| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘অনাবৃষ্টি, ভূমিকম্পে হঠাৎ…’ আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ ২০২৪ – লালসালু, নাটক ও উপন্যাস, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

অনাবৃষ্টি, ভূমিকম্পে হঠাৎ দিশেহারা হয়ে পড়েছে বালিয়ারি গ্রামের খেটে খাওয়া লোকজন ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় তাদের অনেকে বিভিন্ন বিভাগে, জেলায় শহরে যাওয়ার জন্য ছুটছে অনিশ্চিত ভবিষ্যত জেনেও তারা ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। ভাগ্য বিড়ম্বিত এমনই এক যুবক বেলাল ঠাঁই নেয় ঢাকা শহরের বস্তিতে। কাজের জন্য পাগলের মতো ছুলে চলার পরও কোন কাজ না পেয়ে শেষে মাদকের ব্যবসা করে সে এখন অঢেল সম্পত্তি- মালিক।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২
গারো পাহাড় থেকে মধুপুর তিন দিন দিনের পথ।
তাহেরের বাবা নিরুদ্দেশ হবার পর তাহেরের মা ঝগড়া না করতে পেরে বিষাদগ্রস্তভাবে শুয়ে থাকত সারাক্ষণ, তখন তার সম্পর্কে উক্তিটি করা হয়েছে। তাহেরের বাবা এবং তাহেরের মা সারাদিন ঝগড়া লেগে থাকত। প্রায়ই তাহেরের বাবা তাকে মারত। তাহেরের মাও সারাক্ষণ তাহেরের বুড়ো বাবার মৃত্যু কামনা করত। কিন্তু তাদের ঝড়গার মাঝেও ছিল প্রগাঢ় ভালোবাসা। তাইতো যখন তাহেরের বাবা নিরুদ্দেশ হয় তখন তার মন বিষাদের ছায়ায় ঢেকে থাকে। যে মানুষটি তার চক্ষুশূল ছিল আজ তার অনুপস্থিতি যেন ভারাক্রান্ত করে রাখে মনকে। তাইতো ঔপন্যাসিক এই উক্তিটি করেছেন।
উদ্দীপকের অসহায় মানুষের জীবনযাত্রার সাথে লালসালু উপন্যাসের মানুষের জীবনযাত্রার সংগতিপূর্ণ।
তাছাড়া উপন্যাসের প্রথম দিকে দেখা যায় সশ্যের চেয়ে টুপির পরিমাণ বেশি ছিল অর্থাৎ গ্রামে শস্য হতো না । ফলে মানুষ কষ্টের জন্য পানি খেয়ে এবাদত করতেন। তাদের ধারণা ছিল বন্দেগী করলে শস্য হবে কিন্তু সরসের অভাবে তারা জেলায় থানায়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে কোন লাভ না হয়ে খারাপ পথ বেছে নিয়েছে।
উদ্দীপকেও সেই একই কাহিনী বিদ্যমান। খাদ্যের অভাবে মানুষ দেশের বিভিন্ন জেলায় জেলায় প্রবেশ করে লাভ হয় না। ফলে মাদক শুরু করেন যা উদ্দীপক এবং উপন্যাসের সাথে সংগতিপূর্ণ।
উদ্দীপকের ভাবটি লালসালু উপন্যাসের একটি খন্ড চিত্র মাত্র। কেননা প্রথম দৃশ্যটি উপন্যাসের সাথে হুবহু মিলে গেলেও দ্বিতীয় অংশটি আংশিক মিলেছে। লালসালু উপন্যাসে মসজিদ হচ্ছে প্রধান চরিত্র। তিনি একজন ধর্ম ব্যবসায়ী। সে নিরাপত্তার জন্য নিরাক পড়া গ্রাম থেকে শহরে বেরিয়ে পড়েছে। মহব্বত নগরে নাটকীয় ভাবে প্রবেশ করেছে । ফলে ধর্ম ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বিলাসিতা ভাবে জীবনযাপন করতে শুরু করেছে। কিন্তু উদ্দীপকে মানুষ খাদ্যের অভাবে মাদক ব্যবসা শুরু করছেন। যেটা মজিদের মতো ধর্মব্যবসা নয়। দুটোই খারাপ কাজ হলেও মসজিদের কাজটি বেশি খারাপ। মজিদ খুব কূটনৈতিক ব্যক্তি। তিনি মানুষকে বোকা বানিয়েছে কিন্তু উদ্দীপকে বেঁচে থাকার রাস্তা খুঁজে না পেয়ে মাদক বেঁচে নিয়েছে । যেটা মজিদের মতো ঘৃণিত নয়। সুতরাং বলা যায় উদ্দীপকের মূলভাবটি লালসালু উপন্যাসের খন্ড চিত্র মাত্র।