ছয় দফা, উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান এবং একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধসহ পরবর্তী সকল আন্দোলন-সংগ্রাম সংঘটিত হয় এ কথাও সেখানে জোর দিয়ে বলা হয়েছে।
একইভাবে 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতায়ও কবি বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের চেতনার ধারাবাহিকতায় উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। এদিক বিচারে আলোচ্য কবিতায় ও উদ্দীপকে একুশের যে জাতীয়তাবাদী ও বিপ্লবী চেতনার কথা বলা হয়েছে তা মূলত সমান্তরাল।
• 'বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষার রক্তাক্ত স্মৃতিচিহ্নিত একুশের পথ ধরে বাঙালি স্বাধীনতা অর্জন করেছে।'- মন্তব্যটি উদ্দীপক ও 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতার আলোকে যথার্থ।
• পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্মের পর পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী প্রথমে আমাদের মাতৃভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরবর্তী সময়ে দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে বাঙালিরা মাতৃভাষার অধিকার আদায় করে নেয়। আর পরবর্তী সব আন্দোলনে এই চেতনাই ছিল আমাদের প্রেরণার বাতিঘর।
• উদ্দীপকে একুশের অবিনাশী চেতনাকে উপজীব্য করা হয়েছে। বস্তুত ভাষা আন্দোলনের পথ ধরেই এদেশে ছেষট্টির ছয় দফা, উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, সত্তরের নির্বাচনে জয় এবং পরবর্তী সময়ে মহান মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়। এর মাধ্যমে আমাদের মাতৃভূমি বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে। সংগত কারণেই ভাষা আন্দোলনের শহিদদের আত্মত্যাগের স্মৃতি আমাদের মনে চিরদিন জাগরুক থাকবে। • 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' একটি দেশপ্রেম, গণজাগরণ এবং সংগ্রামী চেতনার কবিতা। ১৯৬৯-এ পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পূর্ববঙ্গে যে গণ-আন্দোলনের সূচনা হয়, কবিতাটি সেই গণজাগরণের পটভূমিতেই লিখিত। পাশাপাশি কবিতাটিতে একুশের রক্তঝরা দিনগুলিতে স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে এদেশের সংগ্রামী মানুষের আত্মাহুতির দিকটিও প্রগাঢ়তা লাভ করেছে, যে চেতনার আলোকে ১৯৬৯-এর গণআন্দোলন সংঘটিত হয়। একইভাবে উদ্দীপকেও ভাষা আন্দোলনের অবিনাশী চেতনায় পরবর্তী সকল আন্দোলন-সংগ্রামসহ মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন হওয়ার কথা বলা হয়েছে। সেসব বিচারে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথাযথ।